মৌসুমী হালকা সাজে

প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০

জীবনযাপন ডেস্ক

বাংলার প্রকৃতিতে লেগেছে শীতের ছোঁয়া। দিনের তাপমাত্রায় কিছুটা গরম অনুভূত হলেও রাতে চলে আসে সহনীয় পর্যায়ে। শীতের মৌ মৌ গন্ধে ভেসে আসছে উৎসবের নানা আমেজ। শুধু কি তাই? কদিন পরেই শুরু হবে বিয়ে, জন্মদিন সহ আরো কত অনুষ্ঠান। আর এ সময়ের অনুষ্ঠানাদিতে সাজপোশাকেও আসে নানা বৈচিত্র্য। আবহাওয়া থাকে নাতিশীতোষ্ণ। ফলে জমকালো পোশাক পরাসহ ভারী মেকআপ সবই করা যায়। তাই গরমে অস্বস্তির কথা ভেবে এতদিন যেসব পোশাক তুলে রেখেছিলেন এখন এগুলো অনায়াসো ব্যবহার করতে পারেন।

এ সময়ে সিল্ক, সুতি, মসলিন, অ্যান্ডি কাপড়ের পোশাক আকর্ষণীয় এবং আরামদায়ক। শাড়ির সঙ্গে লম্বা হাতার ব্লাউজ পরুন, ফ্যাশনের সঙ্গে হালকা শীত তাড়াতেও কাজে দিবে। শীতের সাজপোশাকে রাখতে পারেন রঙের খেলা। লিপস্টিক তো কমবেশি সবাই উজ্জ্বল রঙের ব্যবহার করছেন। এ সময়টাতে শুধু লিপস্টিক নয়, ব্লাশন, আইশ্যাডো, মাশকারা সবকিছুতেই নিয়ন রং, চকচকে রঙের একটা প্রভাব থাকবে। গরমে লিপগ্লস ব্যবহারে অস্বস্তি হয় কিন্তু শীতে এ ঝামেলা নেই, বরং এ সময় ঠোঁট ফাটা এবং শুকিয়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা দেয় বলে ম্যাট লিপস্টিকের চেয়ে গ্লসি লিপস্টিক কিংবা ক্রিমি বা ভেলভেট ধরনের লিপস্টিক ভালো। সাজের ক্ষেত্রে শিমারি বেইজ মেকআপ বেছে নিতে পারেন।

দিনের বেলা দাওয়াতে পরতে পারেন সুতি, রেশমি কটন, কোটা, জুট কটন, হাফসিল্ক শাড়ি। সুতি শাড়িতে হাতের কাজ, গুজরাটি, স্ক্রিন প্রিন্ট, মেশিন অ্যাম্ব্রয়ডারি নকশা এখন বেশি চলছে। কাজ ভারী হলেও এসব নকশায় গরম কম লাগে। পরতে পারেন লং সালোয়ার-কামিজ, ডাবল লেয়ার কামিজ, কুর্তিও। পোশাক তো হল, এবার কীভাবে সাজবেন জেনে রাখুন, হেমন্তের এ সময়ে দিনের বেলাতেও জমকালো সাজে সাজতে পারেন। সাজের ক্ষেত্রে চুলটাকে একটু অগোছালো করে সাইডে ছেড়ে রাখলে স্টাইলিশ লাগবে। করতে পারেন লম্বা বেণি। শাড়ির সঙ্গে ফন্ট সাইড টুইস্ট করে মাথার মাঝ বরাবর একটু ফুলিয়ে পেছনে বেণি খোঁপা করে ক্লিপ দিয়ে আটকে দিতে হবে। সালোয়ার-কামিজের সঙ্গে হালকা রোল, কার্ল করে চুল ছেড়ে রাখতে পারেন। চোখে কাজল, মাশকারা ঘন করে লাগালে সুন্দর লাগবে। আইশ্যাডো ব্যবহার করুন কপার, ব্রোঞ্জ রঙের। রাতের দাওয়াতে ভালো লাগবে ঝলমলে শাড়ি। এ ক্ষেত্রে প্রাধান্য দিতে পারেন ঢাকাই জামদানি, রাজশাহী সিল্ক, মসলিন, কাতান শাড়িতে জারদৌসি, জরি সুতার কাজ। জমিনে হালকা, পাড়ে ভারী নকশার শাড়ি এখন জনপ্রিয়। ম্যাজেন্টা, নীল, লাল, মেরুন, সবুজ, কালো ধাঁচের রংগুলো ঝলমলে সন্ধ্যায় পরফেক্ট। পরতে পারেন উজ্জ্বল রঙের সালোয়ার-কামিজও। হেয়ার স্টাইলের ক্ষেত্রে চুলের সামনের দিকটা হালকা ফুলিয়ে সোজাসাপটা ব্লু ড্রাই করে চুল খোলা রাখতে পারেন। লম্বা চুলে বেণী করে তাতে লাগান যেতে পারে বাহারি ফুল। এ বেলায় চোখের সাজে গুরুত্ব দিন। পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে দুই রঙের আইশ্যাডোর মিশেলে চোখের ওপরের পাতা সাজিয়ে নিন। ভারী সাজের সঙ্গে থাকা চাই আইল্যাশ, মাশকারা এবং আইলাইনার। জুয়েলারি হিসেবে স্টোন, সোনা কিংবা সোনার প্রলেপ দেওয়া গহনা বেছে নিতে পারেন। সাদামাটা পোশাক রাতের সাজে মানানসই নয়। রাতের পার্টির জন্য হাফসিল্ক, অ্যান্ডি, জামদানি, মসলিনের ঐতিহ্যবাহী শাড়ি ভালো লাগবে। পার্টিতে পরার জন্য আমাদের দেশীয় ঐতিহ্যবাহী শাড়িই সেরা। জরি-চুমকির কাজ বাদ দিয়ে এখন ট্রেডিশনাল শাড়িতে ছিমছাম বুটি নকশা, সুতার কাজ, কারচুপি, মেশিন এমবয়ডারির কাজে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে কেউ যদি স্টোনের ভারী কাজের শাড়ি পরতে চান সেক্ষেত্রে জর্জেট, সিল্কের ওপর জারকান স্টোন, জারদৌসি, গোটাপাত্তি, এমবয়ডারির কারচুপি কাজ জমকালো লুক আনবে। এ ছাড়া রাতের অনুষ্ঠানে পোশাকটা জমকালো হলে তার সঙ্গে একেবারে লাইট সাজ মানাবে না। রাতে একটু ব্রাইট টোনের সাজ ভালো লাগবে।

"