বর্ষার কদম ফুল

প্রকাশ : ০৬ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

হামীম রায়হান

একটা ভালো বেতনের চাকরি ও ঘরে নতুন বৌ রুমা। চিমচাম, সাজানো সংসার আকাশের। ঝামেলা নেই, নেই চাহিদার বাড়াবাড়ি। অফিস থেকে সন্ধ্যার আগে আগে বাসায় ফিরে আকাশ। গোধূলির আলোয় দুজন পাশাপাশি বারান্দায় দাঁড়িয়ে সূর্যাস্ত দেখে। রুমা ভালো গান করতে পারে। মাঝে মাঝে সে রবীন্দ্রসংগীত গায়। আকাশের আকাশে যেন ঝাঁক আনন্দ পাখির মতো উড়ে যায়।

আষাঢ় যেন আকাশের জীবনে আরো ভালোবাসার বন্যা নিয়ে আসে। সন্ধ্যা আরো আবেগময়, ভালোবাসাময়! বর্ষার রিমঝিম সুর, সঙ্গে রুমার কণ্ঠে গান। এক অপূর্ব রহস্যময় পরিবেশ সৃষ্টি হয় আকাশের বারান্দায়!

আকাশের অফিসের সামনেই একটা মস্ত বড় কদম ফুলের গাছ। আষাঢ়ের আগমনে গাছ ছেয়ে গেছে সাদা কদম ফুলে। বৃষ্টির মাঝে কদমগাছের দিকে তাকালেই এক অন্যরকম ভালো লাগা কাজ করে। মনটা রোমান্টিক হয়ে যায়!

সেদিন অফিসের পিয়নকে দিয়ে অফিস ছুটির আগে কয়েকটা কদম ফুল আনায় আকাশ। ফুলগুলো হাতে নিয়ে বেরোনোর সময় অফিসের কলিকরা বেশ দুষ্টামি করল। আকাশের একটু লজ্জা লাগলেও রুমাকে এ ফুল দেওয়ার মুহূর্তের কথা ভেবে বেশ ভালোই লাগছিল। অফিস থেকে বাসার দূরত্ব পায়ে হাঁটা পথে ২০ মিনিট। পথটা আজ বেশ নির্জন। লোকজনও নেই তেমন। আকাশেরও মনটা কেমন কেমন করছিল। রিকশাও নেই। একটা গলির মোড়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে গলি থেকে কয়েকটা ছেলে বেরিয়ে এসে আকাশের পথ আগলে দাঁড়ায়। দেখল একজনের হাতে চাকু। চাকু হাতে ছেলেটা বেশ গম্ভীর স্বরে আকাশকে বলে, ‘পকেটে যা আছে বের কর। সময় নষ্ট করবি না।’ আকাশের পকেটে ছিল মাত্র ২৭ টাকা। মাসের শেষ দিন তাই এ টাকাই ভরসা। আকাশ একবার ভাবল পেছনে দৌড় দেবে। কিন্তু তারা পাঁচজন আকাশকে এমনভাবে গিরে ধরল যে, পেছন যাওয়ার উপায় নেই। তারা জোর করে আকাশের পকেটে হাত দেয়। আকাশ বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা মাত্রই চাকু দিয়ে কোপ দেয় আকাশের কদম ফুল ধরা ডান হাতে। হাত দিয়ে ফিনকি দিয়ে রক্ত বেরোতে থাকে। ছেলেগুলো আকাশের টাকা ও মোবাইল নিয়ে গলির মাঝে অদৃশ্য হয়ে যায়। আকাশের হাতে ফুলগুলো ধরাই ছিল। ধীরে ধীরে সব শরীর অবশ হতে থাকে। জ্ঞান হারিয়ে লুটিয়ে পড়ে মাটিতে।

এরপর আকাশ নিজেকে আবিষ্কার করে হাসপাতালের বিছানায়। শরীর প্রচন্ড ব্যাথা। শরীরের ডান হাতটা দেখল সে কোনোভাবেই নাড়াতে পারছে না। বাম হাত দিয়ে ডান হাতটা ধরতে চাইলে সে আবিষ্কার করে চরম সত্যটা! তার ডান হাতটা তো নেই! এবার সব বুঝতে পারল আকাশ। কেটে ফেলা হয়েছে আকাশের

ডান হাত! সামান্য কটা টাকার জন্য আকাশের জীবনে নেমে

এলো চরম দুর্ভাগ্য। বিছানার পাশে বসে আছে রুমা। নীরবে চোখের জল ফেলছে রুমা। অনিশ্চয়তা ভর করে আকাশের সব চেহারায়। আর কখনো রুমার হাত ধরা হবে না! আর কী

পারবে না রুমার জন্য বর্ষার কদম ফুল আনতে! কদম ফুল

যে রুমার খুব পছন্দের!

"