ছিটকে গেলেন সৌম্য-সাব্বির

সাকিবকে নিয়েই চূড়ান্ত দল

প্রকাশ : ৩১ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

ক্রীড়া প্রতিবেদক

দ্বীপকুঞ্জের দেশ ওয়েস্ট ইন্ডিজে স্বপ্নের একটা সফর শেষ করেছে বাংলাদেশ জাতীয় দল। সীমিত ওভারের দুইটি সিরিজেই ক্যারিবীয়দের হারিয়েছে টাইগাররা। যেখানে অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের প্রভাব অনেক। দল সফল হলেও হতাশ করেছিলেন সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান ও এনামুল হক বিজয়। তিনজনকেই দুঃসংবাদ শুনিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। কাল এশিয়া কাপের জন্য নির্বাচক প্যানেল যে চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছেন তাতে জায়গা হয়নি এই ত্রয়ীর একজনেরও। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষের সিরিজে থাকা আবু জায়েদ রাহিও ছিটকে গেছেন দল থেকে। তবে অনেক উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার পর দলে রাখা হয়েছে টেস্ট ও টি-টোয়েন্টির অধিনায়ক সাকিব আল-হাসানকে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে বাঁ-হাতের কনিষ্ঠায় চোট পেয়েছিলেন সাকিব। তীব্র ব্যথা থাকলেও ইনজেকশন নিয়ে খেলেছিলেন বিশ্ব সেরা অলরাউন্ডার। পুরোপুরি সুস্থ হতে অস্ত্রোপচারের বিকল্প নেই। এশিয়া কাপের আগে সাকিব সার্জনের ছুরির নিচে শায়িত হবেন কি না এ নিয়ে উদ্বেগের শেষ ছিল না বিসিবির। তবে ব্যথানাশক ইনজেকশন নিয়ে সাকিব খেলতে পারবেন। আসন্ন এশিয়া কাপে তাই করবেন দেশ সেরা অলরাউন্ডার।

পুণ্যভূমি মক্কায় হজ পালন শেষে পরশু রাতে দেশে ফিরেছেন সাকিব। দেশে ফেরার পর বিসিবির সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনি। সেখান থেকেই এসেছে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। এশিয়া কাপের পরই অস্ত্রোপচার করাবেন বিশ্ব সেরা অলরাউন্ডার। টুর্নামেন্টের চ্যালেঞ্জের কথা ভেবেই সাকিবকে দলে রেখেছেন নির্বাচকরা। কাল গণমাধ্যমকে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বলেছেন, ‘সাকিবের সঙ্গে আমার যে কথা হয়েছিল মদিনায়, ওখানে যা বলল, ও এশিয়া কাপ খেলেই তারপর সার্জারিটা করবে। আমি বলেছিলাম, যদি সম্ভব হয় এশিয়া কাপ খেলে তারপর জিম্বাবুয়ে সিরিজের সময় যেন অপারেশন করে। কারণ এশিয়া কাপ তো খুব চ্যালেঞ্জিং। আমি মনে করি, সবশেষ যত এশিয়া কাপ খেলেছি, এবারেরটা সবচেয়ে কঠিন।’

সাকিব দলে থাকায় অবধারিতভাবেই জায়গা হয়নি মুমিনুল হকের। ৩ নম্বর ব্যাটিং পজিশনে সাকিবের বিকল্প হিসেবে বাঁ-হাতি ব্যাটসম্যানকে ভাবনায় রেখেছিলেন নির্বাচকরা। আপাতত সেই ভাবনাটা মাথা থেকে ঝেরে ফেলেছেন তারা। তবে মুমিনুলের ফেরা না হলেও ১৫ সদস্যের দলে ফিরেছেন ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ মিঠুন। কালকের ঘোষিত দলটা স্বপ্নের দুয়ার খুলে দিয়েছে আরিফুল হকের জন্য। প্রথমবারের মতো ওয়ানডে দলে ডাক পেয়েছেন এই অলরাউন্ডার।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে ৩ ম্যাচের সবগুলোসহ এই বছর ৮ ওয়ানডের ৭টিই খেলেছেন এনামুল। কাজে লাগাতে পারেননি সুযোগ। তার বাদ পড়া অনুমিতই ছিল। এশিয়া কাপে তামিম ইকবালের সঙ্গে উদ্বোধনী জুটির সঙ্গী হবেন লিটন দাস। তৃতীয় ওপেনার হিসেবে আছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। প্রয়োজনে তরু বাঁ-হাতি ব্যাটসম্যান খেলতে পারবেন তিনে বা মিডল অর্ডারেও।

সাব্বিরের বাদ পড়ায় বাজে ফর্মের পাশাপাশি ভূমিকা আছে মাঠের বাইরের আচরণেরও। শৃঙ্খলা ভঙের কারণে তার নিষেধাজ্ঞা পাওয়া এক রকম নিশ্চিত। দলের বাইরে রাখতে হতোই তাকে। আবু জায়েদ বাদ পড়েছেন কোনো ম্যাচ না খেলেই। এশিয়া কাপের স্কোয়াড যেহেতু ১৫ জনের, আগের সিরিজের ১৬ জনের দলের কোনো একজনের ওপর খড়গ পড়তই।

 

বাংলাদেশ ওয়ানডে দল

মাশরাফি বিন মর্তুজা (অধিনায়ক), সাকিব আল হাসান (সহ-অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, মোহাম্মদ মিঠুন, লিটন দাশ, মুশফিকুর রহিম, আরিফুল হক, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, নাজমুল হোসেন শান্ত, মেহেদী হাসান মিরাজ, নাজমুল ইসলাম অপু, রুবেল হোসেন, মুস্তাফিজুর রহমান, আবু হায়দার রনি

 

"