বাংলাদেশের জয়ে ফেরার চ্যালেঞ্জ

প্রকাশ : ১০ মার্চ ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১০ মার্চ ২০১৮, ০১:১৬

ক্রীড়া ডেস্ক

গত বছরটা দুঃসময়ের ক্রান্তিকাল হিসেবে কেটেছিল শ্রীলঙ্কার। নিজেদের ইতিহাসের সবচেয়ে বাজে সময়ও ছিল সেটা। চন্ডিকা হাথুরুসিংহের ছোঁয়াতেই বদলে গেছে লঙ্কানরা। বাংলাদেশের মাটিতে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের দুটো হারই তাতিয়ে দিয়েছিল তাদের। এরপর থেকেই সীমিত ওভারের ক্রিকেটে জয়রথ ছুটে চলছে চান্দিমাল-পেরেরাদের।

ঠিক বিপরীত অবস্থা বাংলাদেশ দলের। গত কয়েক বছর ধরে দুর্দান্ত ক্রিকেট খেলা টাইগাররা ভুলে গেছে জয়ের স্বাদ। টি-টোয়েন্টি ফরমেটে লাল-সবুজ জার্সিধারী ঠিক কবে শেষ ম্যাচটি জিতেছে সেটাও বোধহয় ভুলে গেছে ভক্তকুল। নিদাহাস ট্রফিতে নিজেদের প্রথম জয়ে ফেরার সম্ভাব্য সেরা একটা সুযোগই পেয়েছিলেন মাহমুদউল্লাহরা। কিন্তু ভারতীয়দের বাজে ফিল্ডিংয়ের পরও ফায়দাটা নিতে পারেনি টাইগাররা।

১৩৯ রানের মামুলি পুঁজির বিপরীতে বাংলাদেশ হেরেছিল ৬ উইকেটে। একদিনের ব্যবধানে আজ ফের মাঠে নামছে তারা। প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা। এই দলটির কাছেই ঘরের মাঠে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে হেরেছিল বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টিতে তো হারতে হয়েছে দুটো ম্যাচেই। মাহমুদউল্লাহদের জন্য স্বস্তির একটা খবর হচ্ছে, কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে খেলা নিজেদের শেষ ম্যাচে লঙ্কানদের হারিয়েছিল বাংলাদেশ।

আজ সেই দিনটাই ফেরানোর চ্যালেঞ্জ টাইগারদের সামনে। কিন্তু গত দুই মাসে দুই দলের পার্থক্যটা গিয়ে দাঁড়িয়েছে অনেক বড় জায়গায়। তখন হাথুরু ছিলেন বাংলাদেশের কোচ, আর এখন তিনি শ্রীলঙ্কার কোচ। বিধ্বস্ত এই শ্রীলঙ্কাকে তো হাথুরুই টেনে তুলেছেন। দলটাকে দাঁড় করিয়েছেন শক্তিশালী হিসেবে।

যেটার প্রতিফলন টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচেই দেখিয়েছে শ্রীলঙ্কা। ভারতের ছুড়ে দেওয়া পৌনে দুইশ’ রানের লক্ষ্যমাত্রায় হেলা ফেলায় পৌঁছে যায় লঙ্কানরা। সেদিন ৬৬ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেছিলেন কুশল পেরেরা। টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে ইনিংসটা ছিল তার অষ্টম হাফ সেঞ্চুরি। আর একটা অর্ধশতক করলে কুশল ছাড়িয়ে যাবেন পূর্বসূরি কুমার সাঙ্গাকারাকে।

কুশলের ঠিক বিপরীত অবস্থা তামিম ইকবালের। কুড়ি ওভারের শেষ ১২টি ম্যাচে হাফসেঞ্চুরি পাননি বাঁ-হাতি ড্যাশিং ওপেনার। সবশেষ ২০১৬ বিশ্বকাপে ওমানের বিপক্ষে অপরাজিত সেঞ্চুরি করেছিলেন তামিম। এরপর আর উদ্যাপনের উপলক্ষ পাননি তিনি। নিজেকে হারিয়ে খোঁজা পরশুও সুবিধা করতে পারেননি। প্রস্তর যুগের ব্যাটিং করেছেন। শুধু তামিম নয়, পুরো দলই সেদিন এগিয়েছিল শম্বুক গতিতে। দ্বিতীয় সারির ভারতের বিপক্ষে ৫৫টি ডট বল খেলেছে বাংলাদেশ। যেটার মূল্য দিতে হয়েছে হার দিয়ে।

ভারত ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে ডট বল নিয়ে হাহাকার ঝরেছে বাংলাদেশ অধিনায়ক মাহমুদউল্লার কণ্ঠেও। তিনি বলেছেন, ‘টি-টোয়েন্টিতে মাঝের ওভারগুলোতে আমরা ধুঁকছি। অনেক বেশি ডট বল খেলছি। তারপর উইকেটও বিলিয়ে দিয়ে আসছি। আজও (বৃহস্পতিবার) আমরা ভালো শুরু করেছিলাম। পরে নিয়মিত উইকেট হারিয়েছি।’

ওই ম্যাচের ভুলটা আজ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে করতে চায় না সফরকারীরা। বাংলাদেশের প্রতিনিধি হয়ে আসা তাসকিন আহমেদ সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘উইকেটটা খুব ভালো। ১৭০-১৮০ রান তাড়া করা কঠিন হবে না। এ জন্য আমাদের ভালো বল করতে হবে। পাশপাশি আমাদের আরো অনেক বেশি রান (আগের ম্যাচের চেয়ে) করতে হবে।’

এখন উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে তাসকিনরা কি পারবেন পরিকল্পনামাফিক প্রত্যাশিত ক্রিকেটটা খেলতে?

সম্ভাব্য একাদশ :

বাংলাদেশ : তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, লিটন দাশ, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ (অধিনায়ক), সাব্বির রহমান, মেহেদি হাসান, মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, রুবেল হোসেন, নাজমুল ইসলাম।

শ্রীলঙ্কা : দানুশকা গুনাথিলাকা, কুশল মেন্ডিস, কুশল পেরেরা, ডিনেশ চান্দিমাল (অধিনায়ক), উপুল থারাঙ্গা, দাসুন শানাকা, থিসারা পেরেরা, জীবন মেন্ডিস, আকিলা ধনঞ্জয়া, নুয়ান প্রদীপ।

"