কুমির ও কাঠবিড়ালি

প্রকাশ : ০৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০

মো. মাঈন উদ্দিন

গভীর বন। এ বনে বাস করত এক কাঠবিড়ালি। বনের মাঝ দিয়ে বয়ে গেছে মাঝারি আকারের এক নদী। এই নদীতে বাস করত এক কুমির। নদীর কুমির এবং বনের কাঠবিড়ালির মধ্যে ছিল নিবিড় বন্ধুত্ব। কুমির নদীর সুস্বাদু মাছ ধরে কাঠবিড়ালিকে খেতে দিত। কখনো কখনো কুমির কাঠবিড়ালিকে তার পিঠে করে সারা নদীতে ঘুরে বেড়াত আর গল্প করত। সকাল বেলা মিষ্টি রোদে নদীর ধারে উঠে আসত কুমির, সঙ্গে কুমিরের দশ বারোটা বাচ্চা। ঠিক সেই সময়ে হাজির হতো কাঠবিড়ালি ও তার বাচ্চারা। সকলে মিলে জাম্পেশ আড্ডা জমে উঠত। নদীর রাজা কুমিরের সাথে বনের একটা পুঁচকা কাঠবিড়ালির এমন সৌহার্দ্য সম্পর্ক দেখে বনের অন্য প্রাণীদের হিংসা হতো। একদিন সকালবেলা নদীর ধারে কুমিরের বাচ্চা রোদ পোহাচ্ছিল। এমন সময় এক দুষ্টু শিয়াল কুমির-ছানার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। কাঠবিড়ালি তালগাছের ওপর শুয়ে ঘুমাচ্ছিল। কুমির ছানার চিৎকারে কাঠবিড়ালির ঘুম ভেঙে গেল। কাঠবিড়ালি পাকা তাল নিক্ষেপ করল শিয়ালের মাথায়। পাকা তালের আঘাতে দুষ্টু শিয়াল সেখানেই মারা গেল। এ ঘটনার পর কুমির কাঠবিড়ালির কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করল। একদিন পড়ন্ত বিকেলে কাঠবিড়ালি আর কুমির নদীর ধারে বসে গল্প করছিল। কুমির বলল, খুব খিদে পেয়েছে বন্ধু। আমাকে যেতে হবে। কিছু মাছ ধরতে হবে। তারপর খেয়ে ক্ষুধা নিবারণ করতে হবে। কাঠবিড়ালি বলল, বন্ধু তুমি চিন্তা করো না। এই বলে সে এক লাফে আপেল গাছে উঠে গেল। পাকা পাকা আপেল এনে কুমিরকে বলল, বন্ধু এই নাও ফল। খেয়ে ক্ষুধা নিবারণ করো। কুমির বলল, আমি নদী-সমুদ্রের বড় বড় মাছ খেয়ে অভ্যস্ত। বনের এসব ফল কি ভালো লাগবে? কাঠবিড়ালি বলল, খেয়েই দেখো না। আচ্ছা তুমি যেহেতু বলছ, তাহলে পরখ করেই দেখিÑবলে কুমির একটি আপেল মুখে দিয়ে আশ্চর্য হয়ে বললÑআহ্, দারুণ স্বাদ তো। আপেল যে এত মজা তা সে এত দিন চিন্তাও করতে পারেনি। আরেক দিন কাঠবিড়ালি গাছে পাকা কমলা এনে কুমিরকে খেতে দিল। কমলা খেয়ে কুমির আরো আশ্চর্য হলো। এরপর সে নিয়মিত বনের ফল খেতে চাইত। কাঠবিড়ালি বিভিন্ন জাতের ফল কাঠবিড়ালির সামনে হাজির করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করত। ভিন্ন ভিন্ন স্বাদের ফল খেয়ে কুমির ভাবল, এ বনে কত জাতের পাকা ফল পড়ে থাকতে দেখেছি। কিন্তু ফলে যে এত স্বাদ তা তো কল্পনাও করতে পারিনি। আরো আগে কেন বনের ফল খাইনি। একদিন কুমিরের পিঠে চড়ে কাঠবিড়ালি নদী পার হচ্ছিল। নদীর মাঝে গিয়ে কুমির বললÑআচ্ছা বন্ধু, তুমি কি ছোট বেলা থেকেই ফল খাও। কাঠবিড়ালি বলল, আমাদের প্রধান খাদ্যই হলো বিভিন্ন জাতের ফল। কুমির সিদ্ধান্ত নিল আজই সে কাঠবিড়ালির কলিটা টেনে খাবে। হঠাৎ কুমির পানির নিচে যেতে লাগল। কাঠবিড়ালি বললÑবন্ধু, তুমি পানির নিচে যাচ্ছ কেন? কুমির বলল, বন্ধু আমাকে মাফ করে দিও। আমি আজ তোমার কলিজা খাব। ফল খেয়ে যে কলিজা গঠিত হয়েছে, সেই কলিজার মধ্যে যেন কত মজা। কাঠবিড়ালি মনে মনে চিন্তা করতে লাগল, কীভাবে কুমিরের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। সে বলল, বন্ধু, তুমি আমার কলিজা খাবা, এটা আগে বলবে না। আমি তো কলিজা গাছে রেখে এসেছি। বন্ধু তুমি আমাকে নদীর ধারে নিয়ে চলো। আমি গাছ থেকে কলিজাটা নিয়ে আসি, তখন খেয়ো। কুমির কাঠবিড়ালিকে নদীর ধারে নিয়ে এলো। পাড়ে নেমে কাঠবিড়ালি বললÑ লোভী কুমির, তুমি কি করে ভাবলে ছাড়া পেয়েও তোমার কাছে ফিরে আসব। আর হ্যাঁ, লোভের কারণে বন্ধুও যে শত্রুতে পরিণত হয়, তুমি তার উদাহরণ হয়ে রইলে।

"