মিতুর মনে ভালোবাসা

প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

মো. আরিফ হোসেন

মিতু অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্রী। পড়ালেখা করে শহরের একটি ভার্সিটিতে। ছাত্রী হিসেবে খুবই ভালো। ইন্টারে এ প্লাস পেয়েছিল। ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়েছে। মিতু একজন মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে। ভার্সিটির পাশেই ছাত্রীদের মেসে থাকেন। গ্রামের বাড়ি কুমিল্লায়। নিজের পড়ালেখার খরচ অনেকটা নিজেকেই জোগাড় করতে হয়। বাবা একজন সহজ-সরল কৃষক। মা গৃহিণী। একটি টিউশনি করেন মাত্র। সম্মানী পান পাঁচ হাজার টাকা। এতে মেস ভাড়া, কারেন্ট-বিল, বুয়া-বিল ও নিজের ব্যক্তিগত খরচ সহকারে কোনো রকম চলা যায়।

নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকেন। স্যারদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেন। কারো সঙ্গে খারাপ আচরণে লিপ্ত হন না। বন্ধু-বান্ধবরা ওকে খুব ভালোবাসে। ওর কণ্ঠও খুব সুন্দর। খুব ভালো গান গাইতে পারেন। তাই ভার্সিটিতে খুব জনপ্রিয়। মিতু প্রতিদিন ভার্সিটির ডান পাশের রাস্তা দিয়ে চলাফেরা করেন। হঠাৎ একদিন চোখে পড়ল; একজন পথশিশু চিৎকার করে কাঁদছে। গায়ে ছেঁড়া জামা। জিজ্ঞেস করে জানতে পারল, ওর আব্বু নেই, কিছুদিন আগে মারা গেছে। আম্মু খাবারের জন্য কোথায় গেছে, এখনো ফিরে আসেনি। তাই ক্ষুধার যন্ত্রণায় বসে বসে কাঁদছে।

মিতুর মনে ভালোবাসা জাগল। দোকান থেকে ওকে কিছু খাবার কিনে দিল। শিশুটি খুবই খুশি হলো, যেন বহুদির পর ওর মুখে হাসি ফুটেছে। এখন শীতকাল, ওদের জন্য ভীষণ কষ্টের দিন। শীতের তীব্রতা যত বাড়বে, ততই ওদের দুঃখ-দুর্দশা বৃদ্ধি পাবে। তাই টিউশনির টাকা থেকে সামান্য কিছু টাকা দিয়ে, একটি নতুন জামা কিনে শিশুটির গায়ে পরিয়ে দিলেন। বন্ধু-বান্ধবরা তার সহানুভূতি ও ভালোবাসা দেখে খুবই অনুপ্রাণিত হলেন এবং সবাই মিলে প্রতিষ্ঠিত করলেন ‘বিশ্ববিদ্যালয় পথশিশু উন্নয়ন ফাউন্ডেশন’।

"