সাফল্য দেখার আশায় মেক্সিকো

প্রকাশ : ১৫ মে ২০১৮, ০০:০০

উপল বড়ুয়া

উত্তর আমেরিকার দেশ মেক্সিকো বিশ্বে বহুল পরিচিত মাদক ব্যবসার কারণে। কেবল মাদক ব্যবসায় নয়, মানব সভ্যতার অনন্য নিদর্শন মায়া ও অ্যাজটেক সভ্যতার দেশটি ভৌগোলিক কারণে নানাভাবে উল্লেখযোগ্য। মেক্সিকোর উত্তর সীমান্তে অবস্থিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ ও পশ্চিমে প্রশান্ত মহাসাগর, দক্ষিণ-পূর্বে গুয়াতেমালা এবং ক্যারিবিয়ান সাগর। আয়তনে উত্তর আমেরিকার পঞ্চম ও বিশ্বের চতুর্দশ দেশটি একসময় ছিল স্পেনের উপনিবেশ। ১৫২১ সালে স্প্যানিশরা মেক্সিকোতে ‘নিউ স্পেন’ গঠন করেছিল। পরে ১৮২১ সালে স্পেনের হাত থেকে এক স্বাধীনতা যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা লাভ করে মেক্সিকো।

উত্তর আমেরিকার ফুটবল পরাশক্তি মেক্সিকো বিশ্বেও একটি সমীহ জাগানিয়া দল। কনকা কাফ সদস্য মেক্সিকোর প্রতিনিধিত্বকারী দলের নাম ‘মেক্সিকো জাতীয় ফুটবল দল।’ তাদের জাতীয় স্টেডিয়ামের নাম স্টাডিও অ্যাজটেক।

মেক্সিকো প্রথম বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করে ১৯৩০ সালে। ফিফার আমন্ত্রণে খেলতে এসেছিল দেশটি। আসন্ন রাশিয়া বিশ্বকাপ দিয়ে তারা ১৭তম বিশ্বকাপ খেলবে। ‘এফ’ গ্রুপে মেক্সিকো এবার প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়েছে জার্মানি, সুইডেন ও দক্ষিণ কোরিয়াকে। ১৭ জুন মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে গত আসরের চ্যাম্পিয়ন জার্মানির বিপক্ষের ম্যাচ দিয়েই বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে দ্যা টৃরা।

প্রথম বিশ্বকাপে মেক্সিকো ছিটকে পড়ে গ্রুপ পর্ব থেকে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিশ্বকাপটি বাছাইপর্ব উতরাতে না পারার কারণে খেলা হয়টি তাদের। এরপর ১৯৫০-৬৬ পর্যন্ত বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করলেও দৌড় শেষ করে প্রথম রাউন্ডেই। ১৯৭০ বিশ্বকাপে মেক্সিকো প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনাল খেলে। পরের বিশ্বকাপে আরেকবার বাদ পড়ে দেশটি। ১৯৭৮ বিশ্বকাপে বাছাইপর্ব পার হয়ে এলেও আরেকবার গ্রুপ পর্ব থেকে থেকেই ঘরে ফিরে মেক্সিকো।

১৯৮২ বিশ্বকাপে অনুপস্থিত মেক্সিকো দ্বিতীয়বারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে ১৯৮৬ বিশ্বকাপে। ১৯৯০ সালে বিশ্বকাপে নিষিদ্ধ হওয়ায় খেলা হয়নি উত্তর আমেরিকার দেশটির। এরপর তারা সগর্বে ফিরে আসে ১৯৯৪ সালে। এরপর থেকে প্রতিটি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করে মেক্সিকো। ১৯৯৪-২০১৪ পর্যন্ত টানা ছয় বিশ্বকাপে দ্বিতীয় রাউন্ডেই অভিযান শেষ করে দ্যা টৃরা।

বিশ্বকাপ পরিসংখ্যান তেমন উজ্জ্বল না হলেও ফিফা কনফেডারেশন কাপে বড় সাফল্য আছে মেক্সিকোর। ১৯৯৫ সালে প্রথমবার এসেই সেমিফাইনাল খেলে দেশটি। ১৯৯৯ সালে চ্যাম্পিয়নও হয় তারা। গতবারেও কনফেডারেশন কাপের দৌড় শেষ করেছে সেমিফাইনালে।

তবে দেশটি বড় সমীহ আদায় করেছে কনকা কাপে। সাতবারের কনকা কাপ চ্যাম্পিয়ন তারা। এছাড়া কোপা আমেরিকাতেও বড় সাফল্য আছে দেশটির। লাতিন আমেরিকা থেকে আমন্ত্রণ পেয়ে মেক্সিকো প্রথম কোপা কাপ খেলে ১৯৯৩ সালে। লাতিন আমেরিকার বড় দলগুলো সেবার নাকানি-চুবানি খাইয়ে প্রথমবারেই চ্যাম্পিয়ন হয় তারা। এই পর্যন্ত মোট দশবার কোপা কাপে অংশগ্রহণ করেছে মেক্সিকো। এর মধ্যে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে দুইবার ও একবার রানার্সআপ। এছাড়া ২০১২ সালে অলিম্পিক গেমসের শিরোপাও ঘরে তুলেছে তারা।

বর্তমানে ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে মেক্সিকো আছে ১৫তম স্থানে। একসময় র‌্যাঙ্কিংয়ে সর্বোচ্চ ৪ নাম্বারে থাকা দেশটি ২০১৫ সালে ৪০ নাম্বারে নেমে গিয়েছিল। মেক্সিকো প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে গুয়েতেমালার বিপক্ষে। দেশটি তাদের ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জয় পেয়েছে বাহামাসের বিপক্ষে। ম্যাচটি তারা জিতেছিল ১৩-০ গোলে। বড় হারটি তারা উপহার পেয়েছে ইংল্যান্ড থেকে। ১৯৬১ সালে লন্ডনে ০-৮ গোলে হেরেছিল দ্যা টৃরা।

আসন্ন বিশ্বকাপে মেক্সিকো খেলবে কোচ হুয়ান কার্লোস ওসোরিওর অধীনে। আর্মব্যান্ড থাকবে আন্দ্রেস গুয়ার্দাদোর হাতে। মেক্সদের হয়ে জাতীয় দলের জার্সিতে সবচেয়ে বেশি ১৭৭ বার মাঠে নেমেছেন ক্লদিও সুয়ারেজ। সর্বোচ্চ গোল করেছেন হাভিয়ের হার্নান্দেজ। বর্তমান ওয়েস্ট হামের এই স্ট্রাইকার জাতীয় দলের হয়ে ৪৯ গোল করেছেন।

রাশিয়া বিশ্বকাপে মেক্সিকোকে সাফল্যটা এনে দিতে পারেন হার্নান্দেজ। স্পটলাইটটাও থাকবে এই সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড স্ট্রাইকারের ওপর।

"