হারাতে চান না আরিফুল-মিঠুন

প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

ক্রীড়া প্রতিবেদক

জাতীয় দলের জার্সি চাপানোর স্বপ্নটা আগেই পূরণ হয়েছে আরিফুল হকের। প্রথমবারের মতো এই অলরাউন্ডার সুযোগ পেয়েছেন ওয়ানডে দলেও। পরশু এশিয়া কাপের জন্য চূড়ান্ত যে দল দিয়েছেন নির্বাচকরা সেখানে ঠাঁই হয়েছে আরিফুলের। স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বাসিত তিনি। তবে এই খুশিটাকে ভালো লাগার পর্যায়ে নিয়ে যেতে চান আরিফুল। স্বপ্ন দেখছেন একাদশে সুযোগের; পারফর্ম করার।

প্রথমবারের মতো ওয়ানডে দলে ডাক পাওয়ায় আরিফুল যেমন উচ্ছ্বাসিত তেমনি একটা স্নায়ুচাপও কাজ করছে তার মধ্যে। তবে চাপ সামলে সামনে এগিয়ে যেতে চান তিনি। একাদশে নিজের জায়গাটা পাকাপোক্ত করার আশায় আছেন আরিফুল।

গত ফেব্রুয়ারিতে নিজেদের মাঠে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে অভিষেক হয় আরিফুলের। পরে নিদাহাস ট্রফিতে বাংলাদেশ দলেও জায়গা করে নেন তিনি। কিন্তু নিজেকে মেলে ধরার সুযোগ পাননি। বেঞ্চে বসেই তাকে কাটাতে হয়েছে পুরো টুর্নামেন্ট। আরিফুল সুযোগ পেয়েছেন আফগানিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে। সেখানে বাংলাদেশ হোয়াইটওয়াশ হলেও ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে উজ্জল ছিলেন আরিফুল। বাংলাদেশের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফলেও দ্যুতি ছড়িয়েছেন এই অলরাউন্ডার।

কিন্তু আরিফুলের ক্যারিয়ারটা এত দিন কুড়ি ওভারের ক্রিকেটেই সীমাবদ্ধ হয়েছিল। অবশেষে পরিধি বাড়ছে তার ক্যারিয়ারের। প্রথমবারের মতো ওয়ানডে দলে জায়গা হয়েছে তার। তাও আবার এশিয়ার কাপের মতো বড় মঞ্চে অগ্নিপরীক্ষা দেওয়ার জন্য! তবে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশের একাদশে সুযোগ পাবেন কি না তা নিয়ে নিজেই আছেন সংশয়ে। কিন্তু সুযোগ পেলে তা কাজে লাগাতে চান আরিফুল। কাল তিনি বলেছেন, ‘ভালো লাগা তো কাজ করেই। তবে সেটির চেয়ে বড় কথা দলে জায়গাটা পোক্ত করতে হবে। ভালো খেলার চেয়ে বড় কিছু নেই। এই টুর্নামেন্টে আমার ওয়ানডে অভিষেক হবে কি না, জানি না। তবে দলে জায়গাটা পোক্ত করতে হবে, এটা আমার আপাতত লক্ষ্য।’

লোয়ার অর্ডারে ঝড় তোলা কিংবা হাল ধরার মতো একজন ক্রিকেটারের চাহিদা বাংলাদেশের অনেক দিনের। ধারণা করা হচ্ছে ছয় কিংবা সাতই তার জন্য উপযুক্ত জায়গা। আরিফুল নিজেও এই পজিশনে ব্যাটিং করতে প্রস্তুত আছেন, ‘ছোট বেলা থেকে ছয়-সাতে খেলে আসছি। এ ধরনের পরিস্থিতিতে খেলে আমি অভ্যস্ত। ওই পরিস্থিতিতে কী করতে হবে, সেটি নির্ভর করে আমার হাতে আসলে কত ওভার আছে। যদি ১০ ওভার থাকে, চিন্তাটাও তেমন থাকে। ৫ ওভার থাকলে আরেক চিন্তা। চিন্তাটা আসলে বড় করেই ব্যাটিংয়ে নামি। অনেক আগ থেকেই কঠিন পরিস্থিতি সামলে আসছি তো, এখন অভ্যস্ত হয়ে গেছি। চেষ্টা করি নিজের দুর্বলতা কাটিয়ে এই জায়গায় আরো কতটা ভালো করা যায়।’

প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন জানিয়েছেন, আরিফুলকে নেওয়া হয়েছে অলরাউন্ডার হিসেবে। কঠিন পরিস্থিতিতে শুধু ব্যাটিংই নয়, বোলিংটাও তাকে ভালো করতে হবে। আরিফুল অবশ্য জানালেন, তিনি যেকোনো চ্যালেঞ্জ নিতেই প্রস্তুত। চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে ওয়ানডে দলে ফেরা মিঠুনের জন্যও। যিনি ৩টি ওয়ানডে ও ১৩টি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন বাংলাদেশের হয়ে। কিন্তু দলে জায়গাটা ধরে রাখতে পারেননি তিনি; ছিটকে গেছেন।

এবার হারাতে চান না মিঠুন। তবে দলের প্রয়োজনে যেকোনো পজিশনে ব্যাটিং করতে প্রস্তুত তিনি। বলেছেন, ‘জীবনে আমি অনেক পজিশনেই ব্যাটিং করেছি। কাজেই কোথায় ব্যাটিং করব এটা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। একজন ব্যাটসম্যান হিসেবে সবার ওপর যে দায়িত্ব থাকে, আমার ওপরও সেটা থাকবে। যখন যে পজিশনেই হোক আমি সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব।’ আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে শুরু হচ্ছে এশিয়া কাপের ১৪তম আসর। বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা ম্যাচ দিয়ে যাত্রা শুরু করবে রোমাঞ্চকর আসরটি। সে লক্ষ্যে আগামী ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা ছাড়ার কথা বাংলাদেশ দলের।

 

"