হেরেও শেষ আটে সিটি

জুভেন্টাসের ৩ মিনিটের জাদু

প্রকাশ : ০৯ মার্চ ২০১৮, ০০:০০

ক্রীড়া ডেস্ক

প্রথম লেগে দুই গোলে এগিয়ে থেকেও জয়বঞ্চিত হয়েছিল জুভেন্টাস। ফিরতি ম্যাচে ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামেও শুরুতে পিছিয়ে পড়েছিল তুরিনের বুড়িরা। ভয়টা কাটিয়ে অবশেষে ২-১ গোলের দারুণ এক জয় তুলে নিয়েছে জুভেন্টাস। দলের দুই আর্জেন্টাইনের ৩ মিনিটের জাদুতে ইতালিয়ান ক্লাবটি উঠে গেছে কোয়ার্টার ফাইনালে। দাপুটে ফুটবল খেলেও দুই লেগ মিলিয়ে ৩-২ ব্যবধানে হেরে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের এবারের আসরে ছিটকে গেছে টটেনহাম।

পরশু রাতের শনির দশা লেগেছিল আরেক ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটিরও। ঘরের মাঠ ইতিহাদ স্টেডিয়ামে এগিয়ে থেকেও জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেনি পেপ গার্দিওলার দল। এফসি বাসেল ২-১ গোলে হারিয়ে দিয়েছে টানা ১৩ ম্যাচ জিতে উড়তে থাকা সিটিকে। ২০১৬ সালের ডিসেম্বরের পর ঘরের মাঠে প্রথমবার হারল তারা। অবশ্য চ্যাম্পিয়নস লিগের ফিরতি লেগের ম্যাচে কোনোদিন জেতেওনি সিটি।

ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ম্যাচ শুরুর আগে জুভেন্টাসের একটা ফাঁড়া ছিল। চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোতে কোনোবারই তারা ইংলিশ ক্লাবের বিপক্ষে জিততে পারেনি। পরশু যেন এর পুনরাবৃত্তি ঘটতে যাচ্ছিল। ম্যাচের ৩৯ মিনিটের মাথায় কোরিয়ান ফরোয়ার্ড সন হিয়ুং মিনের দুর্দান্ত এক গোলে এগিয়ে যায় টটেনহাম হটস্পার। এরপর হ্যারি কেন, ক্রিশ্চিয়ান এরিকসেন, ডেল আলিদের মুহুর্মূহু আক্রমণে আরো কোণঠাসা হয়ে পড়ে জুভেন্টাস। যদিও এক গোলের লিড নিয়ে বিরতিতে যায় স্পার্সরা।

ফিরে এসে আবার রুদ্রমূর্তি ধারণ করে মাউরিচিও পচেত্তিনোর দল। বল দখলের লড়াইয়ে প্রথমদিকে জুভেন্টাস এগিয়ে থাকলেও এক পর্যায়ে তাদের রক্ষণভাগ সামাল দিতে হচ্ছিল। বিপক্ষের গোলপোস্টে স্পার্সদের যেখানে ২৩টি শট সেখানে জুভরা নিয়েছে মাত্র ৯টি। নিজেদের রক্ষণভাগ সামলে রাখার পাশাপাশি আক্রমণের একটা সুযোগ খুঁজছিলেন ডগলাস কক্টা, আলেক্স সান্দ্রোরা। দ্বিতীয়ার্ধের ৬৪ মিনিটে একটি প্রতিআক্রমণ থেকে বল পায় সামি খেদিরা। খেদিরার হেডে বল চলে আসে গঞ্জালো হিগুয়েইনের পায়ে। এতক্ষণ ম্যাচে নিষ্প্রভ থাকলেও সুযোগের সদ্ব্যবহারে ভুল করেননি আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার। বল পাঠান টটেনহামের জালে।

অবশ্য গোল হজমের পরও স্বাগতিক সমর্থকদের উচ্ছ্বাস কমছিল না। তিন মিনিটের মধ্যে আরেকটি গোল করে টটেনহাম সমর্থকদের স্তব্ধ করে দেয় জুভেন্টাস। তুরিনের বুড়িদের ত্রাতা আরেক আর্জেন্টাইন। ব্যবধান দ্বিগুণ করেন পাওলো দিবালা। ৬৭ মিনিটের মাথায় হিগুয়েইনের পাস থেকে বল পেয়ে টটেনহামের ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন দিবালা। দারুণ এক শটে বল জড়িয়ে দেন জালে। ওয়েম্বলিতে নেমে আসে পিনপতন নীরবতা।

পুরো ম্যাচে দারুণ খেলার পরও সেই তিন মিনিটই দুঃস্বপ্ন হয়ে থাকল টটেনহামের কাছে। গোল শোধের জন্য তারা মরিয়া হয়ে উঠে। তবে স্পার্সদের বাধা হয়ে দঁাঁড়ায় ইতালির দুই অভিজ্ঞ সেনা জর্জিও কিয়েলিন এবং গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি বুফন। এগিয়ে যাওয়ার পর টটেনহামের আক্রমণগুলোতে দানা বাঁধতে দেননি তারা। বুফন-কিয়েলিনি স্বাগতিকদের কয়েকটা চেষ্টা নিষ্ফল করে দেন। এ দুজনকেও ফাঁকিয়ে দিয়ে ফেলেছিলেন টটেনহাম স্ট্রাইকার হ্যারি কেন। কিন্তু ৯০ মিনিটে ইংলিশ সেনসেশনকে গোলবঞ্চিত করে ঘরের মাঠের গোলপোস্ট। কেনের হেডটা রুখে দেয় জুভেন্টাসের পোস্ট।

চ্যাম্পিয়নস লিগের পরশু রাতের অন্য ম্যাচটা ছিল ¯্রফে নিয়মরক্ষার। কারণ প্রথম লেগে এফসি বাসেলকে তাদেরই মাঠে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত করেছিল ম্যানসিটি। পরশু ফিরতি লেগে ২-১ গোলে হেরেও তাই ক্ষতি হয়নি পেপ গার্দিওলার দলের। আনুষ্ঠাকিতার ম্যাচে অনিয়মিত একাদশ নামানোর খেসারতটা গার্দিওলাকে দিতে হয়েছে হার দিয়ে।

৭ মিনিটে গ্যাব্রিয়েল জেসুসের গোলে এগিয়ে যায় সিটি। কিন্তু ১৭ মিনিটে বাসেলসের মোহাম্মেদ এলিয়োনুস্যি গোল শোধ করে দেন। এরপর দ্বিতীয়ার্ধের ৭১ মিনিটে ম্যাচ নির্ণায়ক গোলটি করে উচ্ছ্বাসে ভাসান বাসেলকে। তবু প্রথম লেগের অসহায় আত্মসমর্পণের কারণে অশ্রুসিক্ত বিদায় নিতে হলো সুইস ক্লাবটি।

 

ফলাফল

টটেনহাম ১-২ জুভেন্টাস

*দুই লেগ মিলিয়ে ৩-২ গোলে জিতে শেষ আটে জুভেন্টাস

ম্যানসিটি ১-২ বাসেল

*দুই লেগ মিলিয়ে ৫-২ গোলে জিতে শেষে আটে ম্যানসিটি

"