কুকুর ও খরগোশের গল্প

প্রকাশ : ২৯ জুন ২০১৯, ০০:০০

মিনহাজ উদ্দীন শরীফ

পূর্ব গগনে সূর্য্যরে আলো চারদিকে প্রায় ছড়িয়ে গেছে। হালকা বাতাসও বইছে! বাতাসে ডালপালাগুলো একে অন্যের সঙ্গে ঘর্ষণ খাচ্ছে। আর শুকনো পাতাগুলো বৃক্ষ থেকে মাটিতে ঝরে পড়ছে। বাঁশবনে বকের গুঞ্জন; জারুলগাছে শালিক। সকাল ৯টা বাজে, তখনো ছোট্ট ছেলে জেকিল ঘুমে। ওইদিকে মায়ের মৃদু স্বরে ডাক আসছে। কিরে জেকিল বেলা কয়টা হয়েছে খবর আছে কি? কে শুনে কার কথা। মা বকবক করেই যাচ্ছে। আর এদিকে জেকিল নাক ডেকে ঘুমুচ্ছে। কিছুক্ষণ পরে বাবা বাধ্য হয়ে হাতে ছড়ি নিয়ে ডাকছে। জেকিল বেলা কয়টা হয়েছে তোর কি সেই দিকে খেয়াল আছে? সে তখনো গভীর ঘুমে; বাবা উঠাউঠি দুটো ডাক দিয়েছে তার পরও জেকিল সাড়া দেয়নি বলে বাবা ছড়ি দিয়ে পিটাইতে লাগল। পরিশেষে জেকিলের ঘুম ভাঙল। বাবা বলছেন, কিরে এত্ত করে তোর মা ডাকল আমিও ডাকছি তোর কি কানে দিয়ে কোনো কথা যায়নি? জেকিল বলে, বাবা আর কিছুক্ষণ ঘুমাইতে দাও না? বাবা বলে, আবার ঘুমের কথা বললে আজকে কিন্তু তোর রেহাই নাই বুঝলি। তাড়াতাড়ি উঠে মুখ ধুয়ে নাশতা খেয়ে পড়তে বসো। বাবার আদেশ বলে কথা! জেকিল বিছানা থেকে উঠে ব্রাশ করতে করতে বাগানে গেলো। এটা তার নিত্যদিনের কাজ বাগান দেখা।

বাগানে গিয়ে দেখে আজকে আজব এক কান্ড! একটা খরগোশ ও কুকুর খেলা করছে। খরগোশ ও কুকুরের গায়ের রঙের মধ্যে কোনো পার্থক্য ছিলো না বলে চিনতে একটু অসুবিধা হচ্ছিল। কিন্তু কুকুরটা জেকিলকে দেখা মাত্রই ঘেউ ঘেউ করে উঠলো, তাই সহজে চিনতে পারে। তখন জেকিল ধীরে ধীরে এগিয়ে যায় কাছে। জেকিল তো বিস্মিত! কারণ কুকুরের ও খরগোশের বন্ধুত্ব দেখে। খরগোশ ও কুকুরের বন্ধুত্ব জেকিল জীবন গল্পে ও শুনেনি। খরগোশ তো দেখতেই খুব সুন্দর, তাই জেকিল ধরতে যায়। তখন খরগোশ বলে উঠলো, জেকিল তুমি আমাকে স্পষ্ট করো না। জেকিল তো আবারও বিস্মিত হয়েছে; কারণ খরগোশের মুখে মানুষের মতো বুলি দেখে। জেকিল খরগোশকে বলে, তুমি কথা বলতে পারো? খরগোশ বললো, হ্যাঁ জেকিল! ওই পাশ থেকে কুকুরটা বলে উঠলো, জেকিল আমিও কথা বলতে পারি! জেকিল বললো, তুমিও কথা বলতে পারো। সত্যিই কি বাস্তব, না আমি স্বপ্ন দেখছি। এই বলে হাতে চিমটি কাটে। জেকিল জিজ্ঞাসা করছে তোমরা কোথায় থাকো? খরগোশ বললো, ওই যে তোমাদের বাগের উত্তর দিকের ঘাস বনে। জেকিল বললো, ওইখানে তো অনেক ইঁদুরের বসবাস। ওরা তো তোমার ক্ষতি করতে পারে। এই বললে জেকিল কুকুরটাকে বললো, তুমি কোথায় থাকো? কুকুরটা বলল, বাঁশের বাগানে একটা গর্তে! জেকিল বলবো, ওইখানে তো আরো বিপদ শেয়ালের হাতে পড়লে তোমার প্রাণ হারাতে পারো। তখন খরগোশ ও কুকুর চিন্তায় পড়ে গেছে। তাই দুজনের মতামত নিয়ে জেকিলকে বলে, তুমি কি আমাদের বন্ধু হবে? জেকিল তো এই প্রস্তাবটা আগেই দিতে চেয়েছিল কিন্তু সুযোগ পায়নি বললে বলতে পারেনি। এখন তাদের মুখে এই কথা শুনে খুশিতে আত্মহারা জেকিল। বলল, অবশ্যই আজ থেকে আমরা বন্ধু। জেকিল বলে, তোমাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করে আমার এই নগণ্য জীবন ধন্য। জেকিল বললো, আজ থেকে তোমরা আমার সঙ্গে থাকবা। এখন গিয়ে বাবাকে বললো, তোমাদের কথা তার পরও বাবা অনুমতি দিলে বাসায় নিয়ে যাবো। এই কথা শেষ করতে না করতে বাবা ডাকছে নাশতা করার জন্য। জেকিল ওর বন্ধুদের বলে ৫ মিনিট অপেক্ষা করো, আমি নাশতা খেয়ে এবং অনুমতি নিয়ে আসছি। কুকুর আর খরগোশ বললো, তাইলে যাও বন্ধু আমরা অপেক্ষা করবো।

