বিশ্বকাপের আগেই সাকিবকে সুস্থ চান বিসিবি প্রধান

বিপিএল অনিশ্চিত

প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০

ক্রীড়া প্রতিবেদক

আঙুলে ভয়াবহ চোট নিয়ে এশিয়া কাপের মাঝপথে দেশে ফিরেছিলেন সাকিব আল হাসান। অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য অস্ট্রেলিয়ায় উড়াল দিয়েছিলেন এই বাংলাদেশি অলরাউন্ডার। অবশেষে সুখবর মিলেছে সাকিবের চোট নিয়ে। সংক্রমণ প্রায় সেরে যাওয়ার পথে তার। গতকাল হাসপাতালও ছেড়েছেন সাকিব।

সব ঠিক থাকলে দুই-তিন দিনের মধ্যে দেশেও ফিরবেন তিনি। সংক্রমণ সেরে যাওয়ার পর যদি ব্যথাও সেরে যায়, তবে অনুশীলন শুরু করতে পারবেন সাকিব। নতুন করে ব্যথা অনুভব করলে পুনরায় নিতে হবে অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি। যদি ব্যথা অনুভব নাও হয়, দুই-তিন মাস লেগে যেতে পারে তার মাঠে ফিরতে। এদিকে, চোটের কারণে জিম্বাবুয়ে ও ওয়েস্ট ইন্ডিজে খেলা হচ্ছে না সাকিবের। সুস্থ হয়ে উঠলে জানুয়ারিতে শুরু হওয়া বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে হয়তো মাঠে দেখা যেতে পারে তাকে।

বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসানের চাওয়া, সাকিব মাঠে ফিরবেন পুরোপুরি ফিট হয়ে। তাতে যদি বিপিএল বিসর্জন দিতে হয়, বাঁ-হাতি অলরাউন্ডার দেবেন। বিশ্বকাপের আগে পুরোপুরি ফিট সাকিবকে চান নাজমুল। ঢাকা ক্লাবে সংবাদ মাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘ওর সংক্রমণ কেন হলো এ উত্তরটাই তো পাচ্ছি না। সংক্রমণ ভালো হচ্ছে, এটা ভালো খবর। সংবাদমাধ্যমে দেখেছি এশিয়া কাপের আগে বলেছে সে একটা অস্ত্রোপচার করাতে চায়। যদি সে করতে চায়, এটাই সেরা সময় (অস্ত্রোপচার করানো)। দুই মাস বিশ্রাম নিয়ে অস্ত্রোপচার করে ফেলাই ভালো। যথেষ্ট সময় আছে, বিশ্বকাপের আগে তাহলে সম্পূর্ণ সুস্থ সাকিবকে পাব। এখন যেসব খেলা আছে এসব না খেলাই ভালো। এটাই আমি মনে করি। কিন্তু আমার একার কথার ওপর হবে না।’

সাকিব না খেললে একটু বিপাকে পড়তে হবে ঢাকা ডায়নামাইটসকে। ঢাকার ‘আইকন’ হিসেবে গত দুই বিপিএল খেলেছেন বাংলাদেশ টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক। সাকিব এবার না খেলতে পারলে ঢাকার কী হবে না হবে, সেটি গুরুত্বই দিতে চান না নাজমল। তার কাছে বিপিএল নয়, সাকিবের পুরোপুরি ফিট হয়ে ফেরাটাই জরুরি, ‘ফ্র্যাঞ্চাইজির কথা চিন্তা করে একজন জাতীয় দলের খেলোয়াড়ের কী হবে, এত কিছু বলা মুশকিল। অবশ্যই তাদের সমস্যা হবে। বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সঙ্গে কথা বলে একটা সমাধান হয়তো তারা করবে। তবে সাকিবের পুরো ফিট হয়ে খেলা উচিত। মানুষের মধ্যে যখন সন্দেহ এসেছে যে এশিয়া কাপ খেলার কারণে তার এমন হয়েছে, তাহলে এখন কোনো সিরিজ-টুর্নামেন্টে খেলার দরকার নেই। বিপিএল-আইপিএলের চেয়ে এশিয়া কাপ অনেক গুরুত্বপূর্র্ণ।’

বিসিবি সভাপতির চাওয়াটা অবশ্যই যৌক্তিক। সাকিবও নিশ্চয়ই তাতে দ্বিমত পোষণ করবেন না। ২০১৯ বিশ্বকাপ শুধুই নয়, লম্বা ক্যারিয়ারের কথা ভেবে সাকিব নিজেও হয়তো আর কোনো ঝুঁকি নিতে চাইবেন না।

 

"