ঈশ্বরের কাছে কৃতজ্ঞ ক্রোয়েশিয়া

প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০১৮, ০০:০০

ক্রীড়া ডেস্ক

দ্বিতীয় রাউন্ডে দুই দলের ভাগ্য নির্ধারণ হয়েছিল একইদিনে। টাইব্রেকারে জিতে সেদিন রূপকথার গল্প লিখেছিল স্বাগতিক রাশিয়া। অন্যদিকে ডেনমার্ককে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো শেষ আটে উঠে ক্রোয়েশিয়া। সেমিফাইনালে উঠার লড়াইয়ে পরশু সোচির ফিস্ট স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয় এই দুই পশ্চিম ইউরোপের দেশ। এবারও তাদের ভাগ্য নির্ধারিত হয় টাইব্রেকারে। কিন্তু সোচিতে কোনো রূপকথার জন্ম দিতে পারেনি রুশরা। টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে হেরে শেষ চারে যাওয়ার স্বপ্ন কবর দিতে হয়েছে স্তানিস্লাভ চেরচেশভের শিষ্যদের। আর জøাতকো দালিচের অধীনে ২০ বছর পর দ্বিতীয়বারের মতো সেমিতে উঠেছে ক্রোয়াটদের সোনালি প্রজন্ম।

রাশিয়ানদের বিপক্ষে ক্রোয়াটরা কখনো হারেনি। পরশু সেই জয়ের ধারা অব্যাহত রাখল লুকা মডরিচ-ইভান রাকিটিচরা।

১৯৯৮ বিশ্বকাপে কিংবদন্তি ফরওয়ার্ড ডেভর সুকুরের হাত ধরে সেমিতে উঠেছিল ক্রোয়াটরা। প্রথমবার এসেই বিশ্বকে তাক লাগানো দেশটি সেবার হারিয়ে দিয়েছিল ফুটবল পরাশক্তি জার্মানদের। এরপর সেমিতে তারা হেরে যায় স্বাগতিক ফ্রান্সের বিপক্ষে। কিন্তু এবার স্বাগতিকদের বাধাটা কষ্ট করে হলেও পার হয়েছে এসেছে দালিচের শিষ্যরা। পরশুর জয়ে একটি রেকর্ডেও ভাগ বসিয়েছে তারা। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে টানা দুইবার টাইব্রেকারে জিতে সেমিতে উঠেছে দলটি। আগের রেকর্ডটি ছিল আর্জেন্টিনার। ১৯৯০ বিশ্বকাপে ম্যারাডোনা-ক্যানিজিয়ারাও দুইবার টাইব্রেকারে জিতে ফাইনালে উঠেছিল।

ঘরের বিশ্বকাপে রাশিয়ার সবচেয়ে বড় আবিষ্কার ড্যানিশ চেরিশেভ। পরশু দুর্দান্ত এক গোল করে রাশানদের এগিয়েও দিয়েছিলেন তিনি। তবে চার গোল করে থেমে যেতে হলো এই ভিয়ারিয়াল উইঙ্গারকে। তাছাড়া ইগল আকিনফিভের অনবদ্য পারফরম্যান্স স্মরণ করে দিয়েছে সাবেক সোভিয়েতের কিংবদন্তি গোলরক্ষক লেভ ইয়াসিনকে। তবে সব কিছুকে ছাপিয়ে ক্রোয়াটদের পরশু আরেকবার উদ্ধার করেছেন গোলরক্ষক ড্যানিজেল সুভেচ্চি। হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পাওয়া সত্ত্বেও প্রথম স্পট-কিক ঠেকিয়ে দিয়েছেন এই মোনাকো গোলরক্ষক। আর ইভান রাকিটিচ দ্বিতীয়বার যখন শেষ স্পট-কিকে গোল করে ভেস্তে দিলেন রুশদের সব উৎসব। মৃত বাড়ির মতো শোকে আচ্ছন্ন হয়ে পড়া কষ্টটা হয়তো অনেক দিন শেলের মতো বিঁধে থাকবে রাশানদের বুকে। এমন শোকাচ্ছন্ন আবহের ভেতর সংবাদ সম্মেলনে এলেন রাশিয়ার কোচ চেরচেশভ। রাশানদের আজকের এই অবস্থানে আনার কারিগর মূলত তিনিই। মুদ্রার এপিটওপিট দুই দেখা এই কোচ সংবাদ সম্মেলনে এসে বলেন, ‘আমরা নিজেদের বিশ্বাস করি। কঠোর পরিশ্রমের দ্বারা আমরা আমাদের মূল্যটা প্রমাণ করেছি। আমি বিশ্বাস করি, লোকজন আমাদের প্রথমে সেভাবে নেয়নি কিন্তু ধীরে ধীরে আমাদের খেলাকে ভালোবেসেছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘পুরো রাশিয়ার জনগণ আমাদের ভালোবাসে। তারা জানে রাশিয়ার জাতীয় ফুটবল দলে মূল্য কি। আমি আশা করি, আরো বেশি ভালো করার জন্য ঘুরে দাঁড়াব।’

ক্রোয়েশিয়া শেষ চারে প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়েছে ১৯৯৬ বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডকে। ১১ জুলাই লুঝনিকির সেমির আগে পরশু আনন্দটা শিষ্যদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিয়েছেন দালিচ। সেই সঙ্গে ধন্যবাদ দিচ্ছেন ভাগ্যকে। ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘এটা খুব সুন্দর একটা ম্যাচ ছিল। এটা ছিল লড়াই, একটা যুদ্ধ। আমরা ভাগ্যবান ছিলাম। ঈশ্বরকে ধন্যবাদ। যখন রাকিটিচ গোলটি করল তখন আমি কান্নায় ভেঙে পড়েছিলাম।’

"