সেরেনার কান্ড

প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

ক্রীড়া ডেস্ক

ইউএস ওপেনের ফাইনালের লড়াইয়ে সেরেনা উইলিয়ামসের প্রতিপক্ষ ছিল জাপানি কন্যা নাওমি ওসাকা। স্বাভাবিক দৃষ্টিতে প্রতিপক্ষ একজন হলেও মার্কিন টেনিস তারকাকে লড়তে হয়েছে দুইজনের সঙ্গে। বাকি প্রতিপক্ষ আর কেউ নয়, খোদ চেয়ার আম্পায়ার। ম্যাচ শেষে প্রতিপক্ষ এবং আম্পায়ারদের সঙ্গে সৌজন্যতামূলক হাত মেলানো এক প্রকার টেনিসের অংশ। কিন্তু সেরেনার রাগ তখন তুঙ্গে। পরাজয়ে রেকর্ড হাতছাড়া হয়ে গেলেও তা নিয়ে মাথা ব্যথা ছিল না তার। ম্যাচ স্পিরিটের অংশ হিসেবে প্রতিপক্ষ নাওমি ও বাকিদের সঙ্গে করমর্দন করলেও চেয়ার আম্পায়ার কার্লোস রামোসের সঙ্গে হাত মেলাননি সেরেনা। মেলাবেন কীভাবে! ম্যাচ চলাকালীন যে ফ্ল্যাশিং মিডোর সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল রামোসের সঙ্গে সেরেনার বাগবিতন্ডা।

ঘটনার শুরু দ্বিতীয় গেমের দ্বিতীয় সেটে। ম্যাচ চলাকালে সেরেনার বিপক্ষে গ্যালারি থেকে ইশারায় কোচের পরামর্শ নেওয়ার অভিযোগ আনেন রামোস। আর তাতেই ক্ষেপে যান সেরেনা। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে কোর্টে বেশ কয়েকবার রাগে ফেটে পড়েন তিনি। আঙুল উঁচিয়ে রামোসকে ‘মিথ্যাবাদী’, ‘চোর’ ও ‘নারীবিদ্বেষী’ বলেও অভিযোগ আনেন সেরেনা। সঙ্গে নাওমিকে ‘পয়েন্ট দিয়ে দেওয়ার’ ব্যাপারেও রামোসকে ভর্ৎসনা করেন তিনি। রাগের চোটে পর্তুগিজ আম্পায়ার রামোসকে তো সরাসরি বলেন, ‘আপনি একজন মিথ্যুক। আমি যতদিন বেঁচে থাকব ততদিন তোমাকে কোর্টে চাই না। কখন তুমি আমার কাছে ক্ষমা চাইবে? বলুন আপনি দুঃখিত।’

তাতেই থেমে থাকেননি, বাগবিতন্ডায় জড়ানোর পর রাগে র‌্যাকেট ছুড়ে মারেন ইউএস ওপেনের রানী। এমনকি বিরতির পর কোর্টেও ঢুকতে চাননি। কামনা করেছিলেন টুর্নামেন্ট রেফারির হস্তক্ষেপ। কিন্তু বারবার মনঃসংযোগে ব্যর্থ সেরেনা লড়াইটা জমাতে পারেননি ওসাকার বিপক্ষে। মাত্র দুই গেমে স্বপ্নের বিসর্জন দিতে হয় মার্কিন কৃষ্ণকলিকে।

এমন ব্যবহারটা অবশ্য হিতে বিপরীত হয়েছে সেরেনার জন্য। আম্পায়ারকে অপমান ও টেনিসের নিয়ম ভঙ্গ করার জন্য শাস্তি হতে পারে তার। কিন্তু সেরেনা উল্টো জানিয়ে দিয়েছেন, ‘আমি এখানে নারী অধিকারের জন্য লড়াই করেছি, নারীর সমতার জন্য এবং সকল কর্মচারীদের জন্য।’

সেরেনার প্রতি চেয়ার আম্পায়ার রামোসের অভিযোগ অবশ্য অমূলক নয়। সেরেনার কোচ প্যাট্রিক মোরাতোগলু পরামর্শ দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তবে একই কোচ করেছেন নাওমির কোচ সাশা বাজিনও। ডব্লিউটিএ ট্যুরে কোচরা বাইরে থেকে পরামর্শ দিতে পারলেও ইউএস ওপেনে সেই নিয়ম নেই। ২০১২ সাল থেকে সেরেনাকে কোচিং করিয়ে আসছেন মোরাতোগলু। সেরেনা অবশ্য পাশে পাচ্ছেন তার কোচকে। ম্যাচের পর মোরাতোগলু অভিযোগটা খন্ডন করেছেন এভাবেন, ‘আমি তাকে পরামর্শ দিচ্ছিলাম, কিন্তু আমার মনে হয় সে আমার দিকে তাকাচ্ছিল। স্যাসও (নাওমির কোচ সাশা) একই কাজ করছিল। সবাই আসলে তাই করে।’

"