খোকার স্বপ্ন

প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

মো. আরিফ হোসেন

খোকা প্রতিদিন বসে বসে ভাবে সে চাঁদের দেশে যাবে। চাঁদের বন্ধু হয়ে সারা আকাশ ঘুরে বেড়াবে। এর চেয়ে বড় একটি স্বপ্ন খোকার অন্তরে লুকায়িত। কাউকে তার গোপন স্বপ্নের কথা বলতে চায় না।

এই তো, গত রাতে যখন জানালার পাশে বসে আকাশের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে ভাবছিল, তা হঠাৎ খোকার আম্মুর চোখে পড়ল। তাই প্রশ্ন করলÑ

কী ভাবছিস খোকা?

-কিছু না মা, বসে বসে ওই আকাশটা দেখতেছি।

অথচ খোকা ভাবতেছে কীভাবে চাঁদের দেশে যাবে।

এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় বিচরণ করতে হলে যানবাহনের প্রয়োজন। আবার একদেশ থেকে অন্য দেশে যেতে হলে একটি বিমানের প্রয়োজন। তেমনি করে চাঁদের দেশে ভ্রমণ করতে হলে একটি রকেটের প্রয়োজন।

-কোথায় পাবে রকেট?

খোকার মনে তা বারবার ঘোরপাক খাচ্ছে।

-কী করবে এখন?

এদিকে খোকার আব্বুও জীবিত নেই!

মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি-হানাদার বাহিনী নির্মমভাবে শহীদ করেছে খোকার আব্বুকে এবং তাদের পুরাতন ঘরটাও জ্বালিয়ে দিয়েছে আগুন দিয়ে।

সে থেকে খোকারা খুবই অসহায় হয়ে পড়ে। তবু খোকার আম্মু, পাশের বাড়িতে কাজ করে করে পরিবারের ভরণপোষণের ব্যবস্থা করেন ও দু-চালা একটি ঘর নির্মাণ করেন।

আজ খোকার পাশে দাঁড়ানোর মতো দুখিনী-মা ছাড়া আর কেউ নেই।

তবু খোকা হতাশ নয়। হঠাৎ করে খোকার মাথায় একটি বুদ্ধি এলো। সে নিজেই রকেট আবিষ্কার করবে।

সেই অনুপাতে পড়ালেখা ও বিজ্ঞানবিষয়ক বইগুলো রিচার্স করা শুরু করল।

এভাবেই কেটে গেল কয়েকটা বছর। আজ খোকা একজন বিজ্ঞানী ও রকেট আবিষ্কারক। আজও খোকার গোপন স্বপ্নের কথা কাউকে বলেনি। এবার শুধু বলা নয়। পৃথিবীর মানুষকে বুঝিয়ে দেবে তার স্বপ্নের মূল রহস্যটাও ।

অন্তরে কতটুকু প্রেম থাকলে মানুষ এমন কাজ করতে পারে, তা খোকার চেষ্টার মধ্য দিয়েই বোঝা যায়।

মায়ের দোয়া ও ভালোবাসা নিয়ে খোকা চাঁদের দেশে রওনা দিল এবং সেখানে গিয়ে পৌঁছাল। যাওয়ার সময় প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী ও বুকে জড়িয়ে একটি পতাকা নিয়ে গেল। সে পতাকাটি হলো-

এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ের স্পন্দন। যার জন্য এ দেশের মানুষকে জীবন বাজি রেখে দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধ করতে হয়েছিল।

যে পতাকা অগণিত মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। সেই লাল সবুজের পতাকা চাঁদের বুকে উত্তোলন করে, খোকা তার নিজের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করলেন। আজ খোকা পৃথিবীর একজন সফল মানুষ।

"