আবাহনীর নাটকীয় হার

প্রকাশ : ১১ মার্চ ২০১৮, ০০:০০

ক্রীড়া প্রতিবেদক

ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের নবম রাউন্ডে ৩ রানের নাটকীয় জয় পেয়েছে প্রাইম দোলেশ্বর। কাল ফরহাদ রেজার অলরাউন্ডিং নৈপুণ্যে আবাহনীকে হারিয়েছে দোলেশ্বর। ২৩২ পুঁজি নিয়েও কি দুর্দান্তভাবেই না আগলে রাখল তারা। সহজ লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের এক বল বাকি থাকতেই ২২৯ রানে গুটিয়ে যান মাশরাফিরা।

মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ৩৯ রানে ৩ উইকেট হারানো দোলেশ্বর প্রতিরোধ গড়ে ফজলে মাহমুদ ও ফরহাদ হোসেনের ব্যাটে। দুইজনে চতুর্থ উইকেটে গড়েন ১৩২ রানের জুটি। অভিষিক্ত সন্দিপন রায় ভাঙেন জুটি। ফিরিয়ে দেন ৭টি চারে ৬৮ রান করা মাহমুদকে। দুটি চারে ৬৩ রান করা ফরহাদকে বিদায় করেন মনন শর্মা। জুটি ভাঙার পর দ্রুত উইকেট হারানো দোলেশ্বর লড়াইয়ের পুঁজি গড়ে অধিনায়ক রেজার ব্যাটে। এই অলরাউন্ডার ২৬ বলে দুটি ছক্কায় করেন ২৮ রান। ৪৪ রানে ৪ উইকেট নিয়ে আবাহনীর সেরা বোলার মনন। দুটি করে উইকেট নেন আরিফুল ও মাশরাফি বিন মর্তুজা।

রান তাড়ায় শুরু থেকে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায় আবাহনী। থিতু হয়ে ফিরেন ওপেনার এনামুল হক। পঞ্চাশ ছুঁঁয়ে ফিরে যান নাসির হোসেন। অধিনায়ক ৭৯ বলে করেন ৫৩ রান। নিয়মিত উইকেট পতনের মধ্যে দলকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন মোহাম্মদ মিঠুন। ৬১ বলে ৬০ রান করা উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যানকে বোল্ড করে বিদায় করে দেন রেজা।

মিঠুনের বিদায়ের সময় জয়ের জন্য আবাহনীর প্রয়োজন ছিল ১০ বলে ২০ রান। শেষ ২ বলে ৪। দুটি ছক্কা ও একটি চারে ২১ রান করা আরিফুলকে বিদায় করে দলকে দারুণ জয় এনে দেন আরাফাত সানি। ৯ ম্যাচে দ্বিতীয় হারের স্বাদ পেল আবাহনী। সমান ম্যাচে পঞ্চম জয় পেল দোলেশ্বর।

ঢাকা লিগের অন্য ম্যাচে ইউসুফ পাঠানের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে লড়াইয়ে পুঁজি গড়েছিল প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব। জহুরুল ইসলামের সেঞ্চুরি ও আসিফ আহমেদের ক্যারিয়ার সেরা ব্যাটিংয়ে দারুণ এক জয় তুলে নিয়েছে শিরোপাধারী গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স। ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের নবম রাউন্ডের ম্যাচে ৭ উইকেটে জিতেছে জহুরুলের দল। ২৫৮ রানের লক্ষ্য ৭ বল বাকি থাকতে পেরিয়ে যায় তারা।

বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে শনিবার টস হেরে ব্যাট করতে নেমে দ্বিতীয় ওভারে মেহরাব হোসেন জুনিয়রের উইকেট হারায় প্রাইম ব্যাংক। প্রথম চার ব্যাটসম্যানের বাকি তিনজনই ফিরেন থিতু হয়ে। ৩৭তম ওভারে ১৮৩ রানে ৭ উইকেট হারানো দলটি আড়াইশ পার হয় ইউসুফের দৃঢ়তায়। ভারতীয় এই ব্যাটসম্যান ৬০ বলে চারটি করে ছক্কা-চারে খেলেন অপরাজিত ৭২ রানের ঝড়ো ইনিংস। ৫৩ রানে ৪ উইকেট নিয়ে গাজীর সেরা বোলার অফ স্পিনার নাঈম হাসান।

