প্রকৃতি ও ফুটবলের দেশ পেরু

প্রকাশ : ১৪ মে ২০১৮, ০০:০০

উপল বড়ুয়া

লাতিন আমেরিকার দেশ পেরু বিশ্বে বিখ্যাত হয়ে আছে রেইনফরেস্ট ও মাচুপিচুর জন্য। এছাড়া বিশ্বের সর্ববৃহৎ আমাজান জঙ্গলের কিছু অংশও পড়েছে দেশটিতে। ইকুয়েডর ও বলিভিয়ার মাঝের দেশ পেরুতে দেখার মতো কী নেই! পবিত্র উপত্যকা, কলোনিয়াল সিটি কুস্কো, প্রতœতাত্ত্বিক ভূমি আর মহাসাগর অববাহিকা অবস্থিত রাজধানী লিমা। চোখজুড়ানো সৌন্দর্যের জন্য ভ্রমণপিয়াসীদের খুব পছন্দের দেশ হচ্ছে পেরু। এছাড়া তার লাতিন সৌন্দর্যের ফুটবল তো আছেই।

পেরুতে ফুটবলটা আসে ইংরেজদের হাত ধরে উনিশ শতকে। তখন দেশটি ছিল ব্রিটিশদের উপনিবেশ। সমুদ্রে ভেসে ভেসে যখন ইংরেজরা দেশটিতে আসে তখন সঙ্গে নিয়ে আসে ফুটবলও। ইংরেজদের হাত থেকে দেশটি স্বাধীনতা লাভ করে ১৮২৪ সালে। কিন্তু তখনো দেশটিতে ইংরেজদের আধিপত্য ছিল। ১৮৫৯ সালে ফুটবলের পাশাপাশি দেশটিতে ইংরেজরা গঠন করে লিমা ক্রিকেট ক্লাব।

পরে ১৯১২ সালে স্বাধীন পেরু ফুটবলকে উন্নতির লক্ষ্যে শুরু করে পেরুভিয়ান ফুটবল লিগ। লস ইন্কাসরা (পেরুর ফুটবল দলের ডাকনাম) ফুটবলে আন্তর্জাতিকভাবে পা রাখে ১৯২৭ সালে। ১০তম দেশ হিসেবে পেরু কনমেভল অঞ্চল থেকে সদস্যপদ লাভ করে। পেরুর ফুটবলের স্বর্ণযুগ ধরা হয় ১৯৩০-৭০ অধ্যায়কে। এই সময় লাল-সাদার দেশটি ঘরের মাঠ স্টাদিও ন্যাশিওনালে একের পর এক ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচ খেলতে থাকে।

১৯৩০ সালে যখন ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হয় তখন আমন্ত্রিত দেশ হিসেবে বিশ্বকাপ খেলতে আসে দেশটি। পরে ১৯৫৮ সাল বিভিন্ন টুর্নামেন্ট খেললেও বাছাইপর্ব পার হয়ে বিশ্বকাপে আসতে পারেনি পেরুভিয়ানরা। দ্বিতীয়বার তারা বিশ্বমঞ্চে আবির্ভূত হয় ১৯৭০ সালে। এসেই দেশটি বিশ্বকে কাঁপিয়ে দিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলে দেশটি। পরের বিশ্বকাপটা আসতে আরেকবার ব্যর্থ হওয়া দেশটি তৃতীয়বার বিশ্বকাপ খেলে ১৯৭৮ সালে। সেবারও তারা নিজেদের জানান দিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ড খেলে। পরে ১৯৮২ সালে চতুর্থ বিশ্বকাপ খেলতে এসে গ্রুপ পর্যায় থেকেই ঘরে ফিরে যায় ইন্কাসরা। এবার আসন্ন ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে কনমেভল অঞ্চল থেকে বাছাই পর্ব হয়ে পঞ্চমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলবে দক্ষিণ আমেরিকার দেশটি।

বিশ্বকাপে পেরুর হয়ে প্রথম গোল করেন লুইস ডি সুজা ফেরেইরা। ১৯৩০ সালে ১৪ জুলাই প্রথম বিশ্বকাপে রোমানিয়ার বিপক্ষে গোল করেন এই পেরুভিয়ান কিংবদন্তি ফুটবলার।

বিশ্বকাপে তেমন বড় কোনো সাফল্য না পেলেও দুইবার কোপা আমেরিকার শিরোপা ঘরে তুলেছে দেশটি। ১৯২৭ সালে প্রথমবার কোপা আমেরিকা খেলে পেরু। তবে চ্যাম্পিয়ন হতে বেশি দিন সময় নেয়নি তারা। ১৯৩৯ ও ১৯৭৫ সালে কোপা চ্যাম্পিয়ন হয় ইন্কাসরা। এছাড়া ২০০০ সালে প্রথমবারের মতো কনকাকাফ খেলতে এসেই সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে তারা।

বর্তমানে ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে পেরু আছে ১১ নম্বর স্থানে। গতবছর দেশটি ছিল ১০ নম্বরে। যেটি র‌্যাঙ্কিংয়ে তাদের সর্বোচ্চও। তবে ২০০৯ সালে র‌্যাঙ্কিংয়ে ৯১ নম্বরেও নেমে গিয়েছিল পেরুভিয়ানরা।

আসন্ন বিশ্বকাপে পেরু খেলবে কোচ রিকার্ডো গার্সিয়ার অধীনে। আর্মব্যান্ড থাকবে পাওলো গুয়েরোর হাতে। জাতীয় দলে সবচেয়ে বেশি ৩২ গোলও তার। পেরুর জাতীয় দলের জার্সিতে সবচেয়ে সর্বোচ্চ ১২৮ ম্যাচ খেলেছেন রবার্তো পালাসিওস।

বিশ্বকাপে পেরু ‘সি’ গ্রুপে প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়েছে ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া ও ডেনমার্ককে। ১৬ জুন মরদোভিয়া অ্যারেনায় ডেনমার্কের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে পেরু বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে।

"