আমি সোনামণি হতে চাই

প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

সাধন সরকার

আকাশের ওই শুভ্র-সাদা মেঘগুলো যেন আমার ছুটে চলার সঙ্গী হয়। শরতের ওই কাশবন আমাকে যেন দোলা দিয়ে যায়! রৌদ্র-ছায়ার নীরব স্মৃতি আমার পিছু পিছু খেলা করে। নদীতে ভেসে বেড়ানো হাঁসগুলোর সঙ্গে আমারও খেলতে ইচ্ছে করে। প্রজাপতির ওড়াওড়ি দেখে আমারও ওড়তে ইচ্ছে করে। বড় ভাইয়ের সঙ্গে আমি নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাই। বিদ্যালয়ের ফুল বাগানের ঐ হরেক রকমের ফুল আমার দিকে চেয়ে থাকে। আমি হাসলে ফুলগুলো হাসে! বিদ্যালয়ের শিক্ষকের ঐ আনন্দমাখা পাঠ আর বন্ধুদের সঙ্গে খেলা আমার মাঝে আনন্দ দেয়। দলে ভাগ হয়ে আমরা আমাদের বিদ্যালয়ের চারপাশ পরিষ্কার করি।

বাড়িতে ফিরে আমার মায়ের কাজে সাহায্য করি। প্রতিদিন আমি আমার নানার হাত ধরে বিকালের মিষ্টি রোদে বিদ্যালয়ের মাঠে খেলতে যাই। রাস্তার সিগন্যালে লাল আলো জ¦ললে নানা আমাকে থামতে বলেন। সবুজ আলো জ¦ললে আমরা আবার এগিয়ে চলি। মাঝে মাঝে আবার জ্রেবা ক্রসিং দিয়ে রাস্তা পার হই। খেলাধুলার পর আমি ভালো করে হাত ধুই। সন্ধ্যা নামার আগেই আমি ঘরে ফিরে আসি। ঘরে ফিরেই ছাদবাগানে ছুটে যাই। ছাদবাগানের দেখভাল করা আমার নিয়মিত রুটিনকাজ! সন্ধ্যা নামলেই আমি পড়াশোনার লোভও সামলাতে পারি না! খুব ভোরে ঘুম থেকে ওঠা আমার অভ্যাস। রাতে ঘুমানোর আগে ও সকালে ঘুম থেকে উঠে আমি আমার পোকা লাগানো অল্প-স্বল্প দাঁতগুলো পরিষ্কার করি। আমি জানি, মা আমাকে সোনামণি বলতেই বেশি ভালোবাসেন। আমি আসলে সোনামণি হতে চাই!

"