সুখনগরের রাজা

প্রকাশ : ১২ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০

আবদুস সালাম

সে অনেক দিন আগের কথা। সুখনগর নামে সুন্দর একটা দেশ ছিল। দেশটি ছিল মোহনীয় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর। অপার সৌন্দর্যের লীলাভূমি। সুখনগরের প্রতিটি গ্রাম যেন সবুজ-শ্যামল, সুশীতল, ছায়াঘেরা, মনোরম এক জনপদ। যেখানে ছিল দিগন্তজোড়া ফসলের মাঠ, পাখিদের কোলাহল। গ্রামগুলোর বুক চিরে বয়ে যায় ছোট-বড় নদ-নদী। নদীর বুকে ফুটে থাকত শাপলা-পদ্ম। শহরগুলোর সৌন্দর্যও ছিল নয়নাভিরাম ও বৈচিত্র্যময়। হেথায় সেথায় দৃষ্টিনন্দন সুরম্য প্রাসাদ। সুখনগরে কোনো ধনসম্পদের অভাব ছিল না। জনসাধারণ সুখে-শান্তি বসবাস করত। সুখনগরের রাজাও ছিল প্রজাবৎসল। সে সব সময় দেশের মঙ্গলের কথা চিন্তা করত। ছদ্মবেশে প্রজাদের খোঁজখবর নিত এবং তাদের দুঃখ-দুর্দশা লাঘব করার চেষ্টা করত। যেসব কাজ করলে জনগণের আরো সুবিধা হবে, জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে; রাজা সেসব কাজই করত। রানিও ছিল রাজার মতো জনদরদি ও প্রজাবৎসল। সব সময় সুখনগরের মঙ্গলের কথা ভাবত। রাজা-রানির নানাবিধ কারণে সুখনগরের জনগণ সুখী ছিল। তারা সুখে-শান্তি মিলেমিশে একসঙ্গে বসবাস করত।

রাজা-রানির মনে একটা কষ্ট ছিল। কারণ তাদের কোনো ছেলেমেয়ে ছিল না। মনকে প্রবোধ দেওয়ার জন্য রানি রাজ কর্মচারীদের ছেলেমেয়েদের লালন-পালন করত। তাদের নিজের সন্তানের মতো আদর-যতœ ও স্নেহ করত। ভালো ভালো খাবার খেতে দিত। তাদের জন্য বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করত। বাচ্চারাও রাজা-রানিকে কাছে পেলে খুব খুশি হতো। এভাবেই রাজা-রানির দিনগুলো সুখে-শান্তিতে কেটে যেত। একবার রানি হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়ে। সুখনগরের প্রখ্যাত চিকিৎসকরা আপ্রাণ চেষ্টা করে রানিকে সুস্থ করে তোলার জন্য। কিন্তু সবাই ব্যর্থ হয়। রানি কোনোভাবেই আর সুস্থ হয় না। দিন দিন তার শারীরিক অবস্থা খারাপ হতে থাকে। রানির দুরবস্থার কথা চিন্তা করে রাজা পেরেশান হয়ে পড়ে। রানির কথা ভেবে রাজা সব সময় মন খারাপ করে বসে থাকে। কাজকর্মে ঠিকমতো মন বসাতে পারে না। সত্যি সত্যিই এক দিন রানি মৃত্যুবরণ করে। রানির মৃত্যুতে রাজা খুব ভেঙে পড়ে। দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। রাজ কর্মচারীরা রাজার পাশে এসে দাঁড়ায়। তাদের উৎসাহ-উদ্দীপনায় রাজার মনোবল একসময় ফিরে আসে। রাজা আগের মতো আবার সব কাজকর্মে মনোনিবেশ করে। এভাবে আরো কয়েক বছর ভালোভাবে কেটে যায়।

এক দিন এক রাজ কর্মচারী রাজাকে জিজ্ঞাসা করল, ‘রাজা মশাই অনুমতি দিলে একটা প্রশ্ন করব।’

Ñ বলুন। কী প্রশ্ন?

