‘সাকিবকে খুব মিস করেছি’

প্রকাশ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০

ক্রীড়া প্রতিবেদক

চিরচেনা বাংলাদেশের ভয়াবহ ব্যাটিং বিপর্যয় কাল আরো একবার দেখল মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়াম। প্রথম ইনিংসে ১১০ রানে গুটিয়ে যাওয়ার ফিরতিবার ব্যাট করতে নেমে ১৩ রান বেশি করেছে টাইগাররা। পরিণামÑ২১৫ রানের বিশাল ব্যবধানে হার। ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ সাকিব আল হাসানের শূন্যতাটাই দেখালেন বড় করে।

টেস্ট ক্রিকেটে বল হাতে যেমনি দ্রুত ম্যাচের চেহারা বদলে দিতে পারেন সাকিব, তেমনি ব্যাট হাতেও। সাকিব ছাড়া দল কতটা বিবর্ণ হতে পারে আড়াই দিনের মধ্যে হেরে সেটা আরো একবার বুঝিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। কাল ম্যাচ শেষে মাহমুদউল্লাহও বললেন দলে সাকিবের উপস্থিতি কতটা দরকার ছিল, ‘ওর অভাব (সাকিব) প্রবলভাবে অনুভব করেছি। ওর সামর্থ্য আমরা জানি। বিশেষ করে এই উইকেটে ওর বোলিং আরো ভয়ংকর হতো। কারণ, ওর নিয়ন্ত্রণ আরো ভালো। ও ব্যাটসম্যানদের আরো ভালো করে পড়তে পারে। খুব তাড়াতাড়ি ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝতে পারে।’

শুধু বোলার সাকিব নয়, ব্যাটসম্যান সাকিবকেও খুব মিস করেছে বাংলাদেশ। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার ঢাকা টেস্টে থাকলে ম্যাচের চিত্রটা অন্য রকমও হতে পারত। দলের ভেতরে থাকত বাড়তি আত্মবিশ্বাস। তাই আক্ষেপ নিয়েই ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ককে বলতে হলো, ‘সবাই জানে, ও একজন বিশ্বমানের ব্যাটসম্যান। সেদিক দিয়েও ওকে অনেক মিস করেছি।’

অবশ্য বল হাতে খুব একটা খারাপ করেনি বাংলাদেশ। কম-বেশি সামর্থ্যরে জোগান দিয়েছেন স্বাগতিক বোলাররা। স্পিন উইকেটের সর্বোচ্চ সুবিধা আদায় করে নিয়েছে দুদল। চট্টগ্রাম টেস্টে সতীর্থদের ব্যাটিংই মূলত দলকে ঝুঁকি নেওয়ার সাহস দেখিয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিজেদের ফাঁদেই পা দিয়ে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করেছে বাংলাদেশ। ম্যাচ শেষে মাহমুদউল্লাহও ব্যাখ্যা দিলেন এই উইকেটে বাজে হারের। বলেছেন, ‘ক্রিকেট খেলা তো একটা বাজির মতো। আমরা জানতাম যে, ওদের স্পিন বিভাগ খুব ভালো। জানতাম আমাদের ব্যাটসম্যানদের জন্য চ্যালেঞ্জিং হবে। কিন্তু আমরা ব্যাটসম্যানদের ওপর ভরসা রেখেছিলাম।’

ব্যাটসম্যানরা প্রত্যাশিত পারফর্ম করতে না পারায় স্বাভাবিকভাবেই হতাশ অধিনায়ক। বলেছেন, ‘আপনি যদি চট্টগ্রাম টেস্টের কথা ধরেন, ওখানে উইকেট ব্যাটিং সহায়ক ছিল, আমাদের ব্যাটসম্যানরা ভালো ব্যাটিং করেছে। এ জন্যই এখানে আমরা চাচ্ছিলাম, উইকেটটা স্পিন সহায়ক হোক। আমাদের ব্যাটসম্যানদের ওপর আমরা আস্থা রাখি। একই সঙ্গে স্পিনারদের ওপরও আস্থা রাখি। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত ব্যাটসম্যানরা ভালো পারফর্ম করতে পারেনি।’

সাকিবের অনুপস্থিতির পরও কেন এই ঝুঁকির পথে হেঁটেছে বাংলাদেশ? উত্তরে মাহমুদউল্লাহ বলেছেন, ‘আমার মনে হয়, এই ধরনের বাজিগুলো ধরতেই হবে। না হলে এভাবে টেস্ট ক্রিকেট খেলে কোনো লাভ নেই। নিষ্প্রাণ উইকেটে খেললে আমার মনে হয় না, আমাদের ক্রিকেট এগোবে। (ঝুঁকি নিলে) সাফল্য আসবে, ব্যর্থতাও আসবে। সাফল্য আপনাকে আত্মবিশ্বাস দেবে, আমাদের আরো উন্নতিও হবে।’

এই উইকেটে একদিন ভালো করবে দল। কাল ম্যাচ শেষে এমন আশার বাণীও শুনিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ, ‘আমরা জানতাম, এখানে ফল হবে, স্পিনিং উইকেট হবে। আমার বিশ্বাস, আমাদের সামর্থ্য আছে কিন্তু করে দেখা পারিনি। মাঠে স্কিলটা দেখাতে পারিনি। যেদিন আমরা স্কিলটা দেখাত পারব, ভালো ফল দেখবেন।’

"