বরফ মহাদেশের কথা

প্রকাশ : ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

আবু আফজাল সালেহ

এন্টার্কটিকার নাম তোমরা নিশ্চয় শুনেছো! বরফশীতল মহাদেশ এটি। তোমরা জানো যে, পৃথিবীতে সাতটি মহাদেশ রয়েছে। এটিও একটি মহাদেশ। বেশ কিছু দেশ নিয়ে মহাদেশ হয় তোমরা তা জানো। কিন্তু এ মহাদেশ এ রকম নয়। এ মহাদেশের কোনো দেশ নেই। আবার স্থায়ী বাসিন্দাও নেই। এটার মালিকানাও কারো দখলে নেই! হ্যাঁ তাই। গরমকালে এখানে ৪ হাজারের মতো পর্যটক আসে এবং শীতকালে এক হাজারের নিচে নামে। শীতকালে এখানে তাপমাত্রা নামে মাইনাস ৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে! ভাবা যায়!

এন্টার্কটিকার সুমেরুবৃত্তের প্রায় পুরোটা জুড়েই এই মহাদেশের বিস্তার, এর মানে হলো প্রায় সারা বছরই এই স্থানের তাপমাত্রা শূন্য ডিগ্রির নিচে থাকে। এমন প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে পৃথিবীর অন্যান্য জায়গার তুলনায় এখানে বসবাস করা অত্যন্ত দুরূহ ব্যাপার। তাই এখানে মাত্র ৩০০ প্রজাতির জলজ উদ্ভিদ পাওয়া যায়। আর প্রাণীদের মধ্যে পেঙ্গুইন, শিলজাতীয় আর পিলেতজিক নামক মাছ বাস করে এ ঠা-ার মহাদেশে। অন্যতম প্রিয় পাখি পেঙ্গুইন। এখানে রানি বলা হয় পেঙ্গুইনকে। আমরা বলি ‘কোটপরা ভদ্রলোক’। তোমাদের জন্য কৌতূহলী এক প্রাণী হচ্ছে পেঙ্গুইন। সঙ্গে এন্টার্কটিকা মহাদেশও।

এন্টার্কটিকা মহাদেশ মূলত কঠিন বরফের এলাকা। বরফের রাজত্ব প্রায় ৫৪ লাখ বর্গমাইলেরও বেশি জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এবং এ কারণে এই মহাদেশ হয়ে উঠেছে পৃথিবীর ৫ম বড় মহাদেশ। এখানে প্রায় ৩০০টি হ্রদের সন্ধান পাওয়া গেছে। পৃথিবীতে বিশুদ্ধ পানির অভাব ক্রমেই বাড়ছে। তোমরা জেনে রাখোÑপৃথিবীর বিশুদ্ধ পানির শতকরা ৭০ ভাগ এ মহাদেশেই জমা রয়েছে এবং তার বেশির ভাগই জমা হয়ে। মানে বরফ হয়ে। তোমরা জেনে আশ্চর্য হবে এই যেনে, এখানে বরফের যে স্তর রয়েছে, তার মধ্যে সবচেয়ে কম পুরুর স্তর হচ্ছে প্রায় এক কিলোমিটারের।

তোমরা অভিযাত্রিক ক্যাপ্টেন জেমস কুকের নাম শুনেছো। ইনি ছিলেন ইংরেজ। এন্টার্কটিকা নামে যে একটি মহাদেশ আছে এটির প্রথম ধারণা দেন এই ব্রিটিশ পর্যটক। তিনি দুবার (১৭ জানুয়ারি, ১৭৭৩ এবং ১৭৭৪ সালে) এন্টার্কটিকা অতিক্রম করেন। তাই তাকে এন্টার্কটিকার আবিষ্কারক বলা হয়ে থাকে। তার আগে কয়েকজন রাশিয়ান (রাশিয়ার নাগরিক) এ মহাদেশের কিছু কিছু অংশ শনাক্ত করেছিলেন বলে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা জানায়। তবে তারা পরিষ্কার ধারণা দিতে পারেননি। বিস্তারিত ধারণা দেন জেমস কুক। এ ব্যাপারে কোনো দ্বিমত নেই।

এন্টার্কটিকার ৪৫ শতাংশ বরফ সেল, ৩৮ শতাংশ বরফ দেয়াল, ১৩ শতাংশ বরফ স্রোত এবং বাকি ৪ শতাংশ হলো শিলা দিয়ে গঠিত। মাঝে মাঝে রয়েছে বরফ পাহাড় এবং আছে দুটো সাগর। এন্টার্কটিকা মহাদেশের মধ্যে রয়েছে ‘ট্যান্স আন্টার্কটিক’ পর্বতশ্রেণি, যা এ মহাদেশকে পূর্ব ও পশ্চিম অংশে ভাগ করেছে।

এন্টার্কটিকা তার সাদা বরফে আবৃত করে রেখেছে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ পর্বতমালা। যার নাম গ্যাম্বার্টসেভ। এই পর্বতমালার সর্বোচ্চ শৃঙ্গের উচ্চতা প্রায় ৯,০০০ ফুট, যা বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হিমালয়ের প্রায় তিন ভাগের একভাগের সমান।

এন্টার্কটিকায় যাওয়া দুরূহ ব্যাপার এবং কষ্টসাধ্য। কেউ যদি যেতে চান তাহলে তাকে প্রথমে নিউজিল্যান্ড বা অস্ট্রেলিয়া যেতে হবে। সেখান থেকে বিমান বা জাহাজে এখানে যাওয়া যাবে। নিউজিল্যান্ড বা অস্ট্রেলিয়া থেকে সরাসরি বিমান সার্ভিস রয়েছে। ১৯৮০ সালের পর থেকে অস্ট্রেলিয়া-এন্টার্কটিকা বিমান সার্ভিস আছে, যা ‘কোয়ান্টাস’ নামে পরিচিত। এটা নিয়মিতই যাতায়াত করে থাকে বলে জানা যায়।

 

"