Ñ সুখনগরে আপনি একজন সফল রাজা। আপনার শাসন আমলে আমরা ভালোভাবে জীবনযাপন করছি। আপনার প্রতি আমরা সবাই সন্তষ্ট। কিন্তু আপনার মৃত্যুর পর কে হবে সুখনগরের রাজা?

প্রশ্নটি শোনার পর রাজা মনের মধ্যে একটা ধাক্কা খায়। এত দিনে সে মৃত্যুর কথা ভুলেই গিয়েছিল। তার সুপ্ত চেতনার ঘুম ভাঙে। মাথা নিচু করে কিছুক্ষণ বসে থাকার পর রাজা রাজ কর্মচারীর প্রশ্নের উত্তর দেয়। সে বলে, ‘তুমি ভালো একটা প্রশ্ন করেছ। সুখনগরের পরবর্তী রাজার কে হবে, এটা আমার ভাবা উচিত ছিল। আমি বিষয়টি নিয়ে সবার সঙ্গে কথা বলব। এ বিষয়ে দ্রুত একটা সিদ্ধান্ত নেব।’

রাজার উত্তরাধিকার কে হবেÑ এ নিয়ে রাজা কয়েক দিন ভাবল। অবশেষে রাজা একটা সিদ্ধান্ত নিল যে, বিষয়টি আলোচনা করার জন্য একটা সভা আহ্বান করবে। রাজা একটা সভার দিন ধার্য করল। সভায় উপস্থিত থাকার জন্য রাজা মন্ত্রী, বিচারপতি, নাজির, সেনাপ্রধান, রাজ কর্মচারীসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ জানাল। যথাসময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সবাই উপস্থিত হলো। রাজা সবার সামনে বলল, ‘একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আজ আপনাদের ডেকেছি। আমার বয়স হয়েছে। ইদানীং শরীরটা ভালো যাচ্ছে না। যেকোনো সময় মারা যেতে পারি। আপনারা সবাই জানেন আমি নিঃসন্তান। তাহলে আমার মৃত্যুর পর সুখনগরের পরবর্তী রাজা কে হবে? আমার ইচ্ছা, আমার মৃত্যুর আগেই তাকে আমি মনোনীত করে যাব। যাতে রাজা নির্বাচন নিয়ে আপনাদের সমস্যায় পড়তে না হয়। এ নিয়ে কেউ যেন ঝগড়া-বিবাদ বা যুদ্ধে লিপ্ত না হয়। আমি চাই সুখনগরে যেন সব সময় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় থাকে। আমি জানি, আপনারা অনেকেই রাজা হওয়ার যোগ্য। আবার অনেকে রাজা হওয়ার যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও রাজা হতে চান না। এ বিষয়ে আপনাদের মতামত জানা জরুরি। এখন আপনারা বলেন, ‘কে কে রাজা হতে চান? রাজা হওয়ার পক্ষে আপনাদের যুক্তিগুলো কী?’ এরপর রাজা একেক করে সবার মতামত জানতে শুরু করে। অনেকেই এটাকে সুযোগ মনে করে রাজার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকে।

