মুখোমুখি স্পেন-পর্তুগাল

সোচিতে আজ ডার্বি আগুন

প্রকাশ : ১৫ জুন ২০১৮, ০০:০০

আমির হোসেন

তখনো ফুটবলের বিশ্বকাপ শুরু হয়নি। ১৯২১ সালের ১৮ ডিসেম্বর প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হয় স্পেন ও পর্তুগাল। মাদ্রিদে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে পর্তুগালকে ৩-১ গোলে হারায় স্পেন। সেই থেকে এই পর্যন্ত আরো ৩৪ বার এই দুই দল মুখোমুখি হয়েছে। জয়ের পাল্লা অবশ্য স্পেনের দিকেই ভারী। স্প্যানিশরা জিতেছে ১৬ বার। পর্তুগাল ৬ বার। ১৩টি ম্যাচ হয়েছে ড্র। সবশেষ ২০১০ বিশ্বকাপ ও ২০১২ ইউরোতেও পর্তুগালকে হারিয়েছে স্পেন।

সময়ের বিবর্তনে স্পেন-পর্তুগালের মুখোমুখি লড়াই পেয়েছে শৈল্পিক মর্যাদা। তাদের মুখোমুখি লড়াইয়ের শৈল্পিক নাম ‘আইবেরিয়ান ডার্বি’। কেউ কেউ আইবেরিয়ান যুদ্ধও বলে। বিশ্বকাপের দ্বিতীয় দিনেই এই যুদ্ধে মুখোমুখি হবে স্পেন ও পর্তুগাল। এই ম্যাচে মাঠে নামার ৪৮ ঘণ্টা আগে বরখাস্ত করা হয়েছে স্পেনের নিয়মিত কোচ জুলেন লুপেতেগুইকে। বিশ্বকাপে মাঠে নামার ৭২ ঘণ্টা আগে তিনি রিয়ালে মাদ্রিদের কোচ হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ করেন। সেটাকে বিশ্বাসঘাতকতার সামিল করে বুধবার তাকে স্পেনের কোচের পদ থেকে সরিয়ে দেয় দেশটির ফুটবল সংস্থা। বিশ্বকাপে মাঠে নামার আগ মুহূর্তে যা স্পেনের জন্য এক প্রকার ধাক্কাই। লুপেতেগুইকে সরিয়ে স্পেন দলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ফার্নান্দো হিয়েরোকে। খুব বেশি অভিজ্ঞ নন তিনি। কোচিং ক্যারিয়ারে তিনি স্পেনের দ্বিতীয় বিভাগের একটি ক্লাবের কোচ ছিলেন। তার তত্ত্বাবধানেই বিশ্বকাপে খেলতে হবে স্পেনকে।

গুঞ্জন রয়েছে লুপেতেগুইকে রেখে দেওয়ার পক্ষে ছিলেন রিয়াল মাদ্রিদের অধিনায়ক সার্জিও রামোস। আর সেটা নিয়ে দলের অন্যান্য খেলোয়াড়দের মধ্যে মতভেদ তৈরি হয়। আর সে কারণেই লুপেতেগুইকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এসব কারণে স্পেন-পর্তুগালের ম্যাচটি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। এই ম্যাচকে ঘিরে মানুষের আগ্রহও বেশ। মূলত রাশিয়া বিশ্বকাপের প্রথম হাইভোল্টেজ ম্যাচ এটি।

এই ম্যাচে পাদপ্রদীপের আলোয় থাকবেন পর্তুগালের অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও স্পেনের সার্জিও রামোস। রোনালদো উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে সর্বোচ্চ ১৫ গোল করেছেন। উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের পাঁচ-পাঁচটি শিরোপা জিতেছেন। ব্যালন ডি’অর জিতেছেন পাঁচবার। ক্যারিয়ারে দশবারেও বেশি এক মৌসুমে চল্লিশোর্ধ গোল করার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন তিনি। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে সব ধরনের প্রতিযোগিতায় সদ্যসমাপ্ত মৌসুমেও করেছেন ৪৪ গোল। রোনালদো একাই যে ম্যাচের চিত্র পাল্টে দিতে পারেন সেটা স্পেনের ফুটবলারদের চেয়ে বেশি ভালো আর কেউ জানার কথা নয়। তবে তাকে রুখতে আছেন সার্জিও রামোস। অভিজ্ঞ এই ডিফেন্ডার ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে আটকানোর সব অস্ত্রই প্রয়োগ করবেন। রিয়ালের হয়ে তারা দুইজন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করলেও আজ তারা একে অপরের প্রতিপক্ষ। ময়দানি লড়াইয়ে তারা একে অপরকে হারিয়ে দিতে সর্বাত্মক চেষ্টাটুকু করবেন। বিশ্বকাপে অভিজ্ঞ দল নিয়েই এসেছেন পর্তুগালের কোচ ফার্নান্দো সান্তোস। তাদের কোনো ইনজুরি সমস্যাও নেই। স্পেনের বিপক্ষের ম্যাচে সেরা একাদশ মাঠে নামাতে তার কোনো সমস্যা হবে না।

তবে স্পেনকে সমীহ করছেন পর্তুগালের ম্যানচেস্টার সিটির মিডফিল্ডার বার্নার্ডো সিলভা। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘কৌশলগত দিক দিয়ে স্পেন বিশ্বের সেরা দল। তাদের মিডফিল্ড বিশ্বের দুইটি সেরা ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনার খেলোয়াড়দের দ্বারা গঠিত। শুক্রবারের ম্যাচে অবশ্যই তারা ফেভারিট। তাদের দলের অধিকাংশ খেলোয়াড়ের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ কিংবা বিশ্বকাপ জেতার অভিজ্ঞতা রয়েছে। আমাদেরও ভালো একটি দল রয়েছে। যথারীতি এই ম্যাচেও আমরা জয়ের জন্য খেলব। আসলে স্পেনের বিপক্ষে জিততে হলে আমাদের মানসিকভাবে শক্তিশালী হতে হবে। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে তার সেরা খেলাটা খেলতে হবে। পাশাপাশি আমাদের মাথার ওপর ভাগ্যদেবীরও হাত থাকতে হবে।’

২০১৪ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেওয়া স্পেন এবারের বিশ্বকাপেও ফেভারিট। ব্রাজিল বিশ্বকাপের ব্যর্থতা ভুলে রাশিয়া বিশ্বকাপের শিরোপা জিততে বদ্ধপরিকর তারা। তাদের দলে রয়েছে দারুণ দারুণ সব অভিজ্ঞ খেলোয়াড়। সার্জিও রামোস, ডেভিড সিলভা, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, দিয়েগো কস্তা, আলবা, ইসকো ও বুসকেটস। কোচ পরিবর্তন হলেও তারা একই বৃন্তের মৃণাল ধরে বিশ্বকাপে বিকশিত হতে প্রস্তুত। পর্তুগালের বিপক্ষে কেমন পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামবেন স্পেনের নতুন কোচ হিয়েরো? তিনি বলেন, ‘আমি চাই তারা ভালো খেলুক। ভালো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুক। কোয়ালিটি ফুটবল খেলুক। প্রতিপক্ষের চেয়ে দুই থেকে তিনটি গোল বেশি করুক। বৃহস্পতিবার আমরা শোচিতে এসে অনুশীলন করেছি। এই ম্যাচের জন্য খেলোয়াড়রা প্রস্তুত।’

"