‘আমরা অস্থির অবস্থায় আছি’

প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

হঠাৎ করেই গতানুগতিক ধারার বাইরে অবস্থান নিয়েছে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (এসিসি)। গ্রুপ পর্ব শেষ হওয়ার আগেই সুপার ফোরের সূচি বদলে দিয়েছেন টুর্নামেন্টের কর্তারা। যা রীতিমতো বাংলাদেশকে ফেলে দিয়েছে কঠিন পরিস্থিতিতে। আরব আমিরাতের তীব্র দাবদাহে ৬ দিনের মধ্যে খেলতে হচ্ছে চারটি ম্যাচ। যার প্রথমটা আজ আফগানিস্তানের বিপক্ষে। আফগান ম্যাচ, প্রতিকূল কন্ডিশন, এসিসির সূচি বদলের নাটক, দলের আবহ, ইনজুরি তথা টুর্নামেন্টের সার্বিক বিষয় নিয়ে প্রতিদিনের সংবাদের প্রিন্স রাসেলের সঙ্গে কথা বলেছেন মাশরাফি বিন মর্তুজা

প্রশ্ন : সূচি বদল হওয়ায় কতটা চাপে পড়তে পারে দল?

মাশরাফি : এই গরমে আমরা ব্যাক টু ব্যাক খেলছি। ২১, ২৩ ও ২৫ তারিখের ম্যাচগুলোই হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে আমাদের শুরু করতে হচ্ছে ব্যাক টু ব্যাক ম্যাচ খেলে। আমাদের তো ২৪ জন ক্রিকেটার নেই যে নতুন একটা একাদশ মাঠে নামাব। এই সূচি আমাদের জন্য কঠিন হয়ে গেছে। রিকভারি করার ১০ ঘণ্টাও সময় নেই। কিন্তু এই প্রতিকূল কন্ডিশনের সঙ্গে খাপ খাওয়াতেও দু-একদিন সময় লাগে। যেটা আমরা পাচ্ছি না।

প্রশ্ন : আফগানিস্তান ম্যাচটা কী মানসিক শক্তির পরীক্ষা হতে পারে দলের জন্য?

মাশরাফি : না, তেমন নয়। ওদের দুইজন বোলার মূলত (রশিদ ও মুজিব) দলকে বদলে দিয়েছে। কিন্তু প্রতিটি দলই ওদের বিপক্ষে লড়াই করছে। এখন ওদের কীভাবে খেলা যায়, এটা ব্যাটসম্যানদের আত্মবিশ্বাসের ওপর নির্ভর করছে। ধরে নিতে হবে ওরা ভালো বোলিং করবে। ওদের কীভাবে মোকাবিলা করা যায় সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।

প্রশ্ন : আফগানিস্তান ম্যাচে আক্রমণাত্মক খেলবে বাংলাদেশ?

মাশরাফি : টি-টোয়েন্টিতে যেটা হয়, আক্রমণ করতেই হবে। কিন্তু ওয়ানডেতে একটা মাথা খাটিয়ে খেলতে হয়। সেই চেষ্টাই করতে হবে। ওরা যে বাজে বল করে না তাও কিন্তু নয়। আমাদের বাজে বলের সুযোগ নিতে হবে।

প্রশ্ন : তামিমের বিকল্প পাওয়া কতটা কঠিন?

মাশরাফি : অবশ্যই তামিমকে না পাওয়া বড় ধাক্কা। এই মুহূর্তে ও দারুণ ছন্দে ছিল। আমরা ওকে মিস করব। ইনজুরিটা দুর্ভাগ্য। তরুণদের চেষ্টা করতে হবে। যদিও ওদের ওপর তামিমের মতো প্রত্যাশা রাখছি না। ওরা সেরাটা খেলতে পারলে তামিমের অভাব পূরণ করা সম্ভব।

প্রশ্ন : মুশফিককে এই ম্যাচে বিশ্রাম দেওয়া হচ্ছে?

মাশরাফি : হ্যাঁ, আমরা এমনটাই ভাবছি। মুশফিক যদি চায় তাহলে ও খেলতে পারে। এখানে ওর মতামতকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

প্রশ্ন : পুরো টুর্নামেন্টের সূচিতে তড়িঘড়ি করা হয়েছে। আপনার ভাবনা কী?

মাশরাফি : অন্তত দ্বিতীয় পর্ব যেভাবে হচ্ছে সেটা বলতেই হবে। আপনি দেখুন ৬ দিনে আমাদের চারটি ম্যাচ খেলতে হবে। পরের তিনটি ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। এই কন্ডিশনে এমন সূচি করতে বললে আমি নিশ্চিত কেউ রাজি হবে না। তবে এটা শুধু আমাদের জন্যই নয়, সব দলের জন্যই চ্যালেঞ্জিং। আমাদের শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকাটা জরুরি।

প্রশ্ন : এই ম্যাচে বাড়তি কোনো চাপ আছে কিনা?

মাশরাফি : ওদের বিপক্ষে ব্যাট করা সহজ নয়। বাড়তি চাপ নিয়ে খেলা যাবে না। স্বাভাবিক মানসিকতা নিয়েই খেলতে হবে। ওরা কী করবে না ভেবে, নিজের মতো প্রস্তুতি নিয়ে যেতে হবে।’

প্রশ্ন : নতুন ভেন্যু আবুধাবিতে খেলা কতটা কঠিন হবে?

মাশরাফি : ওখানে অনুশীলনের সুবিধা নেই। এখান থেকেই নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে। দুবাই থেকে আবুধাবি যেতে দেড়-দুই ঘণ্টা সময় লাগে। আমরা কখনো ওখানে খেলিনি। তবে এটাকে অজুহাত হিসেবে নিচ্ছি না। পাকিস্তান, আফগানিস্তান এখানে অনেক ম্যাচ খেলেছে। তার মানে এই নয় যে আমরা এখানে লড়াই করতে পারব না। আমরা আমাদের সম্ভাব্য সেরা চেষ্টাই করব। যেভাবেই খেলি না কেন, আমাদের শুক্রবারের ম্যাচের জন্য ফিট থাকতে হবে। আফগানিস্তান ম্যাচ নিয়ে এখন আর আমরা ভাবছি না। আমরা একটা অস্থির অবস্থায় আছি।

প্রশ্ন : সূচি বদল নিয়ে দলের অন্য খেলোয়াদের কোনো আপত্তি আছে?

মাশরাফি : এটা বলতে পারব না। আমি তো মাঠে এসেই জানলাম। একটু আগেই ম্যানেজারের (খালেদ মাহমুদ সুজন) কাছে শুনেছি। এটা নিয়ে দ্বিতীয়বার জিজ্ঞেস করিনি।

"