বাংলাদেশ-ভুটান ম্যাচ

ভাষ্যকারদের হাস্যকর কান্ড

প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

ক্রীড়া প্রতিবেদক

দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশে বসছে দক্ষিণ এশিয়ার ‘বিশ্বকাপ’ খ্যাত সাফ ফুটবল টুর্নামেন্ট। পরশু উদ্বোধনী দিন মাঠে গড়িয়েছে দুইটি ম্যাচ। যেখানে ভুটানকে ২-০ গোলে হারিয়ে জয় দিয়ে শুভ সূচনা করেছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। এ ম্যাচে মামুনুল-জামাল-সুফিলদের জয় ছাপিয়ে পাদ প্রদীপে চলে এসেছে ধারাভাষ্য বিতর্ক। এ নিয়ে তোলপাড় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক। ওই ম্যাচের ধারাভাষ্যকারদের হাস্যকর ধারাভাষ্য ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

‘মাঠ চলে গেল বলের বাইরে’ কিংবা ‘কর্দমাক্ত আকাশ মেঘমুক্ত মাঠ’ প্রচলিত এসব কথা নিয়ে বিতর্ক এখনো থেমে নেই। বিচ্ছিন্ন এ রকম দু-একটি বাক্য ধারাভাষ্যকারদের মুখ ফসকে বেরিয়ে যাওয়া নতুন কিছু নয়। কিন্তু পরশু বাংলাদেশ-ভুটান ম্যাচে টেলিভিশনে ধারাভাষ্যকাররা যেসব অপ্রাসঙ্গিক কথা বলেছেন তা ছাড়িয়ে গেছে অতীতের সব বিতর্ককে। এই ধারাভাষ্য কা-ে কাঠগড়ায় চৌধুরী জাফরউল্লাহ শারাফাত, শামসুল আলম প্রিন্স, সাইদুর রহমান, মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, এম এ মুরাদ এবং আলফাজ উদ্দিন। প্রথম তিন জন ম্যাচ চলাকালীন বাংলাদেশ টেলিভিশনে ধারভাষ্য দিয়েছেন এবং পরের তিনজন চ্যানেল নাইনের ধারাভাষ্য দিয়েছেন। এ ধরনের ধারাভাষ্য ও ধারাভাষ্যকার পরিবর্তনের দাবিও তুলেছেন কেউ কেউ।

ম্যাচের দেড় ঘণ্টাজুড়ে অপ্রাসঙ্গিক কথা বলার পাশাপাশি তথ্য বিভ্রাট করেছেন তারা। বাংলাদেশ দলের কোচ জেমি ডে তার অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড মেয়েদের ভেনিটি ব্যাগের মতো করে গলায় ঝুলিয়েছেন বলে আখ্যা দেন ভাষ্যকার। এছাড়া সাবেক অধিনায়ক ও বর্তমান মিডফিল্ডার মামুনুল ইসলামকে ‘সাবেক ফুটবলার’ বলে আখ্যা দিয়ে তুমুল বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন ভাষ্যকার। জানা গেছে, দুই টিভি চ্যানেলের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং সরকারি পর্যায়ের সর্বোচ্চ কর্তাদের সুপারিশের ভিত্তিতে সাফ ফুটবলে ধারাভাষ্য দেওয়ার সুযোগ নিয়েছেন এই ছয়জনের মধ্যে কেউ কেউ।

পুরো ম্যাচে ভাষ্যকারদের হাস্যকর কথাবার্তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে তুলে ধরেছেন ক্ষুব্ধ ফুটবলপ্রেমীরা। যেসব ভুল এবং অপ্রাসঙ্গিক কথা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে তা হলোÑ ১. জেমি ডে অফিশিয়াল কার্ড পরেছেন ভ্যানিটি ব্যাগের মতো করে। ২. বদলি হিসেবে মাঠে নামছেন মামুনুল ইসলাম, বাংলাদেশ দলের সাবেক ফুটবলার। ৩. বলটি সামনে বাড়িয়ে দিলো এবং মাহবুবুর রহমান এগিয়ে যাচ্ছে। তার স্পিড যদি এমবাপ্পের মতো হয় তাহলে মনে হয় বলটি ধরতে পারবে। ৪. বাংলাদেশের দর্শকরা উপলব্ধি করার চেষ্টা করছেন, কিভাবে তারা ম্যাচটি উপলব্ধি করবেন। ৫. খেলার সময় অতিক্রান্ত হয়েছে ২২ অর্থাৎ টুয়েন্টি টু মিনিট! ৬. পুরো ৫০ ওভার শেষে খেলার স্কোর বাংলাদেশ ২-০ ভুটান! ৭. এভাবে মারলে হবে না! ৮. জামাল ভূঁইয়া বাংলাদেশের মাশ্চেরানো ডেনমার্কের কোপেনহেগেন থেকে আগত ফুটবলার। ৯. ভুটান পরেছে কমলা রঙের জার্সি, অপরদিকে বাংলাদেশ পরেছে সবুজ রঙের জার্সি, সাদা রঙের প্যান্ট, সাদা রঙের মোজা! হলুদ রঙের মোজা, অর্থাৎ ইনি গোলকিপার ১০. গ্যালারিতে দেখছেন সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন সাহেব, পাশে বসে আছেন সালাম মুর্শেদি; তিনি খুলনা-৪ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়ে এমপি হওয়ার পথে! ১১. আমরা দেখতে পাচ্ছি, বাংলাদেশ শট করেছে ৯টি আর, ও সরি ফাউল করেছে ৯টি! ১২. শেষ পর্যন্ত বাদশাহ বলটিকে পাহারা দিলো এবং পাহারা দিতে দিতে গোল লাইনের বাহিরে পর্যন্ত নিয়ে গেল! ১৩. বল পায়ে নিয়ে সবুজ দল অর্থাৎ বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা এখন লাল জার্সি পরিহিত নেপালের সীমানায়, মাফ করবেন, ভুটানের সীমানায়! ১৪. জামাল ভূঁইয়া বল পায়ে এগিয়ে যাচ্ছেন, না জামাল ভূইয়া নয়Ñ মনে হয় তপু বর্মন বল পায়ে এগিয়ে যাচ্ছেন কিন্তু এ কী? বল কাকে দিলেন? ১৫ প্রথম ৩ মিনিটে (টাইব্রেকারের) মাধ্যমে এক গোলে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। ১৬. খেলার একেবারে শুরুতে যেহেতু খেলা মাত্র শুরু হয়েছে, সুতরাং গোল হওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। ১৭. পালটা আক্রমণের প্রতিধ্বনি খেলা শেষের ২ মিনিট আগে। ১৮. গোল কি হয়ে গেলো নাকি? না হয়নি, কর্নার। ১৯. দ্বিতীয়ার্ধের ছয়চল্লিশ মিনিটেই ২য় গোল, অর্থাৎ, দ্বিতীয়ার্ধের ২ মিনিটেই গোল। ২০. ফুটবল একটি উত্তেজনাকর খেলা, উত্তেজনা ধরে রাখতে হলে ঘন ঘন শট নিতে হবে। ২১. কর্নার ইজ সল্ট মানে গোল ইজ সল্ট এ ফুটবল খেলায়। ২২. বাংলাদেশ বনাম ভুটান ম্যাচ উপভোগ করতে এসেছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর নাতি। ২৩. শেষ পর্যন্ত বাদশাহ বলটি কে পাহারা দিলো এবং পাহারা দিতে দিতে গোল লাইনের বাহিরে পর্যন্ত নিয়ে গেল।

"