একদিনে দুই নক্ষত্রের পতন

প্রকাশ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

ক্রীড়া ডেস্ক

জিতলেই ফ্ল্যাশিং মিডোর দর্শকরা কোয়ার্টার ফাইনালে উপভোগ করতে পারতেন রজার ফেদেরার বনাম নোভাক জোকোভিচের ব্লকবাস্টার লড়াই। তা আর সম্ভব হলো না। ইউএস ওপেনের চতুর্থ রাউন্ড থেকে বিদায় নিয়েছেন সুইস টেনিস তারকা ফেদেরার। শেষ আটে উঠার লড়াইয়ে ২ নাম্বার বাছাই হেরে বসেছেন জন মিলম্যানের বিপক্ষে। প্রথমবারের মতো কোনো কোয়ার্টার ফাইনালে এটিই প্রথম জয় ৫৫তম বাছাই অস্ট্রেলিয়ান মিলম্যানের। ৩ ঘণ্টা ৫৫ মিনিটের মহাকাব্যিক লড়াইয়ে ফেদেরার হেরেছেন ৩-৬, ৭-৫, ৭-৬ (৯-৭), ৭-৬ (৭-৩) গেমে।

২০১৩ সালে টমি রবার্তোর বিপক্ষে হারের পর ইউএস ওপেন থেকে এটি ফেদেরারের সবচেয়ে দ্রুততম বিদায়। ৬টি ইউএস ওপেনের মালিকের আগে কখনো র‌্যাঙ্কিংয়ে ৫০ এর বাইরে থাকা বাছাইয়ের বিপক্ষে কখনো হারেননি। তবে ৩৭ বছর বয়সী টেনিস কিংবদন্তিকে হারানোর ব্যাপারটা নিজেও বিশ্বাস করতে পারছেন মিলম্যান। ম্যাচ শেষে ২৯ বছর বয়সী অস্ট্রেলিয়ান বলেন, ‘আমি বিশ্বাসই করতে পারছি না। ফেদেরার ওপর আমার অসীম শ্রদ্ধা, বিশেষ করে তিনি যা কিছু অর্জন করেছেন তার জন্য। তিনি আমার নায়ক।’

ম্যাচে ফেদেরার পয়েন্ট পেয়েছিলেন দ্বিতীয় ও তৃতীয় সেটে। কিন্তু ২০টি গ্রান্ড সøামের মালিক সার্ভে সব গুলিয়ে ফেলেন। পুরো ‘৭৭টি এনফোর্সড এরর’ই সবচেয়ে বেশি ভুগিয়েছে ফেদেরারকে। তবে পরাজয়ের পরও শান্ত ছিলেন সুইস তারকা। হারের দায়টা তিনি অবশ্য দিয়েছেন নিউইয়র্কের ‘কাঠফাটা’ গরমকে। ম্যাচের পর তিনি বলেন, ‘খুব গরম ছিল আজ (সোমবার) রাতে। যেখানে আমি বাতাসই পাচ্ছিলাম না। এমন পরিবেশে আমি শুধু লড়াই করছিলাম এবং এটিই প্রথমবার এমন হার বরণ করতে হয়েছে।’

ফেদেরারের বিদায়ের দিনে দারুণ জয় পেয়েছে ৬ষ্ঠ বাছাই নোভাক জোকোভিচ। হুয়াও সৌসাকে ৬-৩, ৬-৪ ও ৬-৩ গেমে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে ৩১ বছর বয়সী সার্বিয়ান। শেষ আটে তিনি মুখোমুখি হবেন ফেদেরারকে দুঃস্বপ্ন উপহার দেওয়া মিলম্যানের বিপক্ষে।

ইউএস ওপেনে মেয়েদের বিভাগেও ছিল নক্ষত্র পতন। পরশু কোয়ার্টার ফাইনালে উঠার লড়াইয়ে স্পেনের কার্লা সুয়ারেজ নাভারোর বিপক্ষে ৬-৪ ও ৬-৩ গেমে হেরে গেছেন রাশান টেনিস সেনসেশন মারিয়া শারাপোভা।

৫টি গ্রান্ড সøামের মালিক শারাপোভা ইউএস ওপেনে ফিরেছেন ১৫ মাস পরে। ২০১৬ অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে ডোপ টেস্টে প্রমাণিত হওয়ায় নিষিদ্ধ হয়েছিলেন এই সাবেক নাম্বার ওয়ান। তবে ডোপ টেস্টের ব্যাপারটা বারবার অস্বীকার করেছেন এই টেনিস সেনসেশন। জুনে রোঁলা গাঁরোতেও কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বাদ পড়তে হয়েছে ২১ নাম্বার বাছাইকে।

মাত্র ১৭ বছর বয়সে উইম্বলডন জিতে চারদিকে হইচই ফেলে দিয়েছিলেন শারাপোভা। কিন্তু চোট ও নিষিদ্ধ হওয়ার কারণে ৩১ বছর বয়সীকে বারবার থাকতে হয়েছে কোর্টের বাইরে। পরশু হারের পর তারই প্রতিফল ছিল শারাপোভার কণ্ঠে, ‘এর চেয়েও আমার খারাপ সময় এসেছে।’

"