রাজা প্রথমে সেনাপ্রধানের কাছে জানতে চাইল, ‘আপনি কি রাজা হতে চান? যদি চান, তাহলে বলুন আপনার কী যোগ্যতা রয়েছে?’ সেনাপতি বলে, ‘আমি অবশ্যই রাজা হতে চাই। রাজা হওয়ার মতো যথেষ্ট যোগ্যতা আমার আছে। আমি একযুগ ধরে সুখনগরের সেনাপ্রধানের দায়িত্ব পালন করছি। আমার অভিজ্ঞতা অনেক। তাছাড়া আমি জানি কীভাবে দেশকে বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে হয়। আমি মনে করি, আমি রাজা হলে আমার হাতে দেশ নিরাপদ থাকবে।’ উত্তরে রাজা বলে, ‘বেশ। তোমার বিষয়টি আমি বিবেচনা করে দেখব। এখন দেখি মন্ত্রীরা কে কী বলেন।’ একজন মন্ত্রী বলে, ‘দেশের শাসনকার্য পরিচালনায় রাজার পরেই মন্ত্রীদের স্থান। তাই আমি মনে করি, মন্ত্রীদের মধ্য হতে কাউকে ভাবী রাজা নির্বাচন করা যুক্তিযুক্ত হবে। এতে দেশের জন্য অনেক মঙ্গল হবে।’ ‘তোমার কথায় অনেক যুক্তি আছে। তোমার কথা ভেবে দেখব। এখন দেখি বিচারপতি কী বলে।’ সে বলে, ‘আমি বিচারকাজ পরিচালনা করি। বিচারকাজ পরিচালনা করার জন্য আমাকে অনেক বিষয়ের জ্ঞান রাখতে হয়। তাই আমি মনে করি, রাজা হওয়ার জন্য আমিই একমাত্র যোগ্য ব্যক্তি। আমাকে রাজা নির্বাচন করলে আমি দক্ষতার সঙ্গে দেশ পরিচালনা করব।’ রাজা বলল, ‘তোমার কথাও ভেবে দেখব। এখন দেখি বিশিষ্টজনরা কে কী বলে।’ সভায় কয়েকজন শিক্ষক উপস্থিত ছিল। এদের মধ্যে একজন শিক্ষক বলে, ‘শাসনকার্যে যারা সরাসরি জড়িত তাদের মধ্য থেকে রাজা নির্বাচন করলে নিজেদের মধ্যে রেশারেশি হবে। এতে করে নানাবিধ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে। এ নিয়ে হানাহানি কাটাকাটিও হতে পারে। শিক্ষকরা হলো মানুষ গড়ার কারিগর। তারাই পারবে সুষ্ঠুভাবে দেশ পরিচালনা করতে। তাই আমি মনে করি, শিক্ষকদের মধ্য থেকে কাউকে রাজা নির্বাচন করাই যুক্তিযুক্ত হবে।’

কেউ কেউ লটারির মাধ্যমে রাজা নির্বাচনের পরামর্শ দিল। সবাইর মঙ্গলের কথা চিন্তা করে কেউ আবার সুখনগরকে ভেঙে যোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার পরামর্শ দিল। তাদের যুক্তি দেশ ছোট হলে শাসন করতে সুবিধা হবে। এই প্রস্তাব শুনে সেনাপ্রধান, মন্ত্রী ও বিচারপতি খুব খুশি হলো। তারা এই প্রস্তাবকে অতি উত্তম প্রস্তাব বলে আখ্যা দিল। আবার দেখা গেল, অনেকের যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও রাজা হতে চাইল না। তারা সিংহাসনে নতুন কাউকে রাজা হিসেবে দেখতে চায়। এভাবে রাজা একে একে সবাইর মতামত শুনল। মতামত শুনে রাজা বলল, ‘আজ আপনাদের মতামত শুনলাম। আমি পরে আমার সিদ্ধান্ত জানাব। এর জন্য আপনাদের কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।’

রাজার কয়েকজন বিশ্বস্ত রাজ কর্মচারী ছিল। তাদের মধ্যে গফুর মিয়া ছিল অন্যতম। কোনো সমস্যায় পড়লে রাজা এই গফুর মিয়ারই শরণাপন্ন হতো। গফুর মিয়া খুব সহজেই সব সমস্যার সমাধান করে দিত। সে রাজার কাছাকাছি থেকে তাকে সাহায্য করত। জ্ঞানী-গুণী ও উত্তম চরিত্রের জন্য রাজা তাকে ভালোবাসত। তার মেধা, প্রজ্ঞা, দূরদর্শিতায় রাজা মুগ্ধ ছিল। তাই রাজা যখন সফরে বের হতো, তখন গফুর মিয়াকে সঙ্গে নিত। এক দিন গফুর মিয়াকে রাজা বলল, ‘তুমি কী বল? কে রাজা হওয়ার যোগ্য?’

