বগুড়ায় ফিরেই মুশফিকের শতক

প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০

ক্রীড়া প্রতিবেদক

সবশেষ ২০১৫ সালের শেষ দিকে জাতীয় লিগে বগুড়ায় খেলেছিলেন মুশফিকুর রহিম। দীর্ঘদির পর নিজ শহরে ফিরলেন মুশফিক। ঘরের মাঠে প্রত্যাবর্তনের উপলক্ষটা তিনি রাঙালেন হার না মানা এক সেঞ্চুরিতে। মুশফিকের সেঞ্চুরির সুবাদে বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগে চতুর্থ রাউন্ডে ম্যাচ বাঁচানোর লড়াই করছে উত্তরাঞ্চল।

কাল বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে তৃতীয় দিন শেষে ৭ উইকেটে ২৮৬ রান করেছে উত্তরাঞ্চল। এরপরও ফলোঅনের শঙ্কায় আছে মুশফিকরা। আছে হারের শঙ্কাও। এর আগে প্রথম ইনিংসে ৫২৯ রানের পাহাড় গড়েছিল মধ্যাঞ্চল। দিনশেষে মুশফিক অপরাজিত ১৯৯ বলে ১০১ রানে। উত্তরাঞ্চলের ম্যাচ বাঁচানোর আশাও টিকে তার ব্যাটেই।

মধ্যাঞ্চলকে জবাব দিতে নেমে দিনের শুরুতে উত্তরাঞ্চল হারায় অভিজ্ঞ ওপেনার জুনায়েদ সিদ্দিককে। দ্বিতীয় উইকেটে ৭২ রানের জুটি গড়েন নাজমুল হোসেন শান্ত ও মিজানুর রহমান। শান্তর ব্যাটে ছিল ওয়ানডের সুর। তবে ইনিংস বড় করতে পারেনি। ৩৬ বলে ৯ চারে ৪৫ করে বোল্ড হন মোশাররফ হোসেনের বাঁ-হাতি স্পিনে।

থিতু হয়ে যাওয়া মিজানুরকেও ৩২ রানে ফেরান মোশাররফ। উত্তরাঞ্চলকে ভুগতে হয় চোটের কারণে অধিনায়ক নাঈম ইসলাম ব্যাট করতে না পারায়। প্রমোশন পেয়ে সুবিধা করতে পারেননি সানজামুল ইসলাম ও ধীমান ঘোষ। ১২৪ রানে হারায় তারা ৫ উইকেট। মুশফিকের লড়াই তখন শুরু হয়ে গেছে। ষষ্ঠ উইকেটে সঙ্গী পান আরিফুল হককে। ৮৩ রানের জুটিতে দলকে টানেন দুজন।

৪২ রানে আরিফুলকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন লেগ স্পিনার তানবীর হায়দার। পরে ফরহাদ রেজাও ফিরেছেন দ্রুত। মুশফিককে সঙ্গ দেন এরপর তাইজুল ইসলাম। অষ্টম উইকেটে দুজনের অবিচ্ছিন্ন জুটির রান ৬০।

মুশফিক সেঞ্চুরি পূর্ণ করেছেন দিনের শেষ সময়ে। ১০১টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচে এটি তার মাত্র নবম সেঞ্চুরি। টেস্টের বাইরে ৪১টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচে সেঞ্চুরি এটি চতুর্থ। আগের ছিল বিসিএলেই, ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে দক্ষিণাঞ্চলের হয়ে বিকেএসপিতে।

সিলেটে প্রথম ইনিংসে ৩০০ রানে গুটিয়ে গেছে পূর্বাঞ্চল। ১০৩ রানের লিড পাওয়া দক্ষিণাঞ্চল বৃহস্পতিবার তৃতীয় দিন শেষ করেছে ৩ উইকেটে ১৪২ রানে। শেষ দিনের আগে ৭ উইকেট হাতে নিয়ে দক্ষিণাঞ্চল এগিয়ে ২৪৫ রানে।

৩ উইকেটে ৯৫ রান নিয়ে দিনের খেলা শুরু করেছিল পূর্বাঞ্চল। কামরুল রাব্বির পেস, অভিজ্ঞ বাঁ-হাতি স্পিনার আবদুর রাজ্জাক ও তরুণ অফ স্পিনার নাঈম হাসানের ত্রিমুখী আক্রমণে পূর্বাঞ্চল আরো তিন উইকেট হারায় দ্রুতই। ৬০ রান নিয়ে দিন শুরু করা লিটন দাস ফেরেন ৭৫ রানে। ১২৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে পূর্বাঞ্চল ছিল ফলোঅনের শঙ্কায়।

জাকের ও সাইফ উদ্দিনের প্রতিরোধ সেখান থেকেই। সপ্তম উইকেটে ১১৪ রানের জুটি গড়েন দুজন। উইকেট ধরে রাখার পাশাপাশি শটও খেলেছেন দুজন। নিজের পঞ্চম প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলতে নামা জাকেরকে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন সেই রাব্বিই। ৬ চার ও ৪ ছক্কায় এই কিপার ব্যাটসম্যান করেন ৭৬ রান। এরপর লোয়ার অর্ডারদের নিয়ে দলকে টানেন সাইফ উদ্দিন। নবম উইকেটে আবু হায়দারকে নিয়ে গড়েন ৪১ রানের জুটি। তাতে আবু হায়দারের অবদান ছিল ১ রান।

সাইফকে থামাতে পারেনি দক্ষিণাঞ্চল। তবে আরেক পাশ থেকে শেষ দুটি উইকেট তুলে নেন আবদুর রাজ্জাক। ৯ চার ও ২ ছক্কায় ৭৫ রানে অপরাজিত থাকেন সাইফ। ১০৩ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতেই দক্ষিণাঞ্চল হারায় এনামুল হককে। শূন্য রানে তাকে বোল্ড করে দেন আবু হায়দার।

তবে দ্রুত রান তোলায় ঠিকই সফল হয় দক্ষিণাঞ্চল। তিনে নেমে ৩৬ বলে ৪২ করেন ফজলে রাব্বি। ওপেনার শাহরিয়ার নাফীস ফেরেন ২৪ রানে। চতুর্থ উইকেটে ৬৫ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে দিন শেষ করেন তুষার ইমরান ও সৌম্য সরকার। প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান তুষার এদিন অপরাজিত ৪৬ রানে। ৩ চার ও ১ ছক্কায় ২৯ রানে অপরাজিত সৌম্য।

 

"