রাজকন্যার মন ভালো নেই

প্রকাশ : ০২ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০

তারেকুর রহমান

রাজ প্রাসাদের পাশেই বিশাল একটি ফুলের বাগান। এই বাগানে প্রতিদিন নানা রকমের ফুল ফোটে। এখানে উড়ে বেড়ায় রং-বেরঙের প্রজাপতি। রাজকন্যার সঙ্গে বাগানের ফুল ও প্রজাপতির খুব ভালো বন্ধুত্ব রয়েছে। প্রতিদিন সকালে ফুলগাছে পানি দিয়েই রাজকন্যার সকাল শুরু হয়। সারা দিন ফুলগুলোর সঙ্গে দোল খায় রাজকন্যা। প্রজাপতির সঙ্গে খেলা চলে সারা দিন। প্রজাপতিগুলো এক ফুল থেকে অন্য ফুলে ঘুরে বেড়ায়। রাজকন্যা প্রজাপতি ধরতে চেষ্টা করে। একটি ফুলে প্রজাপতি বসলে রাজকন্যা পা টিপে টিপে প্রজাপতি ধরতে যায়। প্রজাপতি টের পেয়ে গেলে অন্য ফুলে গিয়ে বসে। কী সুন্দর এক খেলায় মেতে উঠছে তারা। এটি দেখে গাছের মাথার ওপর বসে থাকা ঘুঘুপাখিটা হাসতে থাকে। রাজকন্যা প্রজাপতিগুলোকে না দেখলে ঘুঘুপাখিটাই তাকে দেখিয়ে দেয়। এভাবেই কেটে যায় সকাল-দুপুর-রাত। বাগানে বাস করা প্রজাপতিগুলোর নানা নাম দিয়েছে রাজকন্যা। সবচেয়ে ছোট প্রজাপতিটার নাম দিয়েছে নীল প্রজাপতি। এই বাগানে নীল প্রজাপতি একটি। এই প্রজাপতির সঙ্গেই রাজকন্যার খেলাধুলা বেশি হয়। রাজকন্যা ওকে খুব ভালোবাসে। নীল প্রজাপতি ও রাজকন্যাকে অনেক ভালোবাসে। সকালে রাজকন্যার ঘুম ভাঙতে দেরি হলে নীল প্রজাপতি গিয়ে তাকে ঘুম ভাঙিয়ে দেয়।

এক দিন খুব দেরিতে ঘুম থেকে উঠল রাজকন্যা। ঘুম থেকে উঠে সে অবাক হয়ে গেল। আজ এত দেরি হলো অথচ নীল প্রজাপতি তার ঘুম ভাঙাল না কেন? খুব দ্রুত উঠে গিয়ে বাগানে চলে গেল। বাগানের ফুলগুলোর মন খারাপ। প্রজাপতিগুলোরও মন খারাপ। নীল প্রজাপতির মা বসে বসে কান্না করছে। গাছের ওপরে বসে থাকা ঘুঘুপাখিটাও কান্না করছে। রাজকন্যা কিছুই বুঝতে পারছে না। ফুল, প্রজাপতি, ঘুঘু সবার মন খারাপ। কিন্তু কেন মন খারাপ? নীল প্রজাপতিটা কোথায়? রাজকন্যা নীল প্রজাপতির মাকে জিজ্ঞেস করল, তুমি কাঁদছো কেন? নীল প্রজাপতি কোথায়?

নীল প্রজাপতির মা জবাব দিল, সকালে তোমার ঘুম ভাঙাতে নীল প্রজাপতি বের হয়। এরপর এতক্ষণ হয়ে গেল আর ফিরে এলো না। এ কথা বলেই সে কাঁদতে শুরু করল ।

নীল প্রজাপতি হারিয়ে যাওয়ায় খুব মন খারাপ রাজকন্যার। চারদিকে রাজকন্যার মন খারাপের খবর ছড়িয়ে পড়াে। রাজা-রানি সবাই খুব টেনশনে পড়ে গেল। উজির-নাজির সবাই খুব টেনশনে পড়ে গেল। রাজকন্যার মন খারাপ হলো কেন? কেনইবা সে গোমড়া মুখে বসে আছে? রাজ্যের সবার মুখে একই প্রশ্ন কিন্তু রাজা তার উত্তর

দিতে পারছেন না।

রাজা-রানি এসে রাজকন্যার পাশে বসল। রাজকন্যাকে জিজ্ঞেস করল কেন তার মন খারাপ? রাজকন্যা কাঁদতে কাঁদতে বললল, নীল প্রজাপতি হারিয়ে গেছে। সঙ্গে সঙ্গে রাজা তার উজির-নাজির সবাইকে বলল, দ্রুত নীল প্রজাপতিকে খুঁজে আনতে। রাজার অর্ডার শুনে খুব দ্রুত সবাই নীল প্রজাপতিকে খুঁজতে বের হয়ে গেল। সকাল গড়িয়ে দুপুর হলো এখনো নীল প্রজাপতির কোনো খোঁজ নেই। নীল প্রজাপতিকে না পেয়ে সবাই ফিরে এলো। এদিকে রাজকন্যার মন আরো খারাপ হতে লাগল। বিকালের দিকে রাজকন্যা নিজেই নীল প্রজাপতিকে খুঁজতে বের হলো। এদিক সেদিকে খুঁজতে লাগল কিন্তু কোথাও তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। হঠাৎ একটা গাছের ওপর থেকে রাজকন্যা রাজকন্যা শব্দ শোনা গেল। এই শব্দ শুনেই রাজকন্যা দাঁড়িয়ে যায়। আরে এত নীল প্রজাপতির কণ্ঠ। রাজকন্যা চিৎকার করে বলল, নীল প্রজাপতি তুমি কোথায়? নীল প্রজাপতি গাছ থেকে দ্রুত উড়ে গিয়ে রাজকন্যার গায়ে বসল। রাজকন্যা নীল প্রজাপতিকে জিজ্ঞেস করল, তুমি এখানে কেন? নীল প্রজাপতি বলল, সকালে আমি তোমার ঘুম ভাঙাতে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ দেখি ছোট মৌমাছিগুলো বাগানের ফুল থেকে মধু আহরণ করছে। ওদের দেখে আমার খুব সুন্দর লাগে। ওরা যাওয়ার সময় আমি ওদের পিছু পিছু চলে যাই। ওদের মা-মৌমাছি আমাকে দেখে খুব আদর করে। আমার ঠিকানা বলতে বলেছে, আমি বলতে পারিনি। ওরা আমাকে অনেক আদর করেছে।

নীল মৌমাছির কথা শুনে রাজকন্যা বলল, মাকে বলা ছাড়া কোথাও যাওয়া ঠিক না। তুমি কখনো কোথাও গেলে অবশ্যই মাকে বলে যেও। আর সব সময় নিজের ঠিকানা মুখস্থ করে রাখবে। নীল প্রজাপতি রাজকন্যার কথায় সায় দিল। এদিকে রাজকন্যা মৌমাছিগুলোকে বলল, আজ থেকে তোমরা আমাদের বাগানেই থাকবে।নীল প্রজাপতি ফিরে এসেছে। নতুন করে মৌমাছি এসেছে। আজ বাগানে আনন্দের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। ফুলে ফুলে প্রজাপতির মেলা। মৌমাছিগুলোও এদিক-ওদিক ঘুরে বেড়াচ্ছে। রাজকন্যার আজ মন খুব ভালো। রাজা-রানিরও মন ভালো। রাজ্যের সবার মন ভালো। সবাই খুব আনন্দ করছে।

"