কালবৈশাখের গল্প ছবি

প্রকাশ : ১১ মে ২০১৯, ০০:০০

শরীফ সাথী

পাটা চোরার দক্ষিণপাড়ার কৃষকের এক ছোট্ট মেয়ে ডবলে, বৈশাখের এক বিকেল ক্ষণে খড়ের মাঠে পড়ল ঝড়ের কবলে। কৃষক বাবা ধানিজমিতে সেচের জন্য যাই প্রতিদিন একাকী, বাবার সঙ্গে সবুজ মাঠে ঘুরে খুকুর ইচ্ছে কত দেখা কী! দোকান থেকে চকলেট কিনে খুব গোপনে পয়সা দিয়ে কও আনা, বাড়ির কাউকে না বলে সে মনে মনে দিল মাঠে রওনা। মেঠোপথে ছোট্ট পায়ে যাচ্ছে ছুটে দুষ্ট খুকু সানন্দে, বনবনানী পাখপাখালি দৃশ্য কত ভরে চোখে আনন্দে। কালো মেঘে হঠাৎ ছেঁয়ে আঁধার বেয়ে বজ্র আলো তার পাশে, কালবৈশাখের কড়কড়ে মেঘ ঝরায় আবেগ ঝড়-তুফানে চারপাশে। বৃক্ষ ভাঙা ডালপাতা তার ছুটে ছুটে আসছে বেগে গা ছুঁতি, ভয় পেয়ে সে উঠল কেঁদে ছোট্ট মুখে বাঁচাও বাঁচাও আকুতি।

গাছের নিচে বসে দেখে গ্রামখানি তার অনেক দূরের পেছনে, সামনে চেয়ে বাবা ডাকা কান্নাকাটির চেঁচামেচি কে শোনে? দুর্বিসহ ভয়াল ঝড়ে লন্ডভন্ড চারদিকে তছনছে, টোকা মাথায় দৌড়ে বাবা আসার পথে বৃষ্টি কাদায় পচপচে। ঝড়ের তোড়ে রাস্তায় পড়ে একগাদা ডাল ভেঙে আছে মচমচে, তাড়াতাড়ি ডাল সরিয়ে দেখল মেয়ে গায়ের জামা কচকচে। জ্ঞান হারানো মেয়ে দেখে কান্না মেখে তড়িঘড়ি তুলল সে, পাশের গাছে বজ্রপাতের হঠাৎ আলো আওয়াজে চোখ খুলল সে। ডবলে কে কোলে নিয়ে বলল মুখে মামণি তুই এখানে! বাবা তোমার খোঁজে আমি যাচ্ছি মাঠে ছিলে তুমি যেখানে। কালবৈশাখের ভয়াল করুণ ঘটা চিত্র কে কে চোখে এঁকেছো, বলো তো কেউ বাবা-মেয়ের এরূপ দৃশ্য বিশ্ব কোথাও দেখেছো?

"