লেখক পরিচিতি

পূর্ণেন্দু পত্রী

প্রকাশ : ২০ মে ২০১৭, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

পূর্ণেন্দুশেখর পত্রী ১৯৩১ সালের ২ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেছেন। তার ছদ্মনাম ‘সমুদ্র গুপ্ত’। তিনি ভারতীয় বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, সাহিত্য গবেষক, কলকাতা গবেষক, চিত্র পরিচালক ও প্রচ্ছদশিল্পী। পূর্ণেন্দু পত্রীর জন্ম বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার নাকোলে। পিতা পুলিনবিহারী পত্রী, মা নির্মলা দেবী। ম্যাট্রিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর পারিবারিক কলহের কারণে পৈতৃক ভিটা ছেড়ে চলে আসেন কলকাতায়। ১৯৪৯ সালে ইন্ডিয়ান আর্ট কলেজে ভর্তি হন বাণিজ্যিক শিল্পকলা বা কমার্শিয়াল আর্টের ছাত্র হিসেবে, যদিও নানা কারণে এই পাঠক্রম শেষ করা তার পক্ষে সম্ভব হয়নি। কলকাতায় অভিভাবক কাকা নিকুঞ্জবিহারী পত্রীর চলচ্চিত্র পত্রিকা ‘চিত্রিতা’ এবং সাহিত্যপত্র ‘দীপালি’তে তার আঁকা ও লেখার সূচনা হয়। ১৯৫১ সালে তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘একমুঠো রোদ’ প্রকাশিত হয়। ১৯৫৮ সালে প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস ‘দাঁড়ের ময়না মানিক’ পুরস্কার লাভ করে। তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ হলো ‘শব্দের ঠিকানা’, ‘সূর্যোদয় তুমি এলে’, ‘আমাদের তুমুল হৈ-হল্লা’, ‘গভীর রাতের ট্রাঙ্ককল’এবং ‘আমিই কচ আমিই দেবযানী’ ইত্যাদি। পূর্ণেন্দু পত্রীর অন্যান্য উপন্যাসের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘ভোমরাগুড়ি’, ‘মালতীমঙ্গল’ ইত্যাদি। পূর্ণেন্দু পত্রী কলকাতা সংক্রান্ত প্রায় এক ডজন গ্রন্থ রচনা করেছেন। সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘শহর কলকাতার আদি পর্ব’, ‘বঙ্গভঙ্গ’, ‘কী করে কলকাতা হলো’, ‘ছড়ায় মোড়া কলকাতা’, ‘কলকাতার রাজকাহিনী’, ‘এক যে ছিল কলকাতা’ ইত্যাদি। জীবনের শেষ পর্বে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে নিয়ে এক বিশাল গবেষণাকাজ শুরু করেছিলেন। মৃত্যুর পূর্বে ১৯৯৬ সালে তার প্রথম খ- ‘বঙ্কিম যুগ’ প্রকাশিত হয়। শিশুসাহিত্যেও তিনি ছিলেন এক জনপ্রিয় লেখক। ছোটদের জন্য লিখেছেন ‘আলটুং ফালটুং’, ‘ম্যাকের বাবা খ্যাঁক’, ‘ইল্লীবিল্লী’, ‘দুষ্টুর রামায়ণ’, ‘জুনিয়র ব্যোমকেশ’, ‘যজাম্বো দি জিনিয়াস’ প্রভৃতি হাসির বই। সামগ্রিক সাহিত্যকর্মের জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাকে বিদ্যাসাগর পুরস্কারে ভূষিত করে। ১৯৬৫ সালে প্রেমেন্দ্র মিত্রের গল্প অবলম্বনে তার প্রথম চলচ্চিত্র ‘স্বপ্ন নিয়ে’ মুক্তি পায়। এরপর রবীন্দ্রনাথের কাহিনী অবলম্বনে ‘স্ত্রীর পত্র’ এবং ‘মালঞ্চ’সহ ৫টি চলচ্চিত্র পরিচালনা করেন তিনি। এছাড়া নির্মাণ করেন ৭টি তথ্যচিত্র। ‘স্ত্রীর পত্র’ ছবিটির জন্য তাসখন্দ চলচ্চিত্র উৎসবে শ্রেষ্ঠ চিত্রনির্মাতা এবং শ্রেষ্ঠ পরিচালকের পুরস্কার অর্জন করেন। ১৯৭৪ সালে সমরেশ বসুর কাহিনী অবলম্বনে নির্মিত তার ‘ছেঁড়া তমসুক’ চলচ্চিত্রটিও একাধিক জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করেছিল। সাহিত্য ও চিত্র পরিচালনা ছাড়াও পূর্ণেন্দু পত্রীর অন্যতম পরিচয় প্রচ্ছদশিল্পী হিসেবে। তিনি ১৯৯৭ সালের ১৯ মার্চ পরলোক গমন করেন।

"