সুইসদের গৌরব ফেরানোর মিশন

প্রকাশ : ১৮ মে ২০১৮, ০০:০০

উপল বড়ুয়া

সুইজারল্যান্ড বিশ্বে পরিচিত শান্তি ও সুন্দর দেশ হিসেবে। দেশটির অবস্থান ইউরোপ মহাদেশে। কিন্তু এটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য নয়। এছাড়া দেশটি বর্হিবিশ্বে পরিচিতি পেয়েছে তাদের বিখ্যাত ও কুখ্যাত সুইস ব্যাংকের জন্য।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর দেশটির চারপাশ ঘিরে রেখেছে আল্পস পর্বতমালা। যা পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়।

সারা বছর বরফে আচ্ছাদিত থাকা সুইসদের প্রধান ও ঐতিহ্যবাহী খেলা হচ্ছে স্কেটিং। তবে দেশটিতে ফুটবলও অত্যন্ত জনপ্রিয়। সুইজারল্যান্ডের জাতীয় ফুটবল দলকে ডাকা হয় ‘সুইজার নাতি’ নামে। ‘নাতি’ জার্মানি শব্দ। দেশটির অর্ধেক জনগণ কথা বলে জার্মান ভাষায়। আর অর্ধেক ফরাসিতে। সুইজারল্যান্ডের জাতীয় দল নিয়ন্ত্রিত হয় ‘সুইস ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন’ দ্বারা।

ফিফাতে যোগদানের পর সুইসরা প্রথম আর্ন্তজাতিক ফুটবল ম্যাচ খেলে ফ্রান্সের বিপক্ষে, ১৯০৫ সালে। ম্যাচটিতে তারা হারে ০-১ গোলে। এরপরই ধীরে ধীরে দেশটি ফুটবলে উন্নতি করতে থাকে।

১৯৩৪ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলা দেশটি ১১তম বারের মতো বিশ্বকাপের টিকেট পেয়েছে এবার। প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে এসেই সুইসরা কোয়ার্টার ফাইনাল উঠে। ১৯৩৮ সালেও কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে ঘরে ফিরে দেশটি। কিন্তু ১৯৫০ বিশ্বকাপে তাদের দেখতে হয় মুদ্রার অপর পিঠ। প্রথবারের মতো গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ পড়তে হয় সুইসদের। এরপর ১৯৫৪ সালে আরেকবার কোয়ার্টার ফাইনালে নিশ্চিত করে তারা। কিন্তু পরেরবার ইউরোপের বাছাই পর্ব উৎরাতে না পারায় খেলা হয়নি বিশ্বকাপে।

১৯৬২ ও ১৯৬৬ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ পড়া সুইসরা এরপর খেলতে পারেনি টানা ছয়টি বিশ্বকাপ। ১৯৯৪ সালে বিশ্বকাপের টিকেট পেয়ে দ্বিতীয় রাউন্ড থেকেই বিদায় নেয় দেশটি। পরের দুই বিশ্বকাপে আবার স্বপ্নভঙ্গ ঘটে সুইসদের। ২০০৬ জার্মানি বিশ্বকাপে ফিরে এসে তারা দ্বিতীয় রাউন্ড খেলে। তবে ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে আরেকবার প্রথম রাউন্ডের ফাঁড়ায় পরতে হয় তাদের। গত ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপে সুইসদের দৌড় শেষ হয় দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে। তবে এবার তারা স্বপ্ন দেখছে প্রথমবারের মতো সেমিফাইনাল খেলার।

এছাড়া সুইসরা ইউরোপীয়ান চ্যাম্পিয়নশীপে চারবার অংশগ্রহণ করে পার হতে পেরেছে দ্বিতীয় রাউন্ডের সেতু পর্যন্ত। দেশটি প্রথম ইউরো কাপ খেলে ১৯৯৬ সালে।

বর্তমান ফিফা র‌্যাংকিংয়ে সুইসরা আছে ৬ নাম্বার স্থানে। ১৯৯৩ সালে দেশটি র‌্যাংকিংয়ে ৩ নাম্বারেও উঠে এসেছিল। পরে ১৯৯৮ সালে নেমে গিয়েছিল ৮৩ নাম্বারে।

সুইসরা ২১তম বিশ্বকাপ খেলবে কোচ ভøাদিমির পেটকোভিচের অধীনে। দলের আর্মব্যান্ড থাকবে স্টিফেন লিখস্টেইনারের হাতে। সুইজ্যারল্যান্ডের জাতীয় দলের জার্সিতে সর্বোচ্চ ১১৮ ম্যাচ খেলেছেন হেইঞ্জ হারমেন। দেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৪২ গোল আছে আলেক্সান্দার ফ্রেইয়ের।

সুইসরা তাদের ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে বড় হার বরণ করে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। ১৯১১ সালে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে দেশটি হারে ০-৯ গোলে। তবে শোধটি তারা নিয়েছে লিথুনিয়ার বিপক্ষে। একই ব্যবধানে জয় পেয়েছিল সুইসরা।

২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে ‘ই’ গ্রুপে এবার তারা প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়েছে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল, কোস্টারিকা ও সার্বিয়াকে। কোস্টারিকা ও সার্বিয়ার চেয়ে শক্তিশালী সুইসদের বড় পরীক্ষাটা দিতে হবে ব্রাজিলের বিপক্ষে। ১৭ জুন রোস্তভ অ্যারেনায় ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই এবারের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে সুইসরা। প্রথম ম্যাচেই তাই অগ্নিপরীক্ষা দিতে হবে পেটকোভিচের শিষ্যরদের।

বিশ্বকাপে সুইজারল্যান্ডের মূল স্পটলাইটটা থাকবে আর্সেনাল মিডফিল্ডর গ্রানিথ জাকার উপর। এছাড়া স্টোক সিটি উইঙ্গার জার্দান শাকিরিও হয়ে উঠতে পারেন দলের মূল অস্ত্র। গোলপোস্ট অক্ষত রাখার জন্য বরুশিয়া ডর্টমুন্ড গোলরক্ষক রোমান বুর্কি তো আছেনই।

সূত্র : উইকিপিডিয়া, ফিফা ডটকম

"