রূপকথা লেখা হলো না জুভেন্টাসের

রিয়াল মাদ্রিদ ১ : ৩ জুভেন্টাস

প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০

ক্রীড়া ডেস্ক

গল্পটা বুধবারের। স্টাডিও অলিম্পিকোতে বার্সেলোনাকে হারিয়ে প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছিল রোমা। সেই সঙ্গে ইতালিয়ান ক্লাবটি নিশ্চিত করেছে চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনাল। সেদিন অবিশ্বাস্য এই জয়ের নায়ক ছিলেন ড্যানিয়েল ডি রসি। রূপকথার গল্পটা কিভাবে লিখতে হয় তার চেয়ে আর কে বা বেশি জানবে এই মুহূর্তে! তাই হয়তো প্রত্যাবর্তনের গোপন বীজমন্ত্রটা জানতে স্বদেশি এই রোমান গ্লাডিয়টরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে থাকতে পারেন জিয়ানলুইজি বুফন। কারণ সেমিফাইনালে যাওয়ার জন্য ফিরতি লেগে ‘অলৌকিক’ কিছু ঘটাতে হতো জুভেন্টাসকে। কিন্তু মারিও মানজুকিচের জোড়া গোলের সুবাদে ৩-১ গোলে জয় পাওয়ার পরও সেমিফাইনালের স্বপ্ন বিসর্জন দিতে হলো তুরিনের বুড়িদের।

পরশু উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ কোয়ার্টার ফাইনালের ফিরতি লেগে রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে দুর্দান্ত কামব্যাকের গল্পটা প্রায় লিখে ফেলেছিল জুভেন্টাস। প্রবাদে আছে, ‘শেষ ভালো যার, সব ভালো তার।’ সেই শেষটা ভালো হলো না জুভদের। ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে বিশ্বাসঘাতকতা করে বসল ‘ভাগ্য।’ আশা জাগিয়েও সেমিফাইনালে যাওয়া হলো না ম্যাসিমিলিয়ানো অ্যালেগ্রির শিষ্যদের।

দল জয় পেয়েছে। কিন্তু জয়ের বরমাল্যটা গলায় পরা হলো না। উল্টো হারানোর বেদনায় পুড়তে হলো ইতালিয়ান জায়ান্টদের। অ্যাওয়ে গোলের সমীকরণে স্বপ্নভঙ্গ হলো জুভেন্টাসের। আর দুই লেগ মিলে ৪-৩ গোলে এগিয়ে থেকে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করলো জিনেদিন জিদানের শিষ্যরা। এর আগে তুরিনের প্রথম লেগে ৩-০ গোলের জয়ে সেমিফাইনালে এক পা দিয়ে রেখেছিল রিয়াল। তাই শেষ চারে যেতে হলে ফিরতি লেগের মহরণটা ৪-০ গোলে জিততে হতো জুভেন্টাসকে। চার গোলের ব্যবধানে জিততে না পারলেও ৬০ মিনিটের মধ্যে তিন গোল দিয়ে ব্যবধানটা ৩-৩ নিয়ে আনে জুভরা। তবে শেষ রক্ষাটা হলো না। উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচের যোগ করা সময়ের শেষ মুহূর্তে সব হিসাব-নিকাশ পাল্টে দিয়েছে একটা ‘বিতর্কিত’ পেনাল্টি।

পরশু সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে খেলতে নেমে শুরু থেকেই স্বাগতিকদের চেপে ধরে অ্যালেগ্রির দল। ম্যাচের ২ মিনিটের মাথায় গিয়ের্গিও কিয়েল্লিনির আলতো করে এগিয়ে দেয়া বলে জুভদের এগিয়ে দেন মারিও মানজুকিচ। পরের গোলটিও তার। ৩৭ মিনিটে হেড থেকে গোল করে জিদানের কপালে ভাঁজটা বাড়িয়ে দেন এই ক্রোয়েশিয়ান ফরোয়ার্ড। দ্বিতীয়ার্ধে পর দুই দলই মুহুর্মুহু আক্রমণ শানাতে থাকে প্রতিপক্ষের শিবিরে। দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও স্বাগতিকরা আক্রমণ চালিয়ে গেছে বারবার। অন্যদিকে জুভেন্টাসের সামনে তখন আরেকটি গোলের প্রতীক্ষা। নিয়মিত অধিনায়ক সার্জিও রামোসকে ছাড়া ছন্নছাড়া মাদ্রিদ রক্ষণভাগের কাছ থেকে সেই সুযোগটা আদায় করে নিতে ভুল করেননি জুভরা। ৬০ মিনিটের সময় রিয়াল গোলরক্ষক কেইলর নাভাসের ভুলের মাশুল গুনতে হয়েছে স্বাগতিকদের। শূন্য গোলপোস্ট পেয়ে বল জালে জড়াতে ভুল করেননি ব্লেজ মাতুইদি।

কিন্তু ফুটবল বিধাতা যেন এইদিন অন্যকিছু লিখে রেখেছিল। ম্যাচের তখন নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষ। যোগ করা সময়ের শেষ মিনিটে রিয়ালের শেষ আক্রমণটি আর রুখে দিতে গিয়ে ভুল করে ফেলেন মেধি বেনাশিয়া। ডি-বক্সের ভেতর লুকাস ভাসকুয়েজকে বাধা দিলে পেনাল্টি দিয়ে বসেন রেফারি। আর তাতেই কপাল পুড়ে জুভদের। পেনাল্টি থেকে গোল করে রিয়ালকে সেমিতে তুলে দেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। এই নিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে টানা ১১ ম্যাচে গোল করল সিআর সেভেন। সেই সঙ্গে ১৫ গোল নিয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতাদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন এই পর্তুগিজ সেনসেশন। চ্যাম্পিয়নস লিগের ১৫০তম ম্যাচটাও খেলে ফেললেন পরশু।

পেনাল্টিটি মেনে নিতে পারেননি বুফন। রেফারির সঙ্গে বচসাতে জড়িয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে প্রথম লাল কার্ড দেখতে হয়েছে তাকে। এর আগে দুর্দান্ত কয়েকটি সেভ করে পুরো ম্যাচের হিরো ছিলেন তিনি। ম্যাচ শেষেও রেফারির এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করতে ছাড়েননি তিনি, ‘সিদ্ধান্তটি ভুল ছিল। রেফারি একজন হৃদয়হীন মানুষ।’

 

"