বন্ধুত্ব

প্রকাশ : ২২ জুন ২০১৯, ০০:০০

হামীম রায়হান

কলেজ, প্রাইভেট শেষ করে আসতে আসতে বিকাল হয়ে যায় নাদিয়ার। নাদিয়া এবার স্কুল শেষ করে কলেজে ভর্তি হয়েছে। বাসায় ফিরে অপেক্ষা করতে থাকে কবে তার সবচেয়ে প্রিয় মানুষ, ক্লোজ ফ্রেন্ডটি অফিস শেষে বাসায় আসবে! নাদিয়ার বন্ধুর নাম আহসান উল্লাহ। আহসান-নাদিয়ার বন্ধুত্ব সেই ছোটবেলা থেকেই।

অফিস শেষে বাসায় ফিরে নাদিয়া-আহসান বেরিয়ে পড়ে পার্কে ঘুরতে। মা মানা করলেও কে শুনে কার কথা। সারাটা বিকাল কাটিয়ে সন্ধ্যায় তারা দুজন চুপিচুপি বাসায় ফিরে। আবার শুরু হয় দ্বিতীয় পর্যায়ের মায়ের বকা। লেখাপড়ায় বরাবরই ভালো নাদিয়া। তাই মা লেখাপড়া নিয়ে তেমন একটা চিন্তা করে না। কিন্তু মেয়ে যদি বিগড়ে যায়!

তারা পার্কে বসে বাদাম, ফুচকা খায়। নাদিয়া তার সারা দিনের সব কর্মজ্ঞের কথা আহসানকে খুলে বলে। নাদিয়া কোনো কথা আহসানকে না বলে থাকতে পারে না। আহসানও কেমন করে যেন বুঝে যায় সব। বন্ধুর কাছে তো আর কোনো কিছু লুকাতে নেই! বন্ধুর কাছে সব বলা যায়। স্কুলজীবনে আকাশ নামের একটা ছেলে নাদিয়াকে প্রপোজ করেছিল। সেই কথাও নাদিয়া আহসানকে বলে। প্রথমে ভেবেছিল আহসান রাগ করবে কিন্তু না। সে নাদিয়াকে বোঝাল আগে নিজেকে যোগ্য করে তোলার কথা। নিজের যোগ্যতায় সে যখন প্রতিষ্ঠিত হবে তারপর অন্যসব চিন্তা! তার কথাগুলো মনে ধরেছিলো নাদিয়ার। এ কথাগুলোকে সে আদেশ ভেবে ওসব বিষয় নিয়ে আর ভাবে না। এখন তার চিন্তা শুধু লেখাপড়া, আহসান আর মাকে নিয়ে। এভাবেই অনেক আনন্দে দিন কাটে নাদিয়ার!

ও, নাদিয়া আহসানকে ‘বাবা’ বলে ডাকে। আহসান রুশনি দম্পত্তির একমাত্র মেয়ে নাদিয়া। তাদের সম্পর্কটা বাবা মেয়ের চেয়েও বন্ধুত্বেরই বেশি। নাদিয়ার মা এ নিয়ে সারাক্ষণ পেন পেন করেন, ‘মেয়েটির মাথা খাচ্ছে বাবা। মেয়েকে কোনো শাসন করে না। লাই দিয়ে দিয়ে মাথায় তুলেছে।’

কিন্তু নাদিয়া জানে বাবাই তার সবচেয়ে বড় গাইডলাইন। বাবা কাছে থাকলে তার পথ হারানোর কোনো সম্ভাবনা নাই। এমন বাবা অনেকেই পাই, বন্ধুও। কিন্তু নাদিয়ার মতো দুটো একসঙ্গে কেউ পাই না। এ ভেবে নাদিয়া নিজেকে অনেক ভাগ্যবান মনে করে।

"