‘এটা একটা থ্রিলার ম্যাচ ছিল’

প্রকাশ : ২৫ জুন ২০১৮, ০০:০০

ক্রীড়া ডেস্ক

কখনো জার্মানির বিপক্ষে বাজি ধরবেন না। কারণ তারা দেরিতে হলেও জয় ছাড়া মাঠ ছাড়ে না। কথাটা যে কতটুকু সত্যি, তা পরশু আরেকবার বুঝিয়ে দিল জোয়াকিম লোর শিষ্যরা। হারলে দ্বিতীয় রাউন্ডের স্বপ্ন শেষ হয়ে যেত জার্মানদের। কিন্তু প্রথম ম্যাচে অঘটনের শিকার হলেও দ্বিতীয় ম্যাচে ঠিকই ঘুরে দাঁড়িয়েছে চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। ফিস্ট স্টেডিয়ামে সুইডেনের বিপক্ষে ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে টনি ক্রুসের দুর্দান্ত ফ্রি-কিক থেকে ২-১ গোলের নাটকীয় জয় পেয়েছে জার্মানি।

গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে মেক্সিকোর বিপক্ষে হার। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ৩ পয়েন্ট তুলে নিয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে ছিল সুইডেন। জার্মানির বিপক্ষে ড্র বা জিতলেই শেষ ষোলো নিশ্চিত হয়ে যেত সুইডিশদের। সেই উদ্দেশ্যে ৩২ মিনিটে ওলা তোইভোনেনের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল জেন অ্যান্ডারসনের শিষ্যরা। কিন্তু মনোবল না হারানোর সুনাম আছে জার্মানদের। পরশু তারই প্রমাণ দিল লো বাহিনী। গোল হজমের পর আরো বেশি আক্রমণাত্মক হয়ে উঠে তারা। ৪৮ মিনিটের সময় জার্মানদের সমতায় ফেরায় মার্কো রয়েস। ৮২ মিনিটের সময় লালকার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ১০ জনের দলে পরিণত হয় জার্মানি। এরপর ম্যাচের যোগ করা সময়ে ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হন টনি ক্রুস। বুদ্ধিদীপ্ত এক ফ্রি-কিক থেকে দলকে জয় এনে দেন ‘সার্জন’ নামে খ্যাত এই রিয়াল মাদ্রিদ মিডফিল্ডার।

এই জয়ে শেষ ষোলোতে যাওয়ার আশা বাঁচিয়ে রাখল জার্মানি। ‘এফ’ গ্রুপের শেষ ম্যাচে কাজান অ্যারেনায় দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে জয় পেলে দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠে যাবে তারা। তবে একই দিনে সুইডিশরা যদি মেক্সিকোর বিপক্ষে জয় পায় তবে সমীকরণটা কঠিন হয়ে যাবে তিন দলের জন্য। তিন দলের পয়েন্ট হবে সমান ছয়। সেক্ষেত্রে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকা দুই দল উঠে যাবে দ্বিতীয় রাউন্ডে। আর যদি শেষ ম্যাচে সুইডেন হারে বা ড্র করে আর জার্মানি জয় পায় তবে কপালটা খুলে যাবে লোর শিষ্যদের।

পরশুর জয়ে সুবাতাস বইছে জার্মান শিবিরে। ম্যাচ শেষে জোয়াকিম লো সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘এটি ছিল থ্রিলার ম্যাচ। আবেগেপূর্ণ। শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত একটা রোলার কোস্টার চলেছে সবার মনে। আমরা জানতাম যে, আমাদের কী করতে হবে।’

সুইডেনের বিপক্ষে মাঠে না নামলেও জয়ে বাঁধভাঙা উল্লাস প্রকাশ করেছেন মেসুত ওজিল। এই আর্সেনাল মিডফিল্ডার রয়েসের সঙ্গে একটা ছবি অফিসিয়াল টুইটারে পোস্ট করে লিখেছেন, ‘কী দারণ এক যুদ্ধ! আমরা মাঠ ও মাঠের বাইরে এক দল। কারা কী বলে তা কোনো ব্যাপার না।’

এগিয়ে থেকেও শেষ মুহূর্তের গোলে হার। স্বাভাবিকভাবেই হতাশ সুইডেন। তবে সুইডিশরা চাইলে ঢাল হিসেবে বাজে রেফারিংকে সামনে দাঁড় করাতে পারে। কিন্তু রেফারিং নিয়ে কোনো অনুযোগ নেই সুইডেন কোচ অ্যান্ডারসন। ম্যাচ পরবর্তী সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেছেন, ‘আমি কাউকে দোষ দিতে চাই না। এমনিক রেফারির কোনো সিদ্ধান্ত নিয়েও কথা বলব না। আমার মনে হয় রেফারি চাইলে ভিএআরের সহায়তা নিতে পারত। কিন্তু রেফারি কাছে সেটা দরকার মনে হয়নি।’

অবশ্য নাটকীয় এই হারে সব শেষ হয়ে যায়নি সুইডেনের। জিততে হবে পরের ম্যাচ। কিন্তু জয়টা আবার হতে হবে অন্তত দুই গোলের ব্যবধানে। সেক্ষেত্রে জার্মানি-কোরিয়া ম্যাচও বড় একটা ফ্যাক্টর। তবে শেষ ষোলোতে যাওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা আছে তিন দলেরই। সুইডিশ কোচ অ্যান্ডারসন তাই আশাবাদী, ‘এখনো আমাদের আশা আছে। পরের ম্যাচে ঠিকই আমরা ঠিকই দারুণভাবে ফিরে আসব।’

"