এশিয়া কাপে অনিশ্চিত সাকিব

প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

ক্রীড়া প্রতিবেদক

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অসাধারণ একটা সফর শেষ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। টেস্টে নাস্তানাবুদ হলেও ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে ঘুরে দাঁড়িয়ে সিরিজ জিতেছে টাইগাররা। দীর্ঘ ক্যারিবিয়ান সফর শেষে গতকাল বাংলাদেশে পৌঁছেছে সাকিব আল হাসান-তামিম ইকবালরা। সাফল্যের দীপ্তি যে ক্লান্তি ঢেকে দিতে পারে, সেটি কাল সকালে বিমানবন্দরে অধিনায়ক সাকিব আল হাসানকে দেখে বোঝা গেল। দীর্ঘ সফর আর লম্বা ভ্রমণ ক্লান্তির কোনো রেশ নেই। বরং তার চোখেমুখে তৃপ্তির ছায়া। তবে সাফল্যের এই ক্ষণেও একটা শঙ্কার চোরা¯্রােত বইছে। আগামী মাস থেকে শুরু হওয়া এশিয়া কাপে খেলতে পারবেন তো সাকিব?

গত জানুয়ারিতে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে পাওয়া আঙুলের চোট থেকে এখনো মুক্তি মেলেনি সাকিবের। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের শেষ দিকে পুরনো চোটটা ভুগিয়েছে তাকে। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার তবুও নিজেকে গুটিয়ে নেননি। খেলেছেন চোট ম্যানেজ করে। কিন্তু এভাবে ধারাবাহিক খেলে যাওয়া যে কঠিন তা নিজেও বুঝেন।

কয়দিন আগে বিসিবির চিকিৎসক দেবাশীষ চৌধুরী বলেছিলেন, সাকিব এই চোট বয়ে বেড়াচ্ছেন ছয় মাস ধরে। মূলত তিনি সমস্যা অনুভব করছেন ব্যাটিংয়ের সময়। চোট থেকে পুরোপুরি সেরে না ওঠায় ব্যাটিংয়ে সাকিব শতভাগ দিতে পারছেন না। চোটের সমাধানে সাকিবকে মাঝে অস্ট্রেলিয়ার একজন শল্যবিদের কাছেও পাঠানো হয়। তার চিকিৎসায় ব্যথা কিছুটা কমলেও সমস্যাটা থেকেই গেছে। অস্ট্রেলীয় শল্যবিদের পরামর্শ অনুযায়ী সাকিবকে স্বল্প মেয়াদে ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে। যেটি দীর্ঘ মেয়াদে খুব একটা কাজে আসবে না।

বাংলাদেশ দল ফ্লোরিডায় থাকার সময়ও সেখানকার এক চিকিৎসকের পরামর্শে ইনজেকশন নিয়ে খেলেছেন সাকিব। ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই তার অস্ত্রোপচার জরুরি হয়ে পড়েছে। কিন্তু এই অস্ত্রোপচার হবে কবে? এশিয়া কাপের আগে না পরে? এশিয়া কাপের আগে হওয়া মানে সাকিবের এই টুর্নামেন্ট খেলা হবে না। পুরোপুরি ফিট হয়ে উঠতে তাকে মাঠের বাইরে থাকতে হবে অন্তত দুই মাস।

সাকিব কাল বিমানবন্দরে নিজেই জানিয়েছেন, অস্ত্রোপচারটা তিনি এশিয়া কাপের আগেই করার পক্ষে, ‘আমরা সবাই জানি যে সার্জারি করতে হবে। আলোচনা হচ্ছে, কোথায় করলে ভালো হয়, কবে করলে ভালো হয়। তবে আমি মনে করি, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব করে ফেলা ভালো। খুব সম্ভবত এশিয়া কাপের আগেই হবে।’ এশিয়া কাপের আগে কেন দরকার, সেটির যুক্তিও দিলেন তিনি, ‘হওয়া উচিত কারণ, চাই না যে পুরোপুরি ফিট না হয়ে খেলতে। এভাবে যদি চিন্তা করি, এশিয়া কাপের আগে হবে, এটাই স্বাভাবিক।’

এশিয়া কাপে কখনো শিরোপা না জিতলেও এ টুর্নামেন্টে গত ছয় বছরে বাংলাদেশের সাফল্য বলার মতোই। গত তিনবারের মধ্যে দুইবারই ফাইনাল খেলেছে বাংলাদেশ।

"