‘আমাদের জন্য সব দলই হুমকি’

প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

দল নিয়ে ভিন্ন চাহিদা

আমাদের যে দল আছে তা নিয়েই আমরা ভালো খেলতে পারি। এতটুকু বিশ্বাস থাকাটা জরুরি। আশা করছি যারা আছে তারা যথেষ্ঠ ভালো খেলোয়াড় এবং এশিয়া কাপে ভালো করবে।

আগের আসরগুলোর সঙ্গে পার্থক্য

আগের দুই-তিন এশিয়া কাপের সঙ্গে এখানে খুব একটা পার্থক্য নেই। এবারের টুর্নামেন্টের কাঠামো অবশ্য ভিন্ন। ২ দল বেড়ে যাওয়ায় প্রথমে নকআউটপর্ব পেরিয়ে আসতে হবে। একটু অন্যভাবে সাজানো হয়েছে এবারের আসর। আমাদের জন্য প্রথম ম্যাচটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। শুরুটা ভালো করতে পারলে আত্মবিশ্বাসটাও বেড়ে যায়।

দলগুলোর সম্ভাবনা এবং বাংলাদেশের হুমকি

আমাদের জন্য সব দলই হুমকি। বিশেষ করে আমাদের গ্রুপে যারা আছে। আফগানিস্তানের বোলিং শক্তি, শ্রীলঙ্কার অলরাউন্ড সামর্থ্য, সবদিক বিবেচনা করলে যেকোনো কিছুই হতে পারে। তবে আমি বারবার বলে আসছি, আমাদের জন্য প্রথম ম্যাচটা গুরুত্বপূর্ণ। এটা জিততে পারলে এশিয়া কাপে আমাদের ভালো করার সুযোগ থাকবে।

বাস্তবিক অর্থে বাংলাদেশের সম্ভাবনা

সম্ভাবনা বলা কঠিন। দলগুলো যদি দেখেন, তাহলে আমরা খুব বেশি পিছিয়ে নেই। হয়তো ভারত অনেক ভালো দল। পাকিস্তান তাদের ঘরের মাঠে খেলবে। কিছুটা বাড়তি সুবিধা তারা পাবে। তাদের দলে রিস্ট স্পিনার বেশি আছে। তবু আমার মনে হয় তাদের হারানোর সামার্থ্য আমাদের আছে। টুর্নামেন্টে আমাদের শুরুর ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে।

দেশ ও দেশের বাইরে এশিয়া কাপ

(ঘরের মাঠে) আগের টুর্নামেন্টগুলো কঠিন ছিল। এবারও অবশ্যই কঠিন হবে। তবে এগুলো আমার কাছে বড় ইস্যু মনে হয় না। ১৫ সেপ্টেম্বর শ্রীলংকার সঙ্গে আমরা কেমন খেলছি, শুরুটা কেমন করছি সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।

চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সামর্থ্য

চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য আমরা কতটুকু প্রস্তুত আছি, আমাদের জয়ের কথাই বলছেন অনেকে। আমি এ ধরনের কথা বলতে চাই না। আমাদের সামর্থ্য আছে। বাকি দলগুলোর সঙ্গে যদি তুলনা করলে, কন্ডিশন, উইকেট সবমিলিয়ে আমাদের চেয়ে ভালো দল আছে এই টুর্নামেন্টে। তবে অন্যদের সঙ্গে আমাদের খুব বেশি পার্থক্য নেই। আমরা ভালো ক্রিকেট খেলতে পারলে ঘাটতিটা পূরণ করা সম্ভব। আমার কাছে সবকিছুই সম্ভব মনে হয়। সবকিছু আগে নির্ভর করছে প্রথম ম্যাচের ওপর।

২৫০ উইকেটের মাইলফলক

মাঠে নামার আগে আমার নিজের কোনো লক্ষ্য থাকে না। কখনো এমন লক্ষ্যের (ব্যক্তিগত মাইলফলক) দিকে যাই না। যতটুকু সম্ভব চেষ্টা করব দলের জন্য অবদান রাখার।

আফগান স্পিন ও রশিদ খান

রশিদ খান বিশ্বমানের লেগ স্পিনার; বিশেষ করে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে। ইতিবাচক দিক হচ্ছেÑ টি-টিয়েন্টিতে শর্টস খেলার চাপ থাকে, ওয়ানডেতে সেটা থাকে না...। রশিদ খানকে খেলতে বিশ্বের সব ব্যাটসম্যানদেরই সমস্যা হচ্ছে। এখানে মানসিকভাবে কিছুটা শক্ত হলে বাড়তি সুবিধা পাওয়া যাবে। তবে রশিদ খানের আগে আমাদের শ্রীলংকার স্পিন এবং পেস বোলিং মোকাবিলা করাটা বেশি জরুরি। আমরা প্রথম ম্যাচ জিততে পারলে যে আত্মবিশ্বাসটা পাব সেটা দিয়ে আফগান স্পিনারদের মুখোমুখি হওয়াটা অনেক সহজ হবে।

কোহলিবিহীন ভারত

কোহলি না থাকায় তারা কীভাবে মাইন্ড সেট করবে সেটা তাদের বিষয়। কোহলি বিশ্বসেরা খেলোয়াড়, ভারতের কী হবে জানি না। তবে আমরা কোহলি থাকতেও আমরা তাদের হারিয়েছি। এটা ঠিক কোহলির না থাকাটা সবার জন্যই অনেক বড় সুবিধা।

আরব আমিরাতে তামিম-রিয়াদের অভিজ্ঞতা

দলে তাদের বড় দায়িত্ব আছে। তামিম-রিয়াদের অবদান খুবই জরুরি। আমার মনে হয় না শুধু তাদের কাছ থেকেই ইনপুট নেওয়ার প্রয়োজন আছে। অস্ট্রেলিয়ায় যখন ২০১৫ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলি, তার আগে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে আমাদের স্মৃতি খুব ভালো ছিল না। যদি মাঠ বা আউটফিল্ড আমাদের পক্ষে না থাকে তাহলে পারফর্ম করতে পারব না, সেই বিশ্বাস নিয়ে যাওয়া ঠিক হবে না। আমাদের মনে হয় আমাদের সামর্থ্য আছে, এর সঙ্গে রিয়াদ, সাকিব, মুশফিকও খেলেছিল সেখানে। তামিম খেলেছে অনেকদিন এবং সে পারফর্মও করেছে।

ক্রিকেটারদের বিতর্ক ও বিবাহবার্ষিকী

ক্রিকেটের সঙ্গে সংসার। আসলে যারা চাকরি করছেন তারাও সংসার করছেন। এখানে কঠিন কিছু নেই। পুরোটাই একজন আরেকজনের সঙ্গে বোঝাপড়ার বিষয়। আমার তো মনে হয় চাকরিজীবীদের চেয়ে ক্রিকেটারদের সংসার করাটা আরো সহজ। আমাদের অফুরন্ত সময় থাকে, পরিবার নিয়ে সফর করার সুযোগ থাকে। এটা যুগলদের জন্য আরো উপভোগ্য। স্পোর্টস আসলে বাঁধনটা আরো শক্ত করে।

"