অভিজ্ঞরা আর কত দিন?

প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

ক্রীড়া প্রতিবেদক

ফ্লোরিডায় টি-টোয়েন্টি জয়ের উচ্ছ্বাস যেন থামছেই না বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের। বিদেশের মাটিতে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়টা ড্রেসিংরুমে রীতিমতো উৎসবে রূপ নিয়েছে। দুঃস্বপ্নের শুরু হলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের শেষটা মধুরভাবেই করল বাংলাদেশ। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে সাকিব-তামিমরা প্রমাণ করেছেন কুড়ি ওভারের ক্রিকেটে বাংলাদেশও যে কাউকে হারানোর সামর্থ্য রাখে।

তবে সিরিজ জয়ের এই উৎসবের মধ্যেও একটা অশনিসংকেত রয়েছে। কারণ এই জয়ের রূপকার দলের অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররা। তরুণ খেলোয়াড়রা সেভাবে নিজেকে প্রমাণ করতে পারেনি। পরশু লিটন দাশের হাফসেঞ্চুরি ছাড়া বলার মতো উল্লেখযোগ্য পারফরম্যান্স নেই নবীনদের। যা দুশ্চিন্তায় ফেলছে বাংলাদেশকেও।

মাশরাফি, সাকিব, তামিম, মুশফিক এবং মাহমুদুল্লাহ। এই কয়টা নাম বাদ দিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের কথা ভাবাই যায় না। কার্যত এই পঞ্চমুখের ওপর দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশ ক্রিকেট। তাই পুরনোদের পাশাপাশি নতুনদেরও দলের হাল ধরা শিখতে হবে। কারণ মাশরাফি-সাকিব-তামিমরা তো এভাবে বছরের পর পর দলে থাকবেন না। আর কত দিনই বা দলকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন অভিজ্ঞরা।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে বোলিং বিভাগে একমাত্র মুস্তাফিজুর রহমানের পারফরম্যান্সই ছিল সন্তোজনক। শেষ ম্যাচে লিটন দাসের ম্যাচ সেরা ব্যাটিং অবশ্য আশাবাদী করে তুলেছে। কিন্তু সাব্বির রহমান, সৌম্য সরকার, এনামুল হক বিজয় কিংবা অন্যরা? সাব্বির-সৌম্য-বিজয়ের তো দলে থাকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে নিয়মিত। সৌম্যকে সর্বোচ্চ সুযোগ দেওয়া হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু।

তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে সৌম্যর রানের যোগফল ১৯। অতীত পারফরম্যান্সই তাকে দলে টিকিয়ে রেখেছেন বলে মত দিয়েছেন প্রধান নির্বাচক। কিন্তু সাম্প্রতিককালে বাঁ-হাতি ব্যাটসম্যান যেভাবে যেভাবে নিজেকে হারিয়ে খুঁজছেন তাতে হতাশাটা লুকাতে পারলেন না নান্না। বলেছেন, ‘সৌম্যর ব্যাটিংয়ে আমরা হতাশ। তবে তার ব্যাটিং সামর্থ্য নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। রানে ফেরার জন্য তাকে আমরা আরো সময় দিতে চাই।’ অবশ্য যেভাবে সৌম্য সুযোগ পেয়ে আসছেন তাতে মনে হচ্ছে অনন্তকাল ধরে তাকে এই সুযোগটা দেওয়া হবে। তবু বাঁ-হাতি ব্যাটসম্যানের বিকল্প ভাবছেন না নির্বাকরা।

লিটন দাস, এনামুল হক, সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান, মোসাদ্দেক হোসেন, মমিনুল হক, আরিফুল হক ও নুরুল হাসান। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে সবাই মিলে করেছেন দুইটি অর্ধশতক। এটাই প্রমাণ করে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল অভিজ্ঞদের ওপর কতটা নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। মাশরাফি, সাকিব, তামিমদের ওপর এই নির্ভরতা কমাতে কাজ করে যাচ্ছে নির্বাচক দল।

আসন্ন এশিয়া কাপ ও বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নির্র্বাচকরা এসব খেলোয়াড়কে পর্যবেক্ষণে রেখেছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচক। বিশ্বকাপের আগে আরো নতুন অনেক খেলোয়াড়কে অভিষেক করানোর কথা ভাবছেন তারা। এজন্য প্রধান নির্বাচক নান্নুর পছন্দের দল জিম্বাবুয়ে, ‘বিশ্বকাপের আগে জিম্বাবুয়ে সিরিজে কিছু নতুনদের সুযোগ দেওয়া হবে।’

ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে সাকিবদের সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। দেরাদুনে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ধবলধোলাইয়ের পর সমালোচনা হয়েছে অনেক। টি-টোয়েন্টি বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে নিন্দুকদের মুখে কুলুপ এঁটে দিয়েছে টাইগাররা। তাও আবার এচেনা কন্ডিশনে। এবার ধারাবাহিকতা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ। প্রধান নির্বাচক স্বপ্ন দেখছেন পরবর্তী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে, ‘এভাবে ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে আগামী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আমরা ভালোকিছু করতে পারি।’

এশিয়া কাপের আগে মুস্তাফিজ ছন্দে ফেরায় আশাবাদী হয়ে উঠেছেন নির্বাচকরা। ফিজের উইকেট নেওয়ার সক্ষমতা ও কৌশল মনে ধরেছে তাদের। সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে লিটনের ব্যাটিংটাকেও মুগ্ধ করেছে নির্বাচকদের। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে বারবার সুযোগ পেয়েও কেন কাজে লাগাতে পারছেন না সৌম্য? এর উত্তরে রয়েছে ধাঁ-ধাঁ। সেটা হয়তো সৌম্য নিজেও জানেন না।

 

"