‘তা আমি বলতে পারব না। তবে সেনাপ্রধান, মন্ত্রী ও বিচারপতিকে আমার কাছে লোভী মনে হয়েছে। এদের হাতে রাজ্য নিরাপদ নয়। তাছাড়া সুখনগরকে কখনো বিভাজন করা ঠিক হবে না। সুখনগর ভেঙে গেলে তা দুর্বল রাষ্ট্রে পরিণত হবে। আশপাশের বড় রাজ্যগুলো সুখনগরকে দখল করে নেবে। এতে জনগণের দুঃখ-কষ্ট অনেকগুণ বেড়ে যাবে।’ রাজা সব কথা শুনে গফুরকে বলল, ‘তুমি রাজা হতে চাও না? আমি যদি তোমাকে পরবর্তী রাজা ঘোষণা করি তাহলে তোমার কোনো আপত্তি আছে?’

Ñ না না, আমি রাজা হতে চাই না। দয়াকরে এত বড় গুরুদায়িত্ব আমাকে দেবেন না।

Ñ কেন বলুন তো?

Ñ আমি শুধু একজন রাজ কর্মচারী। রাজা হওয়ার যোগ্যতা আমার নেই। আমার পক্ষে সম্ভব নয় এত বড় গুরুদায়িত্ব পালন করা। সুখনগরে আমার চেয়ে অনেক যোগ্য লোক আছে। আপনি তাদের মধ্যে কাউকে রাজা নির্বাচন করুন।

রাজা মনে মনে ভাবল, আমি কয়েকজনকে পরীক্ষা করে দেখতে চাই। কার কতটুকু দেশপ্রেম আছে। যে নিঃস্বার্থ দেশপ্রেমিক, আমি তাকেই রাজা হওয়ার পুরস্কারটি দিতে চাই। রাজা ছদ্মবেশ ধারণ করে মাঝে মাঝে বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়াত। এক দিন রাজা দেখে সেনাপ্রধান কয়েকজন সৈন্যকে নিয়ে গোপন বৈঠক করছে। রাজা ছদ্মবেশে সেখানে উপস্থিত হয়। গোপনে সেনাপ্রধানের সব কথা শুনে ফেলে। সেনাপ্রধান নীলনকশা অঙ্কন করে সবকে বলে, ‘যত দ্রুত সম্ভব আমাদের ক্ষমতা নিতে হবে। প্রয়োজনে আমরা রাজাকে হত্যা করব। রাজা অন্য কাউকে মনোনীত করলে আমরা খুব সমস্যায় পড়ে যাব।’ রাজা সেনাপ্রধানের কথা শুনে খুব কষ্ট পায়। সে কাউকে ছাড় দেয় না। সব ষড়যন্ত্রকারীকে শক্ত হাতে দমন করে। বিচারে সেনাপ্রধানের মৃত্যু দন্ড হয়। পরবর্তীতে রাজা নতুন সেনাপ্রধান নির্বাচন করে।

