মাশরাফি-তামিমদের উল্লাস

প্রকাশ : ১১ জুন ২০১৮, ০০:০০

ক্রীড়া ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অনেক দূর এগিয়েছে বাংলাদেশ। সব জায়ান্ট দলকে হারানোর অভিজ্ঞতা হয়েছে অনেক আগেই। র‌্যাঙ্কিংয়ে ইতিহাস সেরা অবস্থানে চলে এসেছে টাইগাররা। এই ক্রিকেট দিয়েই বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশ। কিন্তু তবু একটা আক্ষেপ কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছিল দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের। একটা ট্রফির জন্য হাঁসফাস করছিলেন ক্রিকেটাররাও। চার চারটি বার তীরে এসে তরি ডুবেছিল টাইগারদের। তিনবার এশিয়া কাপ ও একবার নিদাহাস ট্রফিতে।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের একটা ট্রফির জন্য অবশ্য চেষ্টার কোনো ত্রুটি রাখেনি ছেলেরা। তাদের সেই অতৃপ্তিটা ঘোচালেন মেয়েরা। রুমানা-আয়েশাদের হাত ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম শিরোপা পেল বাংলাদেশ। ভারতকে ৩ উইকেটে হারিয়ে সপ্তম এশিয়া কাপ জিতে নিয়েছে বাংলাদেশ। আইসিসি ও এসিসি ট্রফি নামে দুটো শিরোপা ছেলেরা এনে দিয়েছিলেন বিংশ শতাব্দীতে। কিন্তু সেগুলো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অর্জন নয়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশ শিরোপা জয়ের কাছাকাছি গিয়েছিল কয়েকবারই। ২০১২ সালের এশিয়া কাপ আর ২০১৮ সালের নিদাহাস ট্রফি, দুবারই শিরোপা সুবাস পেতে পেতেও শেষ বলে এসে দীর্ঘশ্বাস সঙ্গী হয়েছে বাংলাদেশের। ২০১৬ সালের এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টিতে ফাইনালে গিয়েও হারতে হয়েছে ধোনি-কোহলিদের কাছে।

কিন্তু দীর্ঘদিনের সেই কষ্টটা ভুলিয়ে দিলেন নারী ক্রিকেটাররা। ম্যাচের শেষ বলে ভারত অধিনায়ক হারমানপ্রীত কাউরের বল মিড উইকেট দিয়ে পাঠিয়েই ভৌঁ দৌড় জাহানারার। টানা ছয়বারের চ্যাম্পিয়নদের হারিয়েই বাংলাদেশকে অমৃত স্বাদ এনে দিলেন রুমানা-আয়েশারা। নারী ক্রিকেটারদের অর্জনের দৃশ্যটা টিভিতে দেখেছেন মাশরাফি-তামিম-মাহমুদউল্লাহরা। নিজের ফেসবুক আর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে একটা ভিডিও পোস্ট করেছেন তামিম ইকবাল। সেখানে দেখা যাচ্ছে, মাত্র অনুশীলন শেষ করে মেয়েদের ফাইনাল ম্যাচের অন্তিমলগ্ন দেখতে বসেছেন মাশরাফি, তামিমরা। অনুশীলন সেরে এসে পা থেকে এখনো প্যাড খোলেননি লিটন, বসে আছেন মাশরাফি, মুস্তাফিজ।

চিন্তিত ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে শেষ বলটা দেখছেন তামিম, মিরাজ, সাইফুদ্দিন। মাশরাফি খানিকটা দ্বিধাগ্রস্ত ছিলেন তবে ওদিকে তামিম আশাবাদী, ‘দুই রান হয়ে যাবে।’ তামিমকে হতাশ করেননি বাঘিনিরা। ম্যাচ শেষেই উল্লাসে ফেটে পড়ে গোটা ড্রেসিংরুম।

টাইগ্রেসদের ইতিহাস গড়ার পর মেয়েদের শুভকামনা জানিয়ে তাসকিন লিখেছেন, ‘আহ, অসাধারণ এক অনুভূতি! শুভকামনা মেয়েদের!’ মাহমুদউলাহ রিয়াদ লিখেছেন, ‘সর্বপ্রথম এশিয়া কাপ জয়ের জন্য আমাদের মেয়েদের অভিনন্দন, কী একটা অসাধারণ টুর্নামেন্টই না গেল।’

"