রান তাড়ায় ৬৩ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া গাজীকে পথ দেখান জহুরুল ও আসিফ। সেঞ্চুরি ছোঁয়ার পর আহত হয়ে মাঠ ছাড়েন ম্যাচ সেরা জহুরুল। অধিনায়ক ১১৩ বলে ৮টি চার ও তিনটি ছক্কায় করেন ১০৩ রান। ফাওয়াদ আলমকে নিয়ে বাকিটা সারেন আসিফ। ডানহাতি এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান ১০৫ বলে ৬টি চার ও একটি ছক্কায় অপরাজিত থাকেন ৯১ রান। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে এটাই তার সর্বোচ্চ। পাকিস্তানের মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান ফাওয়াদ ৩১ বলে অপরাজিত থাকেন ২৯ রানে। ৯ ম্যাচে চতুর্থ জয় পেল গাজী। সমান ম্যাচে পঞ্চম হারের স্বাদ পেল প্রাইম ব্যাংক।

 

সংক্ষিপ্ত স্কোর

শেখ জামাল : ৪৯.৫ ওভার ২৬২ (সৈকত ২৩, হাসান ৬১, জিয়া ৭৯, সানি ২৮, সাজেদুল ১১*, রবিউল ১৪; সাইফ ২/৫৬, সুজন ২/৫৭, শুভাগত ২/৪৮, আফিফ ১/১৬, গাফ্ফার ২/১৪)

শাইনপুকুর : ৪৮.৩ ওভার ২৬৩/২ (ফারদিন ৩৮, সাদমান ১৪৪*, কাউল ১৩, হৃদয় ৫০*; সোহাগ ১/৪৬, রবিউল ১/৪৯।

ফল : শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাব ৮ উইকেটে জয়ী

ম্যান অব দ্য ম্যাচ : সাদমান ইসলাম

 

ব্রাদার্স ইউনিয়ন : ৫০ ওভার ৩১৭/৪ (মিজানুর ৮, জুনায়েদ ১২৩, মাইশুকুর ৯৬, কাপালী ২৬, রমন ২২*, ইয়াসির ৩০*; হাসান ১/৫৪, মুক্তার ১/৭১, মাহমুদুল ১/৩৯,আশরাফুল ০/১২)

কলাবাগান : ৪৫ ওভার ১৮৬ (তাসামুল ৪৪, আকবর ৩৫, মাহমুদুল ৮, হাসান ১১, মুক্তার ৬২*; খালেদ ১/৩০, শুভ ৩/৩৯, শাখাওয়াত ২/৩১, রানা ২/৩১, কাপালী ১/২২।

ফল : ব্রাদার্স ইউনিয়ন ১৩১ রানে জয়ী

ম্যান অব দ্য ম্যাচ : জুনায়েদ সিদ্দিক

 

খেলাঘর : ৫০ ওভার ২৫৯/৪ (মাহিদুল ৮০, রবি ১১৬, অমিত ১৬, মেনারিয়া ১০*, মাসুম ১৯*; মোশাররফ ১/৪৭, শহীদ ১/৪৬, শরীফ ১/৫১, আসিফ ১/৩৩ ।

লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ : ৪৬.৩ ওভার ২৬২/৪ (মজিদ ৪১, পাপ্পু ৩৫, নাইম ৮২, নাঈম ৭০, রসুল ৬*, তুষার ১২*;মইনুল ০/৩৫, মাসুম ০/১৩, মেনারিয়া ২/৪৬, রাফসান ২/৩৫)

ফল : লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ ৬ উইকেটে জয়ী

ম্যান অব দ্য ম্যাচ : মোহাম্মদ নাইম

"