শরতের সাজ পোশাক

প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

জীবনযাপন ডেস্ক

‘নীল আকাশে কে ভাসালে সাদা মেঘের ভেলারে ভাই, লুকোচুরি খেলা।’ রবিঠাকুরের এ গানেই ভেসে ওঠে শরতের বাস্তব চিত্র। প্রকৃতির এই রৌদ্রছায়ার খেলা আমাদের মনেও দারুণ প্রভাব ফেলে। আর তাই তো শরতের এই মনমাতানো সাজ কখনো উঠে আসে বাঙালি নাড়ির শাড়ির আঁচলে এক টুকরো নীল আকাশ হয়ে, কখনো শরতের কাশবন যেন দোলা দিয়ে যায় কামিজের প্রান্ত ছুঁয়ে। পোশাকে সাদার ছোঁয়া আর সাজে হালকা মেকআপের এই লুকে আপনি হয়ে উঠবেন অনন্য সাধারণ।

শরতের শুভ্রতায় নিজেকে ফুটিয়ে তুলুন

ঋতুভেদে সবারই সাজগোজের পরিবর্তন হয়। এই পরিবর্তন নির্ভর করে নিজস্ব রুচির ওপর। যারা একটু বেশি রঙিন পছন্দ করেন তারা পোশাকের রঙের বিপরীত রংও বেছে নিতে পারেন। এটি চোখের কাজল, শ্যাডো, লিপস্টিক সব ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। দিনের বেলা ব্লাশন এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করুন। পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে কপালে টিপ দিতে পারেন। এরপর হালকা মেকআপ করে ডার্ক ব্রাউন আইব্রো শ্যাডো দিয়ে আইব্রো শেপ করে নিন। স্কিন কালার লিপলাইনার দিয়ে ঠোঁট ভালো করে একে নিন। এবার ঠোঁটে স্কিন কালার লিপস্টিক দিন। সবশেষে সামান্য সিমারি গোল্ডেন লিপগ্লস দিন। সামনের দিকে একপাশ সিঁথি করে চুল হালকা পাফ করে নিন। এবার পেছনের চুলগুলো চিকন বেণি করে পেঁচিয়ে খোঁপা করে নিন।

 

পোশাকে সাদার ছোঁয়া

শরতের সাজে শাড়িই বেশ ভালো মানায়। একরঙা সাদা বা অফ-হোয়াইট শাড়ি বেছে নিতে পারেন। তবে ব্লাউজটা হওয়া চাই গর্জিয়াস। শাড়ির সৌন্দর্যটা পুরোপুরি নির্ভর করছে ব্লাউজের কাটিং এবং ডিজাইনের ওপর। ভারী কাজের একটি ব্লাউজ শাড়িকে আরো বেশি গর্জিয়াস করে তোলে। তবে আপনার শাড়ি যদি গর্জিয়াস হয়, তাহলে সিম্পল ব্লাউজ পরলে বেশ ভালো লাগবে। চাইলে সিøভলেস ব্লাউজ পরতে পারেন। তাতেও মানাবে ভালো।

 

হালকা গয়না

যেহেতু সাজটা স্নিগ্ধ, তাই জমকালো গয়না না পরাই ভালো। কানে হালকা একটা দুল পরে নিন। তবে সাদা বা সিলভার রঙের দুল বেছে নিতে পারেন। আর হাতে ভারী একটা ব্রেসলেট পরুন। শাড়ির সঙ্গে এ ধরনের গয়না আপনাকে আরো বেশি স্নিগ্ধ করে তুলবে।

 

চুলের যতœ

এ সময় প্রতিদিন চুল ধুতে হবে। যারা বাইরে বেশি কাজ করেন, তারা সম্ভব হলে প্রতিদিনই চুল শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে কন্ডিশনার লাগান। সপ্তাহে অন্তত দুই দিন মাথায় গরম তেল ম্যাসেজ করুন। নারকেল তেলই চুলের জন্য সবচেয়ে ভালো। সারা রাত লাগিয়ে রেখে পরদিন শ্যাম্পু করুন। এতে ঘুমও ভালো হবে। তেলের সঙ্গে যেকোনো প্রোটিনসমৃদ্ধ প্যাকও লাগাতে পারেন। ডিম, আমলা, টকদই-এসব দিয়ে তৈরি প্যাক লাগালে ভালো। রাতে ঘুমানোর আগে চুল ভালো করে আঁচড়ে নিন। লম্বা চুল হলে পাতলা স্কার্ফ দিয়ে মুড়িয়ে ঘুমাতে পারেন। চুলের ডগা ফেটে যাওয়ার ভয় থাকবে না। দিনে চলাফেরার সময় চুল বেঁধে রাখলে কম ময়লা হবে। খুশকি থেকে বাঁচতে চুল সবসময় পরিষ্কার ও শুষ্ক রাখুন। এজন্য চুল ধুয়ে ফ্যানের বাতাসে শুকিয়ে নিন।

প্রয়োজনীয় কিছু তথ্য

এ সময়ে হঠাৎ বৃষ্টিতে পোশাক ভিজতেই পারে। তবে ভিজে গেলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব শুকিয়ে নিতে হবে। স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ার কারণে অনেক সময় দীর্ঘদিন তুলে রাখা কাপড়ে ফাঙ্গাশ দেখা যায়। তাই মাঝেমধ্যে পোশাক রোদে দেওয়া ভালো। আলমারিতে কাপড় রাখার সময় ভাঁজে ভাঁজে ন্যাপথলিন গুঁজে দিতে পারেন। বর্ষার দিনে কর্মজীবীরা ব্যাগে সবসময় ছোট তোয়ালে, লিপস্টিক ও চিরুনি রাখুন। চুল বড় হলে খোলা রাখতে পারেন। এই গরমে ঢাউস ব্যাগ না নিয়ে ছোট মানানসই ব্যাগে সানগ্লাস, কলম, টিস্যু ইত্যাদি দরকারি জিনিস ভরে নিতে পারেন। এই মৌসুমে দিনের বেলা যতই নিরাপদ জায়গায় থাকুন না কেন, ভারী সোনার গয়না পরা থেকে দূরে থাকুন। অবশ্যই সুগন্ধি ব্যবহার করবেন।

"