অ্যাটলেটিকোর রাজত্ব উদ্ধার

প্রকাশ : ১৮ মে ২০১৮, ০০:০০

ক্রীড়া ডেস্ক

নিজ দেশের মাটিতে ফাইনাল ম্যাচ। একদিকে তাই ফেভারিট হিসেবে মাঠে নেমেছিল ফরাসি ক্লাব মার্শেই। কিন্তু তাদের কপাল পুড়েছে ঘরের ছেলের হাতে। পরশু লিঁওতে আন্তুনিও গ্রিজম্যানের জোড়া গোলে ইউরোপা লিগের ফাইনালে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে ৩-০ গোলে হেরেছে মার্শেই। এই নিয়ে ৯ বছরে তিনবার ইউরোপা লিগের শিরোপা জিতল অ্যাটলেটিকো। তিনবার চ্যাম্পিয়ন হয়ে তারা ভাগ বসিয়েছে সেভিয়ার রেকর্ডেও।

পরশু চার ম্যাচ নিষেধাজ্ঞার কারণে ডাগ আউটে ছিলেন না অ্যাটলেটিকো কোচ ডিয়েগো সিমিওনে। এই নিষেধাজ্ঞা তিনি পেয়েছেন সেমিফাইনালে আর্সেনালের বিপক্ষে ম্যাচে। তবে ম্যাচ জয়ের পর পরই ‘ট্রেডমার্ক’ দৌড়ে মাঠে নেমে আসেন অ্যাটলেটিকোকে দুইটি ইউরোপা শিরোপা এনে দেওয়া এই আর্জেন্টাইন। ২০০৯-২০১০ এবং ২০১১-১২ মৌসুমে ইউরোপা লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল স্প্যানিশ ক্লাবটি।

লিঁওর ফাইনালে প্রথমার্ধ থেকেই অ্যাটলেটিকোর আক্রমণভাগে হামলা চালায় মার্শেই। ৪ মিনিটের মাথায় এগিয়ে যেতে পারত ফরাসি ক্লাবটি। কিন্তু দিমিত্রি পায়েতের এগিয়ে দেয়া বলটি গোলপোস্টের ওপরে পাঠিয়ে দেন ভেলারে জার্মেইন। এরপর ৬ মিনিটের মাথায় আরেকটি শট মিস করেন আদিল রামি।

মার্শেই তাদের ভুলের প্রতিদানটা দেয় ২১ মিনিটে। গাবির পাস থেকে বাঁ পায়ের শটে অ্যাটলেটিকোকে এগিয়ে দেন গ্রিজম্যান। দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধানটা দ্বিগুণ করেন এই ফরাসি ফরওয়ার্ড। ৪৯ মিনিটে কোকের পাস থেকে আরেকবার বাঁ পায়ের শটে পরাস্ত করেন মার্শেই গোলরক্ষক স্টিভ মান্দানদাকে।

এরপর হ্যাটট্রিকের সুযোগ পেয়েছিলেন গ্রিজম্যান। কিন্তু ৫৩ মিনিটে নেয়া তার শটটিতে বাধা হয়ে দাঁড়ায় প্রতিপক্ষের গোলপোস্ট। গোল শোধে মরিয়া মার্শেই মুহুর্মুহু আক্রমণ চালালেও অ্যাটলেটিকোর শক্তিশালী রক্ষণভাগের কারণে বারবার হতাশ হতে হয় রুদি গার্সিয়ার শিষ্যদের। উল্টো ৮৯ মিনিটে গাবির গোলে তৃতীয়বার পিছিয়ে পড়ে দলটি। দলের তৃতীয় গোলটিরও কারিগর ছিলেন কোকে।

সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে চলতি মৌসুমে গ্রিজম্যানের গোলসংখ্যা দাঁড়াল ২৯টি। পরশু ম্যাচ শেষে ম্যান অব দ্য ম্যাচের স্বীকৃতিটাও পেয়েছেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে এসে তিনি বলেন, ‘আমি খুব খুশি। অনেক বছর ধরে এমন একটি মুহূর্তের অভিজ্ঞতার জন্য আমি কাজ করেছি। ১৪ বছর বয়সে আমি ঘর ছেড়েছি। আমার পরিবার এখানেই থাকে।’

পরশু অ্যাটলেটিকোর জার্সিতে শেষ ম্যাচটা খেলে ফেলেছেন ফার্নান্দো তোরেস। স্পেনকে ইউরো কাপ এনে দেওয়া এই ফরওয়ার্ড পেশাদারি ফুটবলটা শুরু করেছিলেন অ্যাটলেটিকোর জার্সিতে। পরে চলে যান ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব চেলসিতে। চার মৌসুম শেষে সেখান থেকে চলে যান এসি মিলানে। এরপর ঘরের ছেলে আবার ঘরে ফিরে আসেন ২০১৫ সালে।

পরশু গ্রিজম্যানের পরিবর্তে তোরেস মাঠে নামেন ৯০ মিনিটের সময়। ম্যাচ শেষে টুইট করে জানান, ‘আমার ক্যারিয়ারে অনেক ট্রফি জিতেছি। আমি খুব ভাগ্যবান যে, একটা গ্রেট ক্লাবের অংশ হতে পেরেছি এবং স্পেনের সোনালি প্রজন্মের সঙ্গে খেলতে পেরেছি। যারা সবকিছু জিতেছে।’

ইউরোপা লিগ জয়ের পাশাপাশি অ্যাটলেটিকো আছে লা লিগার পয়েন্ট টেবিলের দুই নাম্বার স্থানে। এই মৌসুমে তারা লিগের শেষ ম্যাচটি খেলবে এইবারের বিপক্ষে।

 

মার্শেই ০

অ্যাট. মাদ্রিদ ৩

"