আরো দূরে চোখ বাংলাদেশের

প্রকাশ : ০৭ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বাংলাদেশ! বাংলাদেশ! ধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠল ফ্লোরিডার লডারহিল স্টেডিয়াম। উপলক্ষটা বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের আরো একটি টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়। কাল যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় বৃষ্টিভেজা ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১৯ রানে হারিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজ টাইগাররা জিতে নিয়েছে ২-১ ব্যবধানে। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট ইতিহাসে এনিয়ে পঞ্চমবার কোনো সিরিজ জিতল বাংলাদেশ। তন্মধ্যে এনিয়ে দ্বিতীয়বার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। এর আগে ঘরের মাঠে ক্যারিবীয়দের কুড়ি ওভারের সিরিজে পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ দিয়েছিল বাংলাদেশ।

সেন্ট কিটসে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে হারের পর দ্বিতীয় ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন টাইগার অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। মাঠ বদলানোর সঙ্গে পারফরম্যান্স এবং ভাগ্য বদলেরও আশায় ছিল। অপেক্ষা ঘুচেছে। পাঁচ ম্যাচ পর টি-টোয়েন্টিতে জয়ে ফিরেছে বাংলাদেশ। কাল তো দ্বিতীয় ম্যাচটাও জিতে নিলেন সাকিব-তামিম-লিটনরা। আর তাতেই ছয় বছর পর বিদেশের মাটিতে সিরিজ জয় হলো বাংলাদেশের। তবে আগের সিরিজগুলোর তিনটিই বাংলাদেশ জিতেছিল নিজেদের মাটিতে। এর আগে বিদেশের মাটিতে একমাত্র দল হিসেবে আয়ারল্যান্ডকে হারিয়েছিল টাইগাররা।

টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ। তবে সীমিত ওভারের দুই ফরেমেটেই সফল টাইগাররা। টেস্ট সিরিজটা বাদ দিলে বাংলাদেশের এবারের পুরো সফরটা মনে রাখার মতোই। টেস্ট সিরিজে ধবলধোলাইয়ের পর মাশরাফি বিন মর্তুজার নেতৃত্বে ওয়ানডে সিরিজে ২-১ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ।

কিন্তু প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ক্যারিবীয়দের সামনে দাঁড়াতেই পারেননি সাকিব-তামিমরা। তাতেও অবশ্য মনবল হারায়নি বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। ফ্লোরিডায় দুই ম্যাচ জিতে সাকিবাহিনী প্রমাণ করেছেন টি-টোয়েন্টিতেও ধীনে ধীরে বড় দল হয়ে উঠছেন তারা।

দলীয় প্রচেষ্টার সমণি¦ত ফল হিসেবে এসে জয়। আর পুরো দলটাকে একই সুতোয় গাঁথার প্রয়াস চালিয়েছেন অধিনায়ক সাকিব। কাল দলেল মনবল ঠিক রাখার কাজটা করেছেন তিনি। তবে সিরিজ জয়ের কৃতিত্বটা পুরো দলকেই দিলেন টাইগার দলপতি, ‘ছেলেরা দুর্দান্ত করেছে। প্রথম ম্যাচে হারের পর আমরা মানসিক দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছি। প্রতিটি খেলোয়াড়ের বিশ্বাস ছিল ঘুরে দাঁড়ানোর।’

সাকিব আরো বলেছেন, ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দল। আমি মনে করি, গোটা সিরিজে আমরা ভালো ব্যাটিং করেছি। আমরা ঠিকমতো শট খেলতে পেরেছি। এতে আমার বোলিংয়ের জন্য ভাল হয়েছে, আমি অধিনায়কত্বটাও অনেক ভালো করতে পেরেছি। এমনকি দলের যে খেলোয়াড়েরা মাঠে নামেনি, তারাও তাদের নিজেদের দায়িত্বগুলো পালন করেছে। আমার মনে হয়, এর চেয়ে ভালো কিছু আমি আশা করতে পারতাম না।’

বাংলাদেশের এই সফর আসন্ন এশিয়া কাপের জন্য ভালো প্রস্তুতি হয়েছে বলে মনে করেন অধিনায়ক সাকিব। বিশ্বকাপে ভালো কিছু করার জন্য এই সিরিজ জয় মানসিকভাবে এগিয়ে রাখবে সাবিক-তামিমদের। সিরিজ জয়ে পর সাকিব বলেন, ‘আমরা ওয়ানডেতে গত তিন-চার বছর ধরেই ভালো খেলছি। ২০১৫ বিশ্বকাপের পর থেকেই এই ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয় আমাদের আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে। আমরা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটটাও যে ভালো খেলতে পারি, সেই বিশ্বাসটাই খেলোয়াড়দের মধ্যে তৈরি হবে।’

টেস্ট সিরিজ হারের পর কাঠগড়ায় ছিলেন বাংলাদেশের টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সাকিব। বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন জানিয়েছিলেন সাকিবের টেস্ট খেলা নিয়ে অনিহার কথা। তবে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের পর এই অধিনায়ক শুনালেন অন্য কথা। টেস্ট খেলা নিয়ে বলেন, ‘আমাদের এখন টেস্টটা যেন ভালো খেলতে পারি, সে চেষ্টা করতে হবে। টেস্টে আমরা ইতোমধ্যেই ঘরের মাঠে জিতছি। এবার পালা বিদেশের মাটিতে ভালো করা।’

"