বাংলাদেশের পাকিস্তান পরীক্ষা

প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

ক্রীড়া প্রতিবেদক

এশিয়ান গেমসের পারফরম্যান্সটা ঘরের মাঠে টেনে আনতে পেরেছে বাংলাদেশ। পরশু ভুটানের বিপক্ষে মধুর প্রতিশোধ নিতে পারায় তপু-সুফিলদের আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে। গোল সংখ্যাটা কম হলেও আপাতত জয় পাওয়ায় খুশি ইংলিশ কোচ জেমি ডে। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে তাই আরো ভালো খেলে জয়ের জন্য উন্মুখ হয়ে আছে লাল-সবুজরা।

বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে আজ সন্ধ্যা ৭টায় ‘এ’ গ্রুপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। জয় দিয়ে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু করায় দুই দলই আত্মবিশ্বাসী। উদ্বোধনী ম্যাচে নেপালের বিপক্ষে ২-১ গোলের নাটকীয় জয় পেয়েছে পাকিস্তান। অন্যদিকে ভুটানকে ২-০ গোলে হারিয়েছে বাংলাদেশ।

তবে শারীরিকভাবে পাকিস্তান যে শক্তিশালী তা মানছেন দলের খেলোয়াড়রা। প্রথম ম্যাচে পেনাল্টি থেকে গোল করা তপু বর্মন অবশ্য বেশ আশাবাদী। নির্ভরযোগ্য এই ডিফেন্ডার বলেন, ‘শারীরিকভাবে পাকিস্তান শক্তিশালী হলেও তাদের হারানোর লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে দল। যেহেতু গতকালের ম্যাচ জিতেছি, আমরা সবাই আত্মবিশ্বাসী আছি।’

আজ দিনের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হবে নেপাল-ভুটান। এ ম্যাচ ড্র হলে আর বাংলাদেশ জিতলে সেমিফাইনাল নিশ্চিত হবে তপু-সুফিলদের। তবে ভুটানের বিপক্ষে ম্যাচের মতো সুযোগ নষ্ট না করার দিকে জোর দিয়ে ২৩ বছর বয়সী ডিফেন্ডার তপু বলেন, ‘আমরা কালকের ম্যাচটা ফাইটিং ম্যাচ হিসেবে নিচ্ছি। কেননা কাল জিততে পারলে সেমি নিশ্চিত হবে। পাকিস্তান ভালো দল। আমরা যত সুযোগ তৈরি করব, তত গোলের চেষ্টা করব।’

পাকিস্তান দলের কয়েক জনের অভিজ্ঞতা আছে ইউরোপে খেলার। তা নিয়ে চিন্তিত নন তপু। তিনি সমর্থকদের চাহিদা পূরণের আশা জানিয়ে বলেন, ‘ওদের চার-পাঁচজন ইউরোপে খেলে। নেপালের বিপক্ষে ওরা কীভাবে খেলেছে সেটা আমরা দেখেছি। আমরাও জানি তাদের কৌশলের সঙ্গে কীভাবে মানিয়ে নিয়ে খেলতে হবে। সমর্থকরা আশা পূরণে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’

শারীরিক গড়নের দিক থেকে পাকিস্তানের খেলোয়াড়রা যে শক্তিশালী তা মেনে নিচ্ছেন জেমি ডে-ও। তবে শারীরিক গড়ন যে সবসময় ফুটবল ম্যাচের ফল নির্ণায়ক নয়, তাও মনে করিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশ কোচ। প্রত্যয়ী কণ্ঠে বলেন, ‘শারীরিকভাবে তারা শক্তিশালী বলেও আমি জানি। প্রথম ম্যাচ জেতায় তারাও আত্মবিশ্বাস নিয়ে নামবে। তাই ম্যাচ থেকে আমাদের কিছু পয়েন্ট পেতে হলে আমাদের সর্বোচ্চ পর্যায়ের ফুটবল খেলতে হবে।’

ফিফার পরিসংখ্যান অনুযায়ী ১৬ বারের দেখায় দুই দলই সম অবস্থানে। ছয়টি করে জয় বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের। বাকি চারটি ড্র। সাফের পরিসংখ্যানেও কেউ কারো চেয়ে এগিয়ে নয়। সমান দুইটি করে জয় দুই দলের। বাকি দুইটি ড্র। অবশ্য সাফের শেষ দেখায় ২০১৩ সালে ২-১ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে ২০১এ থাকা ৭ ধাপ এগিয়ে আছে লাল-সবুজরা।

"