মাশরাফি-মুস্তাফিজদের নিয়ে আশাবাদী ওয়ালশ

প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

ক্রীড়া প্রতিবেদক

মাশরাফি বিন মর্তুজার ছোঁয়ায় বদলে গেছে বাংলাদেশের ক্রিকেট। তার দুর্দান্ত নেতৃত্বে একদিনের ক্রিকেটে পরাশক্তি হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ। দেড় যুগের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’-এর এখন শেষের শুরু। শেষ লগ্নটা রাঙাতে বড় একটা অর্জন দরকার মাশরাফির। যেটার প্রথম সুযোগটা বাংলাদেশ পাচ্ছে আসন্ন এশিয়া কাপেই। এরপরই আগামী বছর বিশ্বকাপ।

দীর্ঘদিনের ক্যারিয়ারে চোটের সঙ্গেই মাশরাফিকে লড়তে হয়েছে বহুবার। কিন্তু হার না মানা মানসিকতায় তিনি এগিয়েছেন অনেক দূর। দলকেও নিয়ে গেছেন স্বপ্নের সীমানায়। অধিনায়কত্বের দায়িত্ববোধ তো আছেই, পারফরম্যান্স দিয়েও তিনি বেরিয়ে এসেছেন অনেক কঠিন সময় থেকে। কয়েক বছর ধরে তো বয়সের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে লড়ছেন তিনি। হারিয়ে দিচ্ছেন দলের তরুণ পেসারদেরও। এখনো তিনি ওয়ানডেতে দেশের সেরা বোলার। এই সংস্করণে বাংলাদেশের সবসময়ের সর্বোচ্চ শিকারিই শুধু নন তিনি, এই দফায় অধিনায়কত্ব পাওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত সফলতম তিনিই। এই প্রায় চার বছরে ৫১ ম্যাচে নিয়েছেন ৭১ উইকেট। এ সময়টায় দুইয়ে থাকা সাকিব আল হাসান দুই ম্যাচ বেশি খেলে উইকেট নিতে পেরেছেন ৫টি কম।

গত দুই বছর ধরে মাশরাফিকে খুব কাছ থেকেই দেখেছেন বাংলাদেশের বোলিং কোচ কোর্টনি ওয়ালস। সেই পর্যবেক্ষণ থেকে ক্যারিবীয় কোচ কাল গণমাধ্যমকে বললেন, ‘ম্যাশের অভিজ্ঞতা ও ওর স্কিলসেট অন্যদের থেকে অনেক আলাদা। আরো ভালো। বরাবরই সে দারুণ এক ফাস্ট বোলার। ইনজুরি না থাকলে এখনো হয়তো সে টেস্ট ক্রিকেট খেলত। আমি এখানে আসার পর প্রথমে ওকে এটাই বলেছিলাম, ‘এখনো তো তুমি টেস্ট ক্রিকেট খেলতে পার!’ কিন্তু ইনজুরির কারণে সব সংস্করণ খেলতে পারছে না। অনেক বছর ধরেই বাংলাদেশের জন্য যে খুবই উঁচু মানের পেস বোলার।’

মাশরাফির অদম্য স্পৃহা মুগ্ধ করে ওয়ালশকে। বাংলাদেশ কোচ বলেছেন, ‘আমি মনে করি, সে যতটা করতে পারে, তার পুরোটাই সে করতে চায়। তরুণদেরও এই ক্ষুধা থাকতে হবে। আমরা কেবল আড়াল থেকে কাজ করতে পারি। কিন্তু তরুণদের মাঠে নেমে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পারফর্ম করতে হবে। ম্যাশ তার পারফরম্যান্সকে আত্মসম্মান হিসেবে দেখে। সেখানেই আমি মনে করি অন্যদের সঙ্গে বড় পার্থক্য। সে তার ক্ষুধাটা ফুটিয়ে তোলে, সে পারফর্ম করতে চায়, ভালো করতে চায়, লড়াই করতে চায়।’

বোলিং কোচ হিসেবে ওয়ালশ দায়িত্ব নিয়েছেন দুই বছরের বেশি সময় অতিক্রান্ত হয়েছে। এই সময়টাতে মুস্তাফিজকেও দেখেছেন তিনি। ইনজুরি না ভোগালে বাঁ-হাতি পেসার এশিয়া কাপে দ্যুতি ছড়াতে পারেন বলে বিশ্বাস করেন ক্যারিবীয় কোচ। কাল তিনি বলেছেন, ‘ও ভালোভাবেই এগোচ্ছে। অবশ্যই যে জায়গাটায় থাকা উচিত, এখনো সেখানে যেতে পারেনি। আমার মনে হয়, এই সফরটি মুস্তাফিজের জন্য খুব ভালো হতে পারে। ওয়েস্ট ইন্ডিজে সে ভালো করেছে। ইনজুরিগুলো যদি দূরে থাকে, সে কেবল আরো ভালোই হবে। কারণ সে স্পেশাল প্রতিভা, তার স্কিলও স্পেশাল। ফিট মুস্তাফিজকে পাওয়া মানে বোলিং আক্রমণে বাড়তি ধার। সে জানে তাকে কি করতে হবে।’

আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাতে শুরু হবে এশিয়া কাপের ১৪তম আসর। গতকাল শনিবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষের ম্যাচ দিয়ে অভিযান শুরু হবে বাংলাদেশের। সে লক্ষ্যে আজ ঢাকা ছাড়বে টাইগাররা। এশিয়া কাপ খেলতে বাংলাদেশ দল দুবাই যাবে রোববার। যাওয়ার আগে গণমাধ্যমকে তরুণদের নিয়ে একটা আফসোসের কথা শুনিয়ে গেলেন ওয়ালশ। বলেছেন, ‘আমাদের দলে বেশ কয়েকজন ভালো তরুণ পেসার উঠে আসছে। আমার মনে হয় ওদের যথেষ্ট ধারাবাহিকভাবে সুযোগ দেওয়া হয়নি। তরুণদের যথেষ্ট সুযোগ দিতে হবে। একটি-দুইটি ম্যাচ খেলিয়েই বাদ দেওয়া যাবে না। আগেও বলেছি, আমার দায়িত্ব শেষে বাংলাদেশের পেস বোলারদের আমি অনেক উন্নতি করতে দেখতে চাই।’

 

"