এভাবে আরো কিছুদিন চলে গেল। এক দিন রাজা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। রাজার অসুস্থতায় গফুর মিয়া পেরেশান হয়ে পড়ে। সে প্রখ্যাত এক চিকিৎসককে রাজপ্রাসাদে ডেকে আনে। সে রাজপ্রাসাদে অবস্থান করে রাজার চিকিৎসা করতে থাকে। সে জানপরাণ দিয়ে চেষ্টা করে রাজাকে সুস্থ করে তুলতে। এক দিন এক মন্ত্রী রাজার চিকিৎসার বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়ার জন্য ওই চিকিৎসককে ডেকে নেয়। মন্ত্রী চিকিৎসককে বলে যে রাজার বয়স হয়েছে। উনি যেকোনো সময় মারা যাবে। আপনার এত ব্যস্ত হওয়ার দরকার নেই। আপনি সাধারণভাবে চিকিৎসা করে যান। এ কথা গফুর মিয়া আড়াল থেকে শুনে ফেলে। কিছুদিন পর রাজা যখন সুস্থ হয়ে যায়; তখন সে রাজাকে সব কথা বলে দেয়। রাজা একে একে সব লোভী মন্ত্রীদের চাকরি চ্যুত করে। সব অপকর্মের বিচার করে। অবশেষে রাজা সিদ্ধান্ত নিল যে, শিগগিরই নতুন রাজার নাম ঘোষণা করবে। তার হাতেই সুখনগরের দায়িত্ব তুলে দেবে।

রাজা সুখনগরের পরবর্তী রাজার নাম ঘোষণা করার জন্য রাজদরবারে একটি সভা আহ্বান করে। সেই সভায় দেশের সবাইকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। দেশজুড়ে সবাইর মুখে একটাই প্রশ্ন- কে হবে সুখনগরের ভাবী রাজা? সবাইই সেই নির্দিষ্ট দিনটির জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। দেখতে দেখতে একসময় সেই কাক্সিক্ষত দিনটি চলে আসে। দেশের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা রাজদরবারে উপস্থিত হয়। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজার হাজার মানুষ রাজদরবারে বাইরে অপেক্ষা করতে থাকে। যথাসময়ে রাজা সভা শুরু করে। রাজা সবাইর সামনে বলে, ‘সুখনগরের ভাবী রাজা নির্বাচনের জন্য আমি দীর্ঘদিন ধরে অনেককে পরীক্ষা করেছি। আমি খুব খুশি হয়েছি যে, আমার দেশে অসংখ্য লোক রয়েছে যারা রাজা হওয়ার যোগ্য। আমার দেশে অল্পসংখ্যক লোক আছে যারা বিপথগামী। যারা দেশের স্বার্থের চেয়ে নিজের স্বার্থকে বড় করে দেখে। আমি চাই, একজন নিঃস্বার্থ জনদরদি প্রজাবৎসল ব্যক্তি হবে সুখনগরের রাজা। আমি আজই নতুন রাজাকে দায়িত্ব দিয়ে সরে যাব। আমি দীর্ঘদিন আপনাদের সেবায় নিয়োজিত ছিলাম। আমার ভুলভ্রান্তি আপনারা ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। আমি আশা করি আপনারা আমাকে যেভাবে সাহায্য করেছেন, ঠিক সেইভাবে নতুন রাজাকেও দেশ পরিচালনায় সাহায্য করবেন। এখন আমি নতুন রাজার নাম ঘোষণা করব। যিনি একজন সৎ, সাহসী, নিষ্ঠাবান ও বিজ্ঞ ব্যক্তি। আমার দীর্ঘদিনের সহকর্মী। আমার প্রিয় বন্ধু। আপনাদের সবাইর প্রিয়। তিনি হলেন গফুর মিয়া। আজ থেকে উনিই হবেন সুখনগরের নতুন রাজা।

নতুন রাজার নাম শোনার সঙ্গে সঙ্গে সবাই তাকে করতালি দিয়ে স্বাগত জানায়। একটু আগেও গফুর মিয়া জানত না যে সে-ই হবে সুখনগরের নতুন রাজা। গফুর মিয়ার মাথায় মুকুট পরিয়ে সবাই নতুন রাজাকে বরণ করে নেয়। গফুর মিয়াকে রাজা হিসেবে পেয়ে দেশের সব জনগণ খুশি হয়। দেশজুড়ে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়।

 

"