বাংলাদেশ কেন গ্রুপ রানার্সআপ?

এসিসির কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে বিসিবি

প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

ক্রীড়া প্রতিবেদক আবুধাবি থেকে

এশিয়া কাপের এখন মাঝপথ। ইতোমধ্যেই টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছে শ্রীলঙ্কা ও হংকং। এক ম্যাচ জিতেই সুপার ফোরের টিকিট নিশ্চিত করে ফেলেছিল বাংলাদেশ, আফগানিস্তান, ভারত ও পাকিস্তান। গ্রুপ সেরা নির্ধারণ করা বাকি ছিল। টুর্নামেন্টের রোমাঞ্চ সেদিকেই থাকার কথা ছিল। কিন্তু পাদ প্রদীপে চলে এল এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) সূচি নাটক।

এই নাটকের সূত্রপাত গত বুধবার থেকে। নিয়মনীতির কোনো তোয়াক্কা না করেই আচমকা টুর্নামেন্টের সূচিতে ঢালাওভাবে পরিবর্তন আনে এসিসি। দুই গ্রুপের শেষ ম্যাচ দুটি মাঠে গড়ানোর আগেই বাংলাদেশ ও পাকিস্তানকে গ্রুপ রানার্সআপ এবং ভারত ও আফগানিস্তানকে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন নির্ধারণ করে সুপার ফোরের নতুন সূচি ঘোষণা করেছেন টুর্নামেন্টের কর্তাব্যক্তিরা। তাতে হতাশ বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। কেন ঘটা করে সূচিতে পরিবর্তন আনা হলো এ নিয়ে কয়েক দিন ধরেই ফিসফাস চলছে।

মূলত ভারতকে স্বাগতিক দলের সুবিধা দিতেই এসিসি এমন কান্ড ঘটিয়েছে। পরিবর্তিত সূচি অনুযায়ী টুর্নামেন্টের কোনো ম্যাচ আবুধাবিতে খেলতে হচ্ছে না ভারতকে। ভারতীয় গণমাধ্যমের দাবি- টুর্নামেন্ট আয়োজনের জন্য আরব আমিরাতকে আট মিলিয়ন ডলার দিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই)। আরো তিন মিলিয়ন ডলার নাকি কম দেওয়ার কথা ছিল বিসিসিআইয়ের।

তাই বাণিজ্যিক দিক বিবেচনা করেই ভারতের সব ম্যাচ দুবাইতে রাখা হয়েছে। আবুধাবিতে ভারতের ম্যাচে দর্শকরা হতে পারে বলে আশঙ্কা ছিল বিসিসিআইয়ের। রোহিত-ধাওয়ানদের দুবাইতে সব ম্যাচ খেলার সুবিধা দিতেই সূচি পরিবর্তনের নেপথ্যে। স্বাগতিক দল হিসেবে ভারতের এই সুবিধা প্রাপ্তি মেনে নিলেও কোনো মানদন্ডেই বা বাংলাদেশকে ‘বি ২’ ধরা হলো এর সদুত্তর জানা নেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের।

র‌্যাঙ্কিং হিসেব করলেও আফগানিস্তানের চেয়ে অনেক ওপরে আছে বাংলাদেশ। হিসাবটা সেদিক থেকে করলে টাইগারদেরই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কথা ছিল। তাহলে কীভাবে গ্রুপ পর্বের ম্যাচের আগেই এমন সূচি করা হলো জানতে চেয়ে এসিসিকে চিঠি দিয়েছে বিসিবি। কাল আবুধাবিতে গণমাধ্যমকে নাজমুল বলেছেন, ‘কেন এমনটা করা হয়েছে তা জানতে চেয়ে ইতোমধ্যে আমরা এসিসির কাছে লিখিত ব্যাখ্যা চেয়েছি।’

সুপার ফোরের ম্যাচগুলো রবিন লিগ রাউন্ডে রাখা হয়েছে। ফাইনালে যাওয়ার পর্বে প্রতিটি দলই তিনটি করে ম্যাচ খেলবে; পরস্পরের মুখোমুখি হবে। তাই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন কিংবা রানার্সআপ নির্ধারণকে ইস্যু হিসেবে দেখছেন না এসিসির পরবর্তী সভাপতি। নাজমুল বলেছেন, ‘এটা (দুবাইতে ভারতের সব ম্যাচ) নিয়ে আমাদের মধ্যে কোনো দ্বিধাদ্বন্দ্ব আগেও ছিল না, এখনো নেই। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন, রানার্সআপ এসব কিছু না।’

টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই অংশ নেওয়া ছয় দেশের প্রতিনিধি হিসেবে প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠক করেছিল এসিসি। সেখানেই নাকি ভারতকে ভেন্যু সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখন প্রশ্ন হলো সর্বসম্মতিক্রমে ভারত সেই সুবিধার সুযোগ পেলে আগেই কেন সেটা ঘোষণা হলো না? টুর্নামেন্টের মাঝপথেই বা কেন ফরম্যাট পাল্টাতে হলো?

উত্তরে নাজমুল বলেছেন, ‘সেমিফাইনাল হলে একটা কথা ছিল চ্যাম্পিয়ন, রানার্সআপ... কথা ছিল যে আজকে (বৃহস্পতিবার) খেলার পর যদি ফিকশ্চার কেমন হতো এটা আমরা আগে জানতাম না। আমাদের সমস্যা হচ্ছে কার সঙ্গে (সুপার ফোরের প্রথম ম্যাচ) খেলব সেটা আমরা জানি না (আগের সূচিতে থাকলে)। কোথায় খেলব সেটাও জানি না। যদি ভারতের সঙ্গে খেলা হয় তাহলে দুবাইতে এবং আর পাকিস্তানের সঙ্গে হলে এখানে (আবুধাবিতে)।’

মূলত প্রতিপক্ষ ভেন্যু নিশ্চিত করতেই এত নাটক সাজানো হয়েছে বলে দাবি করলেন বিসিবির প্রধানকর্তা। বলেছেন, ‘আমাদের দল কী করবে আজকে (বৃহস্পিতবার) খেলে, এখানে রাত্রে খেলার পরে যদি ফল হয়। সকালে জানার পরে আবার এখানে আসবে? এটা নিয়েই দ্বিধা ছিল। এটা শুধু আমাদের জন্য নয়, প্রত্যেকটা দলের জন্যই। যেহেতু চার দল চূড়ান্ত হয়ে গেছে তাই তারা এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটা লিগ পদ্ধতির খেলা, সবাইকেই পরস্পরকে মোকাবিলা করতে হবে।’

এসিসির পরবর্তী বার্ষিক সভায় নতুন চেয়ারে বসতে যাচ্ছেন বিসিবি সভাপতি। নাজমুল হতে যাচ্ছেন এশিয়ার ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থার নতুন প্রেসিডেন্ট। তবে দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার আগে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানালেন নাজমুল, ‘ক্রিকেট এশিয়াতেই সবচেয়ে বড় বাজার, দর্শক। আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। কীভাবে এসিসিকে শক্তিশালী করা যায় এ নিয়েও সবার সঙ্গে কথা হয়েছে।’

"