স্বপ্ন সারথি মডরিচ-রাকিটিচ

প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০১৮, ০০:০০

ক্রীড়া ডেস্ক

লুঝনিকির সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামা নিয়ে সংশয় ছিল ক্রোয়েশিয়ার মধ্য মাঠের প্রধান অস্ত্র ইভান রাকিটিচের। বার্সেলোনা মিডফিল্ডারের গায়ে যে তখন হাঁড় কাঁপুনি জ্বর! তাও যেমন তেমন জ্বর নয়। কিন্তু রাকিটিচকে দমিয়ে রাখার সাধ্য যেমন প্রতিপক্ষের নেই তেমনি বসিয়ে রাখতে পারেনি ১০২ ডিগ্রি জ্বরও। দলের প্রয়োজনে ঠিকই জ্বর নিয়ে ইংলিশদের বিপক্ষে মাঠে নেমেছেন তিনি। নির্ধারিত সময়ের পরও খেলেছেন অতিরিক্ত ৩০ মিনিট। অবিশ্বাস্যভাবে জ্বর নিয়েই টানা ১২০ মিনিট মাঠে ছিলেন রাকিটিচ।

দলের প্রতি রাকিটিচের এই ত্যাগ বৃথা যায়নি। ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে ক্রোয়েশিয়া। শুরুর দিকে রাকিটিচকে তেমন ছন্দে দেখা না গেলেও ম্যাচ গড়িয়ে চলার সঙ্গে নিজের স্বাভাবিক খেলাটা খেলেছেন এই বার্সা তারকা।

বিশ্বকাপের শুরু থেকেই দুর্দান্ত খেলে আসছেন রাকিটিচ। গোল করার সঙ্গে ক্রোয়েশিয়ার মাঝ মাঠেও আলো ছড়াচ্ছেন। দলকে সেমিফাইনালে তুলতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন তিনি। কোয়ার্টার ফাইনালে রাশিয়ার বিপক্ষে টাইব্রেকারের শেষ শটে লক্ষ্য ভেদ করে দলকে তিনিই তুলেছেন সেমিফাইনালে। এর আগে দ্বিতীয় রাউন্ডে ডেনমার্কের বিপক্ষেও টাইব্রেকার থেকে গোল করেছিলেন তিনি। দলে তার গুরুত্ব কত, তা ভালোভাবেই জানেন কোচ জøাতকো দালিচ। তাই জ্বর নিয়ে মাঠে নামতেও পিছপা হননি রাকিটিচ।

শুধু জ্বর কেন, এক পা না থাকলেও নাকি খেলতে রাজি ছিলেন তিনি। জয়ের পর ম্যাচ শেষে তাই শোনালেন এই ৩০ বছর বয়সী মিডফিল্ডার, ‘গত (মঙ্গলবার) রাতে আমি জ্বরে ভুগছিলাম প্রায় ১০২.২ ফারেনহাইট। খেলার জন্য শক্তি পেতে আমি বিছানায় শুয়ে ছিলাম। এটা কাজে দিয়েছে। তবে দরকার পড়লে আমি এক পা না থাকলেও ফাইনাল খেলব।’

ইংলিশদের বুক ভেঙে ক্রোয়েশিয়াকে স্বপ্নের ফাইনালে তোলার মূল কারিগর মডরিচ ও রাকিটিচ। দুই মিডফিল্ডারই আসরের শুরু থেকে ফুল ফোটাচ্ছেন রাশিয়ার সবুজ ঘাসে। গ্রুপ পর্ব থেকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে প্রতিপক্ষকে হার উপহার দিয়ে যাচ্ছেন এই দুইজন। লিগে এই দুইজন দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবে খেললেও জাতীয় দলে সব বিভেদ ভুলে দলকে প্রথমবারের মতো ফাইনালে তুলেছেন। বিশ্বকাপে আসার আগে রিয়াল মাদ্রিদকে ১১তম ও টানা তৃতীয় চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা জিতিয়েছেন মডরিচ। এই মুহূর্তে বিশ্বের সেরা মিডফিল্ডারদেরই একজন তিনি। বিশ্বকাপের গোল্ডেন বল ও ফিফা বর্ষসেরা পুরস্কার ব্যালন ডি’অরের বড় দাবিদার তিনি। অন্যদিকে সেভিয়া থেকে বার্সেলোনা এসেই মধ্য মাঠের অন্যতম অস্ত্র হয়ে উঠেছেন রাকিটিচ। কাতালানবাসীদের এনে দিয়েছেন লা লিগা শিরোপা। এবার ক্লাবের মতো ক্রোয়েশিয়ানদেরও প্রথম বিশ্বকাপ এনে দিতে বদ্ধ পরিকর মডরিচ ও রাকিটিচ। কারণ প্রতিপক্ষ যে তাদের পুরনো শত্রু ফ্রান্স।

"