ফাইনালের স্বপ্ন অধরা থেকে গেল বাংলাদেশের

বাংলাদেশ ০:২ ফিলিস্তিন

প্রকাশ : ১১ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০

ক্রীড়া প্রতিবেদক

ফিলিস্তিনের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে কোচ জেমি ডের দুশ্চিন্তা ছিল ‘সেট পিস’ নিয়ে। অবশেষে সেটিই সত্যি হলো বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের সেমিফাইনালে বাংলাদেশ বনাম ফিলিস্তিনের ম্যাচে। অষ্টম মিনিটে হেড থেকে গোল হজমের পর দুর্দান্ত লড়াই করেছে লাল-সবুজরা। কিন্তু পিছিয়ে পড়ে আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি স্বাগতিকরা।

২০১৫ সালের পর বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের ফাইনালে উঠার সুযোগ ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু কক্সবাজারের বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন স্টেডিয়ামে শেষ চারের লড়াইয়ে স্বাগতিকদের সেই স্বপ্ন গুঁড়িয়ে দিয়েছে ফিলিস্তিন। লড়াই করেও বাংলাদেশ হেরেছে ২-০ ব্যবধানে।

নি¤œচাপের কারণে কাল কক্সবাজারে সারা দিন টিপটিপ বৃষ্টির কারণে ভারী ও পিচ্ছিল হয়ে পড়েছিল মাঠ। ভেজা মাঠে সেট পিসের সুবিধা নিতে ভুল করেনি ফিলিস্তিন। ম্যাচের শুরু থেকে লম্বা পাসে খেলতে থাকা ফিলিস্তিন এগিয়ে যায় অষ্টম মিনিটেই। ডানদিক দিয়ে আক্রমণে ওঠা মুসাব বাতাতের বাড়ানো ক্রস থেকে হেড দিয়ে বাংলাদেশের জালে বল জড়িয়ে দেন মোহাম্মদ। পরের মিনিটে আরেকবার জেমির শিষ্যদের দুশ্চিন্তায় ফেলে দিয়েছিল ফিলিস্তিন। জোনাথন গোরিল্লার কর্নারে আব্দুল্লাতিফ আল বাহাদারির হেডে বল ক্রসবারে লাগলে ব্যবধান দ্বিগুণ হয়নি। তবে বাংলাদেশ ম্যাচে ফেরার সুযোগ পেয়েছিল প্রথমার্ধেই। কিন্তু মাহবুবুর রহমান সুফিল সহজ সুযোগটা না করলে ফলটা অন্য রকম হতে পারত। ২১তম মিনিটে বিপলু আহমেদ থেকে পাওয়া বল নাবীব নেওয়াজ জীবন বাড়ান ডি-বক্সের মধ্যে থাকা সুফিলকে উদ্দেশ করে। কিন্তু প্রতিপক্ষের তামের সালেহ বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গোলরক্ষকের উদ্দেশে ব্যাকপাস দিলে ভারী মাঠে তা আটকে যায়। সুফিলের শট আটকে দিয়ে বাংলাদেশকে সমতায় ফিরতে দেননি ডিফেন্ডার মুসাব।

এরপর আরেকটি সহজ সুযোগ মিস করেন করেন জীবন। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে সুফিলের বাড়ানো গোলপোস্টে বাইরে মেরে দেন জীবন। তার আগে ৩৪ মিনিটে ফিলিস্তিনের দাব্বাঘ ওদেইয়ের শট আটকে দিয়েছিলেন গোলরক্ষক আশরাফুল ইসলাম রানা। ৭০ মিনিটেও বাংলাদেশকে বাঁচান রানা। খালেদের শট ঝাঁপিয়ে পড়ে আটকে দেন চমৎকারভাবে।

এক গোলে পিছিয়ে থেকে মরিয়া হয়ে লড়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু ভাগ্যটা এদিন সহায় ছিল না লাল-সবুজদের। বাংলাদেশ মূলত হেরেছে প্রতিপক্ষের উচ্চতার বিপক্ষে। রেফারির শেষ বাঁশি বাজার আগমুহূর্তে দুটি কর্নার পেলেও প্রতিপক্ষের লম্বা খেলোয়াড়দের ডিঙিয়ে হেড করতে পারেনি জীবন-সুফিলরা। উল্টো সতীর্থেও থ্রো ইন থেকে নিখুঁত শটে বল জালে পৌঁছে ফিলিস্তিনকে ফাইনালের টিকিট এনে দেন বদলি ফরোয়ার্ড মারাবাহ সামেহ।

এ নিয়ে বাংলাদেশের ওপর আধিপত্য ধরে রাখল ফিলিস্তিন। আগের তিন দেখায় দলটি জিতেছিল দুটিতে। আর ২০০৬ এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অন্য ম্যাচটি ১-১ ড্র হয়েছিল। আগামী শুক্রবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের ফাইনালে তাজিকিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামবে ফিলিস্তিন।

 

"