ক্যারিয়ারের একযুগ পার করলাম : এডলফ খান

প্রকাশ | ১২ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

তুহিন খান নিহাল

দেশের জনপ্রিয় কোরিওগ্রাফার এডলফ খান। কিছু মানুষকে তিনি স্বপ্নকন্যা, রাজকুমার করে গড়ে তোলেন। সেই ২০০৭ সালে যার মডেলিংয়ে যাত্রা। সেই থেকে আজ অবধি পার করেছেন ক্যারিয়ারের একযুগ। তার সঙ্গে কথা বলেছেন তুহিন খান নিহাল

 

ক্যারিয়ারের এক যুগ

হ্যাঁ, আমার ক্যারিয়ারের একযুগ পার করলাম। সামনে একটি বড় শো আছে। যেখানে ফ্যাশন ফটো প্রদর্শনী হবে। প্রদর্শনীতে অংশ নেবেন দেশের অনেক তারকা মডেলরা। প্রদর্শন হবে বিভিন্ন ডিজাইন, স্টাইলিং, কোরিওগ্রাফি, গল্প নির্ভর মডেলিং প্রদর্শনী। তখনি আয়োজন করে আমার ক্যারিয়ারের একযুগ উদযাপন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

ক্যারিয়ারের শুরুর কথা জানতে চাই

২০০৭ সালের দিকে আমি একজন মডেল হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করি। তখন আমার শিক্ষক ছিলেন বুলবুল টুম্পা। ২০০৭ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত আমি ক্যামেরার সামনে থেকেই কাজ করি। এরপরই মডেলিং শেষ করি। তবে দশ সাল থেকেই আমি ক্যামেরার পাশাপাশি পেছনে কাজ করা শুরু করি। পাশাপশি ডিজাইন আর কোরিওগ্রাফি করি।

কোরিওগ্রাফিতে আসা

১২ সালের পর আমার কাছে মনে হলো আমিই মডেলিং করি আবার আমিই স্টাইলের নির্দেশনা দিচ্ছি। বিষয়টি কেমন জানি লাগতো। মনে হলো আমিই লিডিং দিই লিডার হই। তবে এর আগেই ২০১১ তে গ্রুমিং স্কুল শুরু করি একেসি নামে। তখন থেকেই ডিজাইনে গুরুত্ব দিই। পাশাপাশি এগোরোতে নিজের ব্যন্ড অটোগ্রাফ প্রতিষ্ঠা করি। পরবর্তীতে মনে হলো বাইরে কাজ করি। তখনি মুম্বাই, কানাডা, ইটালিতে কিছু প্রদর্শনীতে অংশ নেই। তখন কানাডার একটি প্রদর্শনীতে আমার লুকটি বেশ আলোচনায় আসে। এরপর থেকেই নিয়মিত কোরিগ্রফি, ডিজাইন ও স্কুল চালাই। সেই ১২ থেকে আজ ১৯ এ এসে কোরিওগ্রাফি, স্টাইলিং, গ্রুমিং আমার রক্তে-রক্তে। মডেল বানাই এইতো চলেছে।

১২ বছরের প্রাপ্তি

আমি একজন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার। পড়াশুনায় খুব ভালো ছিলাম। ওটাকে স্টপ করেই আমার মিডিয়ায় আসা। রক্তে মিশে থাকা শিল্পে চলে আসা। অনেক স্ট্রাগল, বদনাম, আলোচনা, সমালোচনা, অনেক প্রাপ্তি সব মিলিয়ে মানুষটা আমি এডলফ খান। আমার প্রাপ্তির কথা যদি বলি সবার ভালোবাসা, সম্মান, একজন মডেল, কোরিওগ্রাফার, ডিজাইনার, মডেল গ্রুমার, শিল্পী এটাই আমার প্রাপ্তি। মোটকথা ১২ বছরের প্রাপ্তি এই আমি এডলফ খান।

গ্রুমিং স্কুল নিয়ে জানতে চাই

আমার গ্রুমিং স্কুলের নাম একেসি গ্রুমিং স্কুল। বর্তমানে ছেলে-মেয়ে মিলিয়ে ৩০ জনের ব্যাচ। এই স্কুলের শিক্ষার্থী ছিল অনেকেই। যারা আজ প্রতিষ্ঠিত।

আপনার সময়কার মডেলিং ও এখনকার মডেলিংয়ের পার্থক্য

পার্থক্য যদি বলতে হয় আমার মতে তখন কাজের অনেক গুরুত্ব ছিল, মূল্য ছিল, সুস্থ প্রতিযোগিতা ছিল, কাজ করার আনন্দ বা অনুভূতি ছিল। সবারই খুব বেশি ফোকাস ছিল। আর এখনকার কথা বলতে গেলে মডেল-মডেলিং বিষয়টা ফেজবুক নির্ভর হয়ে গেছে। শো-অফ, শুট চলছে, সেলফি দিতে হবে এটাই তাদের মধ্যে কাজ করে। মূলকথা কারোরই কোনো ক্যারিয়ার হচ্ছে না। আজকের মডেলকে কালকে মানুষ ভুলে যাচ্ছে। সংখ্যায় অনেক মডেল তাই কারোরই কাজ দর্শকদের মনে থাকেনা। আর আমাদের সময় কাজ করলে একটা বড় আলোচনা হতো। কে কাজটি করেছে! আলোচনা হতো কাজের ভালো-খারাপ নিয়ে। সবাই কাজ পাগল ছিল। এখনকার মডেলরা খুব তাড়াহুড়া, অল্প সময়ে অনেক বড় হতে হবে এ অস্থিরতা তাদের মাঝে কাজ করে।

একজন মডেল হতে হলে কী দরকার

আমিও মডেল বানাই। আমার মতে কথা বলা, হাঁটা চলা, ফ্যাশন সেন্স, কথা বলার স্টাইল, সমাজে মেশার স্টাইল, এক্সপেশন, অভিনয়, নিজের সদ ইচ্ছা এসব কিছু বাস্ততায় রূপ নিলেই একজন মডেল হওয়া যায়।

অভিনেতা এডলফ খান

ন্ডম, আমি বেশ কিছু নাটকে অভিনয় করেছি। বেশ কিছুদিন আগে বলিউডে একটি মুভি করার কথা ছিল আমি আর মম। ওটা শুরু হয়নি। তবে আবার কাজটি বন্ধও হয়নি। তবে এর মধ্যেই ভালো কাজ হলে আশা রয়েছে কাজ করার।

মডেলিং সেক্টরের উন্নতি করতে চাইলে

শ্রদ্ধা ভালোবাসা। ছোট থেকে বড় সবাইকে মূল্যায়ন করতে হবে, শিখতে হবে। শুধু মডেল বা কোরিওগ্রাফার না একটা টেকনেশিয়ান, মেকআপ আটিষ্ট সবাইকে সম্মান করতে হবে। ভালোবাসা দিতে হবে। গুনীদের কদর করতে হবে। তাহলেই এগিয়ে যাবে আমাদের এই

মডেলিং সেক্টর।

নিজের ইচ্ছা

মডেল বানাই, বানিয়ে যাব। ভালো কাজ করবো। যেটা মানুষ পছন্দ করে। চেষ্টা করবো দেশের মানুষকে কিছু একটা দিয়ে যাবার।

 

"