হারিয়ে যাওয়া কলা ম্যাট রেইন

প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০১৮, ০০:০০

ভাষান্তর : আল ফাতাহ মামুন

আমার নাম জেসিকা। আমি সেন্ট যোসেফ স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ি। আজ তোমাদের পরিচয় করিয়ে দেব আমার তিন বন্ধুর সঙ্গে। স্কুলে ওরা গোয়েন্দা নামে পরিচিত। পিটার স্যার ওদের ডাকেন খুদে গোয়েন্দা বলে। পিটার স্যার ভারী মারকুটে স্বভাবের। লাঠির মায়ের নয়, মুখের মায়ের। আমরা সব সময় এই বলে ঘর থেকে বেরুই, হে ঈশ্বর! আজ যেন পিটার স্যারের স্বীকার হতে না হয়। বেশির ভাগ দিনই গড আমাদের কথা শোনেন। কদাচিৎ গড ভুলে যান। সেদিনটিই পিটার স্যারের দিন হয়ে ওঠে। থাক সেসব কথা। এসো পরিচয় হই গোয়েন্দা বন্ধুদের সঙ্গে। তালগাছের মতো লম্বা মানুষ দেখেছো কখনো? কেভিন সে রকম। এতটুকুন বয়সেও উচ্চতায় ওর আম্মুকে ছড়িয়ে গেছে। ক্লাস নাইনের প্যাটেল হলো স্কুলের সবচেয়ে লম্বা ছেলে। তারপরই আমাদের গোয়েন্দা

বন্ধু কেভিনের স্থান।

অর্থি ঠিক কেবিনের বিপরীত। সবচেয়ে খাটো মেয়ে স্কুলের। তবে অসম্ভব মেধাবী। খুদে গোয়েন্দা দলের তৃতীয় সদস্য হলো রিচিটা। তেমন লম্বাও নয়। বেঁটেও নয়। বুদ্ধি-শুদ্ধিও স্বাভাবিক। অর্থির চেয়ে কম, কেভিনের চেয়ে বেশি। রিচিটার সবচেয়ে ভালো দিক হলো, স্বাভাবিক বুদ্ধি দিয়েই সে অস্বাভাবিক সব সূত্র মিলিয়ে নেয়। তাই খুদে গোয়েন্দা দলে শক্ত জায়গা করে নিয়েছে বাকি দুজনের মন জয় করে। সকাল থেকেই আমার কাজিন প্রতীকের দারুণ মন খারাপ। জিজ্ঞেস করতেই বলল, সকালে নাশতার সময় আম্মু একটি কলা দিয়েছিল। কিন্তু কলাটি এখন পাচ্ছি না। অ্যা...অ্যা...

আচ্ছা! আচ্ছা শোন। আমি তোমার কলাটি খুঁজে দিতে পারব। সত্যি! হ্যাঁ! সত্যি। তার আগে তোমাকে একটি কাজ করতে হবে? কী কাজ? কান্না বন্ধ করো। শান্ত হও। আমার গোয়েন্দা বন্ধুরা তোমার কলাটি খুঁজে দেবে। প্রতীককে থামিয়ে খুদে গোয়েন্দা দলকে ফোন করলাম।

কেভিন, অর্থি, রিচিটা মিলে সারা ঘর খুঁজেও কলা তো দূরের কথা, কলার গন্ধও পেল না। ভারি মুশকিল পড়লাম তো! বলল কেভিন। তাহলে এখন কী করব? অর্থি জিজ্ঞেস করে। রিচিটা বলল, আমরা কেন প্রতীককে জেরা করছি না? ‘ইয়েস’ বলে লাফিয়ে ওঠল তিনজনই। প্রতীক এখন তিন গোয়েন্দার মুখোমুখি। প্রথমে কেভিন জিজ্ঞেস করে, প্রতীক! তোমার কী মনে আছে সর্বশেষ কলাটি কোথায় রেখেছিলে? মাথা চুলকাতে চুলকাতে প্রতীক জানায়, কিছুই মনে করতে পারছে না সে। ঠিক আছে। কোনো ব্যাপার না। এটা বলো, কতক্ষণ আগে তুমি শেষবারের মতো কলাটি দেখেছিলে? অ্যা...অ্যা... কিছুই মনে পড়ছে না আমার। অ্যা...অ্যা...

এবার অর্থি কথা বলে। কান্না থামাও প্রতীক। আমরা অবশ্যই তোমার কলা খুঁজে বের করব। কান্না থামিয়ে অর্থির দিকে তাকায় প্রতীক। অর্থি জিজ্ঞেস করে, সকাল থেকে এ পর্যন্ত কী কী করেছো তুমি? তুমি কি সকালে খেলা করেছো? তারপর কোনো বই পড়েছো অথবা কোনো বন্ধুর সঙ্গে বেড়াতে গিয়েছো? আমি এ রকম কিছুই করেনি।

তাহলে অন্য কী করেছো? তুমি কী খাবার টেবিলে গিয়েছিলে? চোখ বড় বড় করে জিজ্ঞেস করে রিচিটা। খাবার টেবিলে...খাবার টেবিলে...সেখানে তুমি একটি কলা দেখতে পাও। কলা...কলা...এবং সেটি খেয়ে ফেল। ওয়েট। ওয়েট। আমার কিছু মনে পড়ছে। আর কলাটি এখন তোমার পেটেই আছে। রাইট? রিচিটা একদম ঠিক বলেছো তুমি। কলাটি আমি খেয়ে ফেলেছি। আনফোর্চুনেটলি তা ভুলে যাই। আর তোমাদের ডেকে এনে কষ্ট দিই। সো সরি গোয়েন্দা বন্ধুরা। হুররে! আমরা রহস্যের সমাধান করে ফেলেছি-বলে লাফিয়ে ওঠে খুদে গোয়েন্দা দল।

"