সেভিয়াকে রুখে দিয়ে সেমিতে বায়ার্ন

প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০

ক্রীড়া ডেস্ক

প্রথমবারের মতো উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে উঠার সুযোগ ছিল সেভিয়ার সামনে। ফিরতি লেগে ১-০ গোলে জিততে পারলেই চলত স্প্যানিশ ক্লাবটির। কিন্তু বায়ার্ন মিউনিখ নিজেদের ঘরের মাঠ অ্যারিয়েঞ্জ অ্যারেনায় সেই সুযোগটি দেয়নি তাদের। ফিরতি লেগে গোলশূন্যতে ড্র করায় কোয়ার্টার ফাইনালেরই ইতি টানতে হয়েছে ভিনচেঞ্জো মনতেল্লার শিষ্যদের।

এর আগে ঘরের মাঠ র‌্যামন সানচেজে আত্মঘাতী গোলের কারণে ২-১ গোলে হেরে গিয়েছিল সেভিয়া। পরশু তাই জয়ের বিকল্প ছাড়া কোনো পথ খোলা ছিল না তাদের জন্য। সেই লড়াইতেও কোনো খাদ রাখেনি বেন ইয়াদ্দের, এভার বানেগারা। কিন্তু পেরে ওঠেনি অভিজ্ঞ বায়ার্নের সঙ্গে। পরশুর ড্রয়ে দুই লেগ মিলে ২-১ গোলে এগিয়ে থেকে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করলো ইয়ুপ হেইঙ্কসের শিষ্যরা। এই নিয়ে গত ৯ বছরে সপ্তমবারের মতো সেমিফাইনালে উঠল জার্মান জায়ান্টারা। সেই সঙ্গে এটি হবে তাদের ১১তম সেমিফাইনাল। সামনে কেবল ১৩ বার সেমিতে খেলা রিয়াল মাদ্রিদ।

বায়ার্ন সেমিতে ওঠায় চ্যাম্পিয়ন্স লিগের চার দল চূড়ান্ত হয়ে গেছে এরই মধ্যে। শুক্রবারের ‘ড্র’তে জানা যাবে যাবে হেইঙ্কসের দল কাদের সঙ্গে সেমিতে লড়বে। আর ২০১০ সালের পর এই প্রথম স্প্যানিশ লিগের একটি দল চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনাল খেলবে।

ম্যাচের প্রথমার্ধ থেকেই গোলের জন্য মরিয়া হয়ে খেলতে থাকা সেভিয়া কয়েকবার চমৎকার আক্রমণ শানালেও বায়ার্ন রক্ষণভাগে কোনো ধরনের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারেনি। ম্যাচের শেষ পর্যন্ত দুই দল পাল্লা দিয়ে লড়েছে। তবে বল দখলের দিক থেকে ফিফটি-ফিফটি ছিল দুই দলই। স্বাগতিক বায়ার্ন গোলে শট নিয়েছি ১৮ বার। যার মধ্যে টার্গেটে ছিল ছয়টি। অন্য পাশে সেভিয়া ১০টি শট নিলেও একটিও টার্গেটে ছিল না। তবে গোল না পেলেও ম্যাচের যোগ করা সময়ের শেষদিকে লাল কার্ড দেখেছে আর্জেন্টাইন ফরোয়াড অ্যাঞ্জেল কোরেয়া। আর পুরো ম্যাচে দুর্দান্ত খেলে ম্যান অব দ্য ম্যাচ হয়েছেন বায়ার্নের ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার রাফিনহা।

ঘরের মাঠে অপ্রতিদ্বন্দ্বী বায়ার্ন সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এই নিয়ে অপরাজিত থাকল ২০ বার। সেই ২০১৪ সালে পর এই প্রথম চ্যাম্পিয়নস লিগের প্রতিযোগিতায় কোনো স্কোর করতে পারেনি জার্মানির শ্রেষ্ঠ ক্লাবটি। জার্মানদের হয়ে সবচেয়ে বেশি চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালেও খেলেছে তারা।

দল ড্র করার পরও ব্যর্থ হয়েছে সেমিফাইনালে উঠতে। স্বাভাবিকভাবেই হতাশ হওয়ার কথা কোচ মনতেল্লার। তবে তিনি পজিটিভই আছেন। ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এসে বললেন, ‘আমরা খুব ভালো একটা ম্যাচ খেলেছি। পেয়েছিল। এটা খুব প্রতিযোগিতপূর্ণ ম্যাচ ছিল। আমি আমার দল নিয়ে গর্বিত।’

 

"