গ্রুপপর্বেই অগ্নিপরীক্ষা অস্ট্রেলিয়ার

প্রকাশ : ১৭ মে ২০১৮, ০০:০০

উপল বড়ুয়া

পৃথিবীর সাত মহাদেশের সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম মহাদেশ হচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। আর দেশের ক্ষেত্রে ষষ্ঠ বৃহত্তম দেশ। অস্ট্রেলিয়া মূলত একটি দ্বীপ মহাদেশ। এশিয়ার দক্ষিণ পূর্বে অবস্থিত দেশটি ওশেনিয়া অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। অস্ট্রেলিয়া গঠিত হয়েছে বিশাল ছয়টি অঙ্গরাজ্য নিয়ে।

কথিত আছে, অষ্টাদশ শতকে ইউরোপের দাগি অপরাধীদের শাস্তি দেওয়ার জন্য দ্বীপ মহাদেশটিতে পাঠানো হতো। সেখান থেকেই গড়ে উঠে অস্ট্রেলিয়ার আধুনিক মানব সভ্যতা। তবে ইউরোপিয়ানদের প্রবেশের ৫০ হাজার বছর আগে দেশটিতে আধিপত্য করত সেখানকার আদিবাসীরা। সপ্তদশ শতক পর্যন্ত বহির্বিশ্বে অপরিচিত অস্ট্রেলিয়াতে প্রথম উপনিবেশ স্থাপন করে ব্রিটিশরা।

অস্ট্রেলিয়া হচ্ছে ক্যাঙ্গারুদের দেশ। ক্রিকেট বিশ্বে অন্যতম পরাশক্তির দেশটি এরই মধ্যে ফুটবলের ক্ষেত্রেও এগিয়ে যাচ্ছে দিন দিন। তাদের ক্লাব ফুটবল খেলতে দলে ভেড়াতে চেষ্টা করছে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার মতো খেলোয়াড়দের। অস্ট্রেলিয়া জাতীয় ফুটবল দলটি পরিচালনা করে সকার ইন অস্ট্রেলিয়া ও ফুটবল ফেডারেশন অস্ট্রেলিয়া দ্বারা। মহাদেশটিতে উল্লেখযোগ্য প্রতিপক্ষ না থাকায় প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল খেলার লক্ষ্যে দেশটি এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন এবং এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের সদস্যপদ গ্রহণ করেছে। সে সঙ্গে ২০০৬ সালে ত্যাগ করেছে ওশেনিয়া ফুটবল কনফেডারেশনের সদস্যপদ।

উপনিবেশ শাসিত দেশটিতে ফুটবল খেলাটি নিয়ে আসে ব্রিটিশরা। ১৯২২ সালে পাশের দেশ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলার জন্য দেশটি জাতীয় ফুটবল দল গঠন করে। তিনটি ম্যাচের টুর্নামেন্টটিতে অস্ট্রেলিয়া দুই ম্যাচ হার ও এক ড্র নিয়ে ঘরে ফিরে। পরবর্তী ৩৬ বছর অস্ট্রেলিয়া নিয়মিতভাবে নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলতে থাকে।

ক্রিকেটে সিদ্ধহস্ত হলেও অস্ট্রেলিয়ার ফুটবল দল শিশু থেকে সাবালক হতে অনেক বছর সময় নিয়েছে। ১৯৫৫ সালে দেশটিকে ৮-০ গোলের বিশাল হার উপহার দেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। কিন্তু সেই ব্যর্থতা ভুলে দিন দিন উন্নতি করতে থাকে ক্যাঙ্গারুরা। ২০০১ সালে আমেরিকানা সামোয়াকে ০-৩১ গোলে বিধ্বস্ত করে দেশটি পেয়েছে তাদের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জয়।

বর্তমানে ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে অস্ট্রেলিয়া আছে ৪০ নম্বরে। ২০০৯ সালে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের স্বীকৃতিস্বরূপ ইউরোপের অনেক ফুটবল পরাশক্তিকে পেছনে ফেলে উঠে এসেছিল ১২ নাম্বার স্থানে। এরপর মুদ্রার অপর পিঠটাও দেখতে হয়েছে সকারুজদের। ২০১৪ সালে তারা নেমে গিয়েছিল ১০২ নাম্বার স্থানে।

আসন্ন রাশিয়া বিশ্বকাপটি হবে অস্ট্রেলিয়ার জন্য ষষ্ঠ বিশ্বকাপ। বিশ্বমঞ্চে তাদের প্রথম পা পড়ে ১৯৭৪ তৎকালীন পশ্চিম জার্মানি বিশ্বকাপে। স্বপ্নের বিশ্বকাপে এসেই প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায় নিতে হয় সকারুজদের। বাছাইপর্ব উতরাতে না পারায় পরের ছয়টি বিশ্বকাপ তাদের থাকতে হয়েছে দর্শক হয়ে। ২০০৬ বিশ্বকাপে কপাল ফিরে ক্যাঙ্গারুদের। ফিরেই প্রথমবারের মতো দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠে চমকে দেয় বিশ্বকে। তবে ২০১০ বিশ্বকাপে তাদের আরেকবার বিদায় নিতে হয় গ্রুপ পর্ব থেকে। ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপেও একই ফল বরণ করতে হয়েছে ক্যাঙ্গারুদের।

বিশ্বকাপে সাফল্য না পেলেও এশিয়া কাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন ক্যাঙ্গারুরা। তিনবার এশিয়া কাপ খেলে দেশটি জাপান-দক্ষিণ কোরিয়াকে টপকে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ২০১৫ সালে। এছাড়া কনফেডারেশন কাপে প্রথমবার খেলতে এসেই রানার্সআপ হয় অস্ট্রেলিয়া। আর ছয়বার ওশেনিয়া কাপে চারবার শিরোপা অর্জন করেছে তারা।

২১তম রাশিয়া বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া খেলবে নেদারল্যান্ডস কোচ ভার্ট ভ্যান মারউইকের অধীনে। দলের আর্মব্যান্ড থাকবে মাইল জেডিনাকের হাতে। অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে সবচেয়ে বেশি ১০৯ বার মাঠে নেমেছেন মার্ক স্চওয়ার্জার। ৫০ গোল করে গোলদাতাদের মধ্যে শীর্ষে আছেন টিম কাহিল।

আসন্ন বিশ্বকাপে ‘সি’ গ্রুপে অস্ট্রেলিয়া এবার সঙ্গী হিসেবে পেয়েছে ফ্রান্স, পেরু ও ডেনমার্ককে। বোঝাই যাচ্ছে গ্রুপপর্বেই অগ্নিপরীক্ষা দিতে হবে অস্ট্রেলিয়াকে। ১৬ জুন কাজান অ্যারেনায় ১৯৯৮ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে সকারুজরা।

এবারের বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া দলের স্পট লাইটটা থাকবে টিম কাহিলের ওপর। ৩৮ বছর বয়সী এই ফরওয়ার্ড এখনো দলের প্রাণভোমরা। এই নিয়ে চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপ খেলবেন কাহিল। এছাড়া জেমি ম্যাকলারেনও হয়ে উঠতে পারেন দলের কার্যকরী অস্ত্র।

সূত্র : উইকিপিডিয়া, ফিফা ডটকম

"