জেকিল নদীর ঘাটে মুখটা ধুয়ে নাশতা খেতে চলে গেলো গৃহে। বাবা বলে, কিরে মুখ ধুতে এত সময় লাগে? জেকিল বলল, বাবা আপনাকে একটা কথা বলতে চাই, কিন্তু সাহস পাচ্ছি না। বাবা বলে, বোকা ছেলে বাবার কাছে বলতে আবার সাহস লাগে, নিঃসন্দেহে বল্? জেকিল বললো, বাবা আমাদের বাগানে একটা কুকুর আর একটা খরগোশ থাকে! জানো বাবা, ওরা আমাদের মতো কথা বলতে পারে। বাবা প্রথম বিশ্বাস করেনি হেসে উঠে বললো, ওরা কথা বলতে পারে না মানুষের মতো এটা তোমার মনের ভাবনা হয়তো। জেকিল বলে, বিশ্বাস না হলে এখনই আমার সঙ্গে বাগানে চলেন? বাবা বলে, চল তো। গিয়ে দেখে কুকুর আর খরগোশটা দাঁড়িয়ে আছে। বাবাকে প্রথম দেখে ওরা ভয়ে জেকিলের কাছে চলে আসে। জেকিল বললো, বন্ধুরা ভয় পেয়েও না উনিই তো আমার বাবা। তখন কুকুর আর খরগোশটা সামনে এসে বলতে লাগলো, আঙ্কেল আমাদের আপনি বাঁচান! বাবা সত্যিই বিস্ময় হয়েছে। নিজের চোখ; কানকেও বিশ্বাস করাতে কষ্ট হচ্ছিল। পরিশেষে সত্যিটা মেনে নিয়ে ওদের বলল, তোমাদের কি বিপদ আঙ্কেলের কাছে বল। তখন দুজন দুজনের সমস্যার কথা খুলে বলে। বাবা বলল, ও এই ব্যাপার এটা কোনো সমস্যা না। আজ থেকে তোমরা আমার বাসায় থাকবা জেকিলের সঙ্গে। জেকিলসহ কুকুর আর খরগোশ তো খুব খুশি। তারপর বাবা বললেন, এখন বাসায় যাওয়া যাক। বাসায় গিয়ে প্রত্যেকের পছন্দমতো রুম দেওয়া হয়। তারপর থেকে জেকিল; কুকুর আর খরগোশটা সারাক্ষণ ঘরটা আনন্দে মাতিয়ে রাখে।

"