বাংলাদেশে আসছেন গ্রিনিচ

প্রকাশ : ১৩ মে ২০১৮, ০০:০০

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বাংলাদেশ ক্রিকেট দল প্রথমবার আইসিসিতে অংশ নিয়েছিল ১৯৭৯ সালে। সেবার ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে একটা প্রশ্নই ঘুরে ফিরে আসছিল, কবে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে খেলবে বাংলাদেশ? প্রশ্নের উত্তরটি পেতে অপেক্ষা করতে হয় ১৮ বছর। আকরাম খানের নেতৃত্বে ১৯৯৭ সালের আইসিসি ট্রফি জিতে ১৯৯৯ সালে বিশ্বকাপ খেলতে যায় টাইগাররা। বাংলাদেশের ক্রিকেট যে আজকে এত দূর এগিয়েছে তার পেছনের বড় কারিগর ছিলেন ক্যারিবিয়ান কিংবদন্তি গর্ডন গ্রিনিচ। মূলত তার হাত ধরেই প্রথমদিকে সাফল্য পেতে থাকে বাংলাদেশের ক্রিকেট।

আগামীকাল সন্ধ্যায় গ্রিনিচ আরেকবার আসছেন বাংলাদেশে। তবে এবার কোনো ক্রিকেটীয় কারণে নয়। বিসিবির আমন্ত্রণে গ্রিনিচ আসছেন তার সাবেক শিষ্য ও সহকর্মীদের সঙ্গে দেখা করতে। পাঁচ দিনের এই সফরে তিনি কথা বলবেন তার ক্রিকেটীয় অভিজ্ঞতা, বাংলাদেশের সঙ্গে তার সম্পর্ক ও অতীত স্মৃতি নিয়ে। গ্রিনিচের এই সফরের গুরুত্বপূর্ণ অংশটা থাকবে ১৪ মে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় হোটেল সোনাগাঁওয়ে। বিসিবির আয়োজিত অনুষ্ঠানটিতে তিনি সাবেক ও বর্তমান খেলোয়াড় ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে। অনুষ্ঠানটির অন্যতম উদ্যোক্তা বিসিবি পরিচালক এনায়েত হোসেন সিরাজ সাংবাদিকদের বলেন, ‘গ্রিনিচ খুব গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সম্পৃক্ত ছিলেন বাংলাদেশের ক্রিকেটের সঙ্গে। ১৯৯৭-৯৯ সময়ে তার অধীনে যারা খেলেই সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ। এবার তিনি তাদের সঙ্গে দেখা করতে চান।’

বাংলাদেশের ক্রিকেটের সামনে বিরাট সুযোগ হিসেবে এসেছিল ১৯৯৪ সালে কেনিয়ায় অনুষ্ঠিত আইসিসি ট্রফি। কিন্তু অল্পের জন্য সেই সুযোগটি হাতছাড়া হয়ে যায় টাইগারদের। তবে ব্যর্থতাটা তারা ঢাকে ১৯৯৭ সালে মালয়েশিয়ায় আইসিসি ট্রফিতে। সেই কঠিন পরীক্ষায় বাংলাদেশকে পাস করান গ্রিনিজ। ১৯৯৬ সালের সেপ্টেম্বরে মালয়েশিয়ার এসিসি ট্রফিতে চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ। এসিসি ট্রফির সাফল্যের পরপরই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড পরিকল্পনা আঁটতে থাকে বিশ্বকাপ খেলার জন্য। সে লক্ষ্যে বোর্ড গ্রিনিচকে প্রধান কোচের দায়িত্ব দিয়ে নিয়ে এসেছিলেন বাংলাদেশে। গ্রিনিচ অসাধারণ দক্ষতায় বাংলাদেশকে জিতিয়েছেন আইসিসি ট্রফি। এই সাফল্যে পুরো দল ও কোচকে সরকারিভাবে পুরস্কৃত করা হয়। গ্রিনিচকে দেয়া হয় বাংলাদেশের সম্মানসূচক নাগরিকত্ব। কিন্তু তার শেষ অভিজ্ঞতাটা ভালো ছিল না।

১৯৯৯ সালে স্বপ্নের বিশ্বকাপে বাংলাদেশ জয় পায় পাকিস্তানের বিপক্ষে। কিন্তু এই ঐতিহাসিক জয়ের পরপরই গ্রিনিচের হাতে তুলে দেয়া হয় পদ থেকে অব্যাহতির চিঠি। সে সময় ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে তার কিছু মনোমালিন্য ছিল। এবার সেই মনোমালিন্য ভুলে ভালবাসার প্রকাশ ঘটাতেই বাংলাদেশে আসছেন বাংলাদেশে।

 

"