পূজার সাজ

প্রকাশ : ১২ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০

জীবনযাপন ডেস্ক

পূজার সাজে নিজেকে আলাদা করতে কয়েক দিন আগে থেকেই নিতে হয় প্রস্তুতি। তবেই উৎসবের দিনগুলোতে নিজেকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা যায়! আর সেই বিশেষ লুক নিয়েই এবারের পূজার আয়োজন।

ষষ্ঠীর সাজ

ষষ্ঠীর দিন অনেক কাজের ভেতরে থেকে ফাঁকে পূজা-অর্র্চনা করাটাই রীতি। তবে সকাল থেকেই এদিন ম-পে ম-পে ঘোরাটাও বেশ জোরেসোরে শুরু হয়। তাই সকালে বা দুপুরের দিকে যারা বেরুবেন তারা শাড়ি পরতে পারেন। এ ক্ষেত্রে তাঁত, কটন, জামদানি কিংবা মানানসই শাড়ি পছন্দ করতে পারেন। এ দিনের সাজটা ততটা গর্জিয়াস হয় না। চোখে হালকা শ্যাডোসহ চিকন লাইনার আর পছন্দসই রঙের লিপস্টিক পরুন। টিনএজাররাও লাইট এবং ন্যাচারাল সাজ যেমন ফতুয়া, ট্রেন্ডি টপস, জিন্স সঙ্গে দুই ফিতাওয়ালা চপ্পল মানানসই পড়তে পারেন।

সপ্তমীর সাজ

পূজায় দশমীর দিন ঘনিয়ে আসতে থাকা মানেই সাজে গর্জিয়াস ভাব আসতে থাকা। তাই সপ্তমীর সাজ একটু ভারীই হতে পারে। এ দিন তেমন আড়ম্বরপূর্ণ কোনো আয়োজন না থাকলেও পূজাম-প এলাকা ঠিকই সরগরম। তাই এদিন যারা বেরুবেন তাদের সাজে লিপস্টিক, শ্যাডো, মাসকারা, লাইনার সবই একটু ভারি হবে। পোশাকেও ষষ্ঠীর মত হালকা ভাব তবে শাড়িতে এদিন অনেকে কাতান, জর্জেট পরে থাকেন।

অষ্টমীর সাজ

অষ্টমীর সকালটা শুরু হয় অঞ্জলি অর্পণের মধ্য দিয়ে। পাড়ার ম-পে কিংবা মন্দিরে গিয়ে এদিন দেবীকে পুষ্পার্ঘ্য দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে বাচ্চাদের আগ্রহটাই বেশি দেখা যায়। বাচ্চাদের জন্য একটু রঙিন ধাচের জামা হলেই এদিনের সাজে তাদের অন্য লুক দেওয়া যায়। এদিন বাঙালি বিবাহিত নারীরা কপালে মোটা করে সিঁদুর পরেন। চোখে কাজল টানেন। অষ্টমীর রাতে প্রায় সবাই-ই ভারী সাজে সাজতে পছন্দ করেন। শাড়ি-গয়না-মেকআপ, সবক্ষেত্রেই থাকা চাই গর্জিয়াস লুক।

নবমীর সাজ

নবমীতে হয় সান্ধ্য পূজা। তাই সবাই সন্ধ্যার পরই মন্দিরে যান। আর সন্ধ্যার পর বলেই এদিন অনেকটা পার্টি সাজে সাজেন সবাই। ভারি গয়না, রং-বৈচিত্র্যপূর্ণ পোশাক, ভারী মেকআপ, চুলের সাজ, তাজা ফুল এদিনের সাজের অনুষঙ্গ।

দশমীর সাজ

শারদীয়া পূজার প্রধানতম আকর্ষণ দশমী। দশমীর সাজ মানে লাল পেড়ে সাদা শাড়ি, হলুদ পেড়ে লাল শাড়ি কিংবা একদম লাল রঙা শাড়ি। প্রায় সব বয়সী নারীদের ক্ষেত্রেই এটি প্রযোজ্য। অনেকে আবার প্রতীমার মতোও সাজতে পছন্দ করেন। চোখে কাজলের টানা লাইনার, লাল লিপস্টিক, স্নিগ্ধ মেকআপ আর সিঁদুর। এদিন ঠাকুরকে সিঁদুর পরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি নিজেরাও মেতে ওঠেন সিঁদুর খেলায়।

সাজের ক্ষেত্রে মেয়েদের সঙ্গে সঙ্গে ছেলেরাও কিন্তু পিছিয়ে নেই। পূজার শুরুর দিনগুলোতে তারা হালকা রঙের পাঞ্জাবি ও পায়ে আরামদায়ক ফিতে যুক্ত স্যান্ডেল পরতে পারেন। আর শেষ দিনগুলোতে জমকালো পাঞ্জাবি, ফতুয়া পছন্দ করতে পারেন। যারা একটু অন্যভাবে নিজেকে উপস্থাপন করতে চান তারা ধুতি পরতে পারেন।

ছেলেরা চুলে জেল ব্যবহার করে এ দিন ভিন্ন লুক আনতে পারেন। বাজারে বিভিন্ন স্টাইলের আংটি ও ব্রেসলেট পাওয়া যায়, পরতে চাইলে হাতের জন্য পছন্দমতো ও মানানসই বেছে নিতে পারেন।

তবে সাজ যেন উগ্র ও দৃষ্টিকটু না হয় সে দিকে লক্ষ্য রাখবেন। ব্যক্তিত্বের সঙ্গে মানানসই এমন পোশাকেই প্রাধান্য দিবেন। মনে রাখবেন, সাজসজ্জা ব্যক্তিকে কখনোই বড় করে না, বরং ব্যক্তিই সাজসজ্জাকে ছাপিয়ে অনন্য সাধারণ হয়ে ওঠে।